ভালো আছেন কবি আল মাহমুদ

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

ভালো আছেন কবি আল মাহমুদ

সীমান্ত বাঁধন চৌধুরী ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৩, ২০১৮

ভালো আছেন কবি আল মাহমুদ

ছবি: ওসমান গণি

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ ভালো আছেন। শয্যাশায়ী হলেও স্বাভাবিক সব খাবার খাচ্ছেন। তবে নিজ হাতে খেতে পারছেন না।

কবির বড় ছেলে মীর শরীফ মাহমুদ পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আপনজনদের সান্নিধ্য ও পরিচর্যায় তার বাবা কবি আল মাহমুদ ভালো আছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ তার ওষুধ চলছে।

কবি আল মাহমুদকে সার্বক্ষণিক দেখভাল করছেন মীর শরীফ মাহমুদের স্ত্রী শামিমা আক্তার বকুল।

তিনি পরিবর্তন ডটকমকে জানান, বাবা স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করছেন। তবে নিজ হাতে না।

বকুলের ভাষ্যে, কবির প্রত্যেক দিনের খাবারে নরম ভাত, মুরগির ঝোল, স্যুপ, ফলের জুস রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শেই সবকিছু চলছে।

ছবি: ওসমান গণি

কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌড়াইল গ্রামের মোল্লাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিতাস নদীর পাড়েই বেড়ে ওঠা। লেখালেখি শুরু সপ্তম শ্রেণি থেকে। এরপর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নেন।

১৯৭৪ সালে গণকণ্ঠের সম্পাদক থাকাকালে কারাবরণ করেন। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক পদ থেকে অবসর নেন তিনি।

নগরজীবনে কিংবদন্তি এই কবি রাজধানীর মগবাজারে বসবাস করছেন। বার্ধক্যে এসে বছরেরও বেশি হলো বাকশক্তি হারিয়েছেন। অবশ্য তারও বেশ আগে থেকেই কবি নিজ হাতে লিখতে পারেন না। বলে বলে যান, অন্যরা তা শুনে লিখে দেন। এখন সেটিও বন্ধ।

কবি আল মাহমুদের রচনার মধ্যে রয়েছে, কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, একচক্ষু হরিণ, দোয়েল ও দয়িতা, দ্বিতীয় ভাঙ্গন, নদীর ভিতরে নদী, না কোনো শূন্যতা মানি না, বিরামপুরের যাত্রী, বারুদগন্ধি মানুষের দেশ, সেলাই করা মুখ, তোমার রক্তে তোমার গন্ধ ইত্যাদি।

কবির সাড়া জাগানো উপন্যাস কাবিলের বোন, পানকৌড়ির রক্ত, উপমহাদেশ, ডাহুকি, যেভাবে বেড়ে উঠি, আগুনের মেয়ে, যমুনাবতী, চেহারার চতুরঙ্গ, যে পারো ভুলিয়ে দাও, ধীরে খাও অজগরী ইত্যাদি। সাহিত্যকর্মের জন্য আল মাহমুদ পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কার।

এসবি/আইএম

আরও পড়ুন...
শয্যাশায়ী কবি আল মাহমুদ, সন্তানেরা কে কোথায়? (ভিডিও)