নবীন কবি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

নবীন কবি

নিকানোর প্যাররা (চিলি) ৩:১৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০১৯

নবীন কবি

তোমার যা কিছু পছন্দ, লেখো
যে শৈলীতে তোমার ইচ্ছে, লেখো
একটি রাস্তাই ঠিক—

এমন বিশ্বাসে

সেতুর নিচে দিয়ে অনেক রক্ত গড়িয়ে গেছে।

কবিতায় সবকিছুই চলে।

শুধু এই এক শর্ত নিয়ে
তোমাকে শ্রীবৃদ্ধি করতে হবে শূন্য পৃষ্ঠার।

অনুবাদ : আবুল কাইয়ুম


অন্ধকার
সময়
মার্টিন কার্টার (ব্রিটিশ গায়না)

এ এক অন্ধকার সময়, হে প্রিয়,
ভূ-পৃষ্ঠে কিলবিল করে সর্বনেশে গুবরেপোকাদল,
দীপ্তিমান সূর্যদেব লুকোয় আকাশে,
লাল লাল ফুলগুলো বেদনায় নত।
এ এক অন্ধকার সময়, হে প্রিয়,
সর্বত্র এখন শুধু অস্ত্রের উৎসব, দুঃখ বণ্টনের ধুম;
মানুষের মুখগুলো ঝলসে যায় আতঙ্কে, উদ্বেগে।

রাত্রিময় অন্ধকারে কে সে আসে বীরদর্পে হেঁটে? 
কার ধাতব বুট ত্রস্ত ও ধ্বস্ত করে নরোম দুর্বাঘাস?
এ এক মৃত্যুদুত, হে প্রিয়। এ এক উটকো হানাদার
যে তোমার ঘুম আর স্বপ্ন কেড়ে নেয়।

অনুবাদ : আবুল কাইয়ুম


রোবট
কবিতা
পল রোদেনকো (নেদারল্যান্ড)

কবিতা এক নিষ্ঠুর যন্ত্র
স্বরহীন স্বর, ছায়াহীন বৃক্ষ
প্রকাণ্ড লোমশ বিছে 
সশস্ত্র ভাষার রোবট

আমাদেরকে শেখাও পরিকল্পিত শব্দাবলী
যাতে হাড্ডি থেকে বাড়তি চামড়া ছিলে নিতে পারি
আমাদেরকে শেখাও নখুরে শব্দাবলী
যাতে আঙুলগুলো থেকে দুর্বল আবেগ আঁচড়ে নিতে পারি
আমাদেরকে শেখাও আঁটোসাঁটো শব্দের ঝনৎকার
যা দিয়ে আমরা আত্মার বহুস্বর প্রতিবন্ধক ভেঙে ফেলতে পারি
আমাদেরকে শেখাও যাতে বাস করতে পারি
প্রচণ্ড শূন্যতায় 
শেখাও নির্ভেজাল ও মুখভঙ্গিহীন বেদনার কবিতা

অনুবাদ : আবুল কাইয়ুম


প্রাণদণ্ড

তাদা চিমাকো (জাপান)

ধীরে ধীরে লোকটি ফুসফুসে টেনে নেয় বাতাস,
তার চওড়া বুক আরো স্ফীত হয়,
তার দৃঢ় বাহু ঊর্ধ্বগামী হয়,
তার চকচকে কুড়াল উত্তোলিত হয়,
নীল আকাশের দিকে,
নীল আকাশের দিকে যেখানে পাখিরা ওড়াওড়ি করে,
তার চকচকে কুড়াল উত্তোলিত হয়।

তার পায়ের কাছে একটি ছোট্ট মাথা,
একটি সরু ঘাড়, একটি মুণ্ডুহীন ধড় এবং পা;
লক্ষ্য সাধিত তার, কুড়াল স্থির তার হাতে
নীল আকাশের দিকে যেখানে পাখ-পাখালি ওড়ে,
কুড়াল স্থির তার হাতে; সারা পৃথিবী নীরব তখন।
দ্যাখো, সাদা ঘাড়টি ছটফটায়, গড়ান খায় পাশে
উত্তোলিত কুড়ালের নিচে,
মুণ্ডু থেকে দূরে বিচ্ছিন্ন হয়ে 
সাদা ঘাড়টি অফুরান ছটফটায়, গড়ান খায় পাশে।

অনুবাদ : আবুল কাইয়ুম