রাজনীতির খলনেতাদের প্রতিরোধ করুন

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

রাজনীতির খলনেতাদের প্রতিরোধ করুন

মোশতাক আহমেদ রুহী ৭:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০২, ২০১৯

রাজনীতির খলনেতাদের প্রতিরোধ করুন

১৯৭১ সালে পরম আকাক্সিক্ষত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য নয় মাস মরণপণ যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের লাখো মা-বোন, বাবা-ভাইয়ের বিদেহী প্রাণের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা পায় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ আর লাল সবুজের মানচিত্র। এই বিজয় ছিল স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের জনতার বিজয়, ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিজয়। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়ের মূলমন্ত্র ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের শোষণমুক্ত দুর্নীতিমুক্ত ন্যায় বিচারভিত্তিক উন্নত সোনার বাংলা স্থাপন করা।

বঙ্গবন্ধুর অপূর্ণ আকাক্সক্ষাগুলো বাস্তবে রূপায়ণের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা সব ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে অকুতোভয় সাহস, মেধা আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন অভীষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য। তার বিভিন্নমুখী সাফল্যের কারণে বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এখন বাংলাদেশ।

আমাদের সমাজের বেশির ভাগ মানুষ শুভ বুদ্ধি ও বিবেক দ্বারা চালিত হয়ে সৎ জীবনযাপন করে চলেছেন। অথচ রাজনীতিতে কয়েক যুগে কিছু অরাজনৈতিক ব্যক্তির অনুপ্রবেশে রাজনীতি ক্যান্সারের মতো ব্যাধিতে আক্রান্ত। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানান অপকর্মে দেশের ও মানুষের সব সম্ভাবনার বিকাশ বিভিন্ন সময়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছে এবং হচ্ছে। কিছু তথাকথিত রাজনীতিবিদ আর আমলার কারণে সৎ উপায়ে উপার্জন সৎ জীবনযাপন বিলুপ্ত হওয়ার পথে। এই কর্তৃত্ববানরা কুদরতি ক্ষমতায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন। একই পদাঙ্ক অনুসরণ করে কোনো কোনো পরাক্রমশালী তাদের অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন। জানি, এদের মধ্যে কারও কারও কিছুই হবে না। কেন হবে না, তাও জানি।

যখন সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে পারছি না তখন কেমন মানুষ, কেমন রাজনীতিবিদ হলাম-এটা ভেবে হীনমন্যতায় বিবেকের দংশনে জ্বলি। এমন এক ব্যক্তিকে জানি, যার উত্থান তাক লাগানো। অর্থ পাচার থেকে শুরু করে প্রহসন আর দুর্নীতিতে ভরা তার কর্মকাণ্ড। রাজনীতি করেননি, কখনো রাজপথে মিছিলও করেননি। কর্মচারীর কাজ করতেন আর কমিশনের নামে চাঁদাবাজি করতেন। তারপর হঠাৎ একদিন তিনি রাজনীতিতে পদ পেয়ে আজ অধরা! এদের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। জানি কোনো অভিযানেই তার বা তাদের কিছু হবে না। তবুও দেশের মানুষের আশা প্রধানমন্ত্রী এদের থামাবেন।

আসুন আমরা তাদের লাল কার্ড দেখাই। রাজনীতির সুবাদে নেতা নয়, খলনেতা হয়ে যারা অসৎ ও অবৈধ উপায়ে অর্থ-বিত্তে পুষ্ট হয়েছেন, বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন, নির্বাচনে মাঠের জনপ্রিয় নেতাদের উপেক্ষা করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন, তাদের প্রতিরোধ করি।

এরা হঠাৎ গজিয়ে ওঠা আলালের ঘরের দুলাল। সব সময় আধিপত্য কায়েমে ব্যস্ত থাকেন, লুণ্ঠন দুর্নীতিতে ডুবে থাকেন। ক্ষমতার পরিবর্তনে এরা ভোল পাল্টে ফেলেন মুহূর্তেই। রাজনীতি নয় এরা বিত্ত-বাসনায় ভাসমান, এদের মুখে মধু অন্তরে বিষ। কর্মী ও গণমানুষের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই, কোনো ত্যাগ ছাড়া সস্তায় নেতা হয়েছেন। মোদ্দাকথা, ক্যাসিনো মার্কা সব খলনেতাদের মুখোশ উন্মোচন করে রাজনীতির অঙ্গন ব্যাধিমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

মোশতাক আহমেদ রুহী
রাজনীতিবিদ ও কলাম লেখক

 

মতান্তর: আরও পড়ুন

আরও