পলিথিনে বিপর্যস্ত পরিবেশ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পলিথিনে বিপর্যস্ত পরিবেশ

সৈয়দ ফারুক হোসেন ৫:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

পলিথিনে বিপর্যস্ত পরিবেশ

পরিবেশের প্রতিটি উপাদানের সুসমন্বিত রূপই হলো সুস্থ পরিবেশ। এই সুসমন্বিত রূপের ব্যত্যয় ঘটলে পরিবেশ দূষণ হয় এবং পরিবেশের স্বাভাবিক মাত্রার অবক্ষয় দেখা দেয়। পরিবেশ বিভিন্ন কারণে দূষিত হতে পারে। প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কারণও এর জন্য দায়ী। পরিবেশের দুই ধরনের উপাদান রয়েছে- ১. অজীব উপাদান ২. সজীব উপাদান। পরিবেশের অজীব উপাদান হলো- মাটি, পানি, আলো, বাতাস, জলাশয়, হাওর, নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়-পর্বত, হিমবাহ, মরুভূমি, বায়ুমণ্ডল, বারিমল, মেঘমালা, চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি এবং পরিবেশের সজীব উপাদানগুলো উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব ইত্যাদির সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।

এ পরিবেশের মধ্যে বিরাজ করছে মানব কর্তৃক সৃষ্ট পরিবেশ, যেমন- ঘরবাড়ি, গ্রাম-শহর, সুউচ্চ ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট, সেতু, বাঁধ, মোটরযান, রেলওয়ে, উড়োজাহাজ, রকেট, স্টিমার, ইটভাটা, বিদ্যুৎ, শিল্পকারখানা, ইন্টারনেট, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, জাহাজ-শিল্প, অস্ত্র-কারখানা, পারমাণবিক চুল্লি ইত্যাদি। সুতরাং প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট উভয় পরিবেশের সমন্বয়েই সৃষ্টি হয়েছে আমাদের এ সুন্দর পরিবেশ।

একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশের জন্য অজীব ও সজীব প্রতিটি উপাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভৌতিক, রাসায়নিক ও জৈবিক কারণে এ উপাদানগুলোর মধ্যে যে কোনো একটির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটলে সামগ্রিক পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং পরিবেশ দূষণ হয়। মানুষের অসচেতনতা এবং অনিয়ন্ত্রিত আচরণের কারণেই পরিবেশ দূষণ হচ্ছে ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মোড়কে প্রতিদিনই পলিথিন এবং প্লাস্টিক মোড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ওই দ্রব্যগুলো ব্যবহারের পর বর্জ্য হিসেবে পলিথিন এবং প্লাস্টিকের মোড়কগুলো ড্রেন, রাস্তাঘাট, মাঠে-ময়দানে, নদী-নালা, খালবিল এবং ফসলের মাঠে ফেলা হচ্ছে। পলিথিনই একমাত্র বস্তু, পণ্য বহন বা প্যাকেটজাত করা ছাড়া যার কোনো উপকারিতা নেই। বিপরীতে রয়েছে অসংখ্য ক্ষতিকর প্রভাব। এমনকি পলিথিনই একমাত্র বস্তু, যার দ্বারা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে একটি দেশ। স্লো-পয়জন বলতে যা বোঝায়, পলিথিন তাই। পলিথিন ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। পলিথিন উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে এটির বাজারজাতকারী ও ব্যবহারকারীরা পর্যন্ত জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে।

পলিথিন এমন একটি উপাদানে তৈরি, যা পরিবেশের জন্য মোটেই উপযোগী নয়। এর মধ্য থেকে ‘বিষফেনোল’ নামক বিষ নির্গত হয় এবং খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে মিশে যায়। পলিথিন মাটির সঙ্গে মেশে না। ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করে। ডাস্টবিনে ফেলা পলিথিন বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনে ঢুকে পড়ে। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। পলিথিন নদীর তলদেশে জমা হয়ে তলদেশ ভরাট করে ফেলে। পলিথিন পোড়ালে বাষুদূষণ ঘটে।

পলিথিন এবং প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো মাটিতে পড়ার কারণে মাটি তার মৌলিকত্ব হারাচ্ছে এবং এই মাটিতে কোনো ভৌত কাঠামো নির্মাণ করলেও তা দুর্বল হতে পারে। গ্রামে প্রত্যেক বাড়িতেই তরিতরকারীর খোসা, মাছের অপ্রয়োজনীয় অংশ, বাড়িঘর, উঠান ঝাড়ু দেওয়ার পর ময়লা আবর্জনাগুলো একটা নির্দিষ্ট গর্তে ফেলা হয় এবং যেগুলো কয়েক মাস পর কৃষকরা জৈব সার হিসেবে কৃষি কাজে ব্যবহার করে থাকেন। পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেন, নদী-নালা খালবিলে ফেলার দরুন ময়লা পানি নিষ্কাশনে নদীনালা-খালবিলগুলো মাছ চাষে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে চর্মরোগ, ক্যান্সারসহ আরও জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পলিথিন ব্যাগকে চর্মরোগের এজেন্ট বলা হয়। পলিথিনে মাছ, মাংস মুড়িয়ে রাখলে কিছুক্ষণ পর এতে রেডিয়েশন তৈরি হয়ে খাবার বিষাক্ত হয়ে ওঠে। পলিথিনে রঙ করার জন্য ব্যবহৃত ক্যাডমিয়াম মানব শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। উন্নত দেশগুলোয় ক্যাডমিয়াম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফ্রিজে বা স্বাভাবিকভাবে সংরক্ষণের জন্য ঝুঁকিমুক্ত মোটা কাগজ ব্যবহার হয়। তাছাড়া আমাদের দেশে বর্তমানে ইনফার্টিলিটি বা বন্ধত্বের যে প্রকট সমস্যা, তার মূলেও রয়েছে পলিথিনের ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রভাব।

রাজধানীবাসী ওয়াসার পরিষ্কার পানি পায় না। অবাক হলেও সত্য যে, এর পেছনেও পলিথিন অনেকাংশে দায়ী। পলিথিনসহ অপচনশীল বর্জ্যে বুড়িগঙ্গা ভয়াবহ দূষণের শিকার। বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বর্জ্যে অনেক আগেই বিষাক্ত হয়ে গেছে বুড়িগঙ্গার পানি। বাতাসে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। নদীর তলদেশে জমাট বেঁধেছে ৮ ফুট পুরু পলিথিনের স্তর। যদিও পরিবেশবিদরা বলছেন, এ জন্য পলিথিনের পাশাপাশি অন্যান্য কারণও দায়ী। তবে পলিথিনের ভূমিকা সর্বাগ্রে। পলিথিন ব্যাগ এবং প্লাস্টিক দ্রব্যসামগ্রী যেখানে উৎপাদিত হচ্ছে সেখানেও প্রতিনিয়তই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হচ্ছে, যা বায়ুমণ্ডলে মিশে যাচ্ছে এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ঢাকা শহরে একটি পরিবার প্রতিদিন গড়ে চারটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে। সে হিসেবে শুধু ঢাকা শহরে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা পলিথিন এবং প্লাস্টিকের বর্জ্যগুলো একত্রিত করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে এবং প্রজ্বালিত পলিথিন এবং প্লাস্টিক থেকে নির্গত ক্ষতিকর গ্যাস গাছপালার মাধ্যমে পরিশোধিত হতে পারে।

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক পলিথিনের কুফল থেকে দেশবাসীকে রক্ষার জন্য সরকার ইতোমধ্যে সারাদেশে পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ ও বিক্রয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এর সঙ্গে মানুষের দীর্ঘদিনের অভ্যাস পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অর্থাৎ পলিথিন শপিং ব্যাগ বন্ধের আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদফতরের উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় বিভিন্ন উৎপাদনকারী কারখানা বন্ধ ও শপিং ব্যাগ জব্দ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তারপরও পলিথিনের আগ্রাসন কিছুতেই কমছে না।

এখন কাগজ ও পাটের ব্যাগের ব্যবহারই আমাদের পলিথিনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পারে। পাটের ব্যাগ পরিবেশবান্ধব। পলিথিনের উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধে সরকারের ব্যাপক নজরদারিসহ প্রচার মাধ্যমগুলোতে (রেডিও, টেলিভিশন, পত্র-পত্রিকা) ব্যাপক প্রচারণার দরকার। এভাবে পলিথিনের ক্ষতিকারক দিকগুলো সাধারণ মানুষের দৃষ্টিগোচর করার পর কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পলিথিন ও প্লাস্টিকের বর্জ্যগুলোর ব্যাপারে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

দেশের পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ পলিথিন হলেও, এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে টিস্যু ব্যাগ। ওভেন পলি প্রোপাইলিন দিয়ে প্লাস্টিক পণ্য তৈরির পাশাপাশি টিস্যু ব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে। বিভিন্ন রঙের ও মোটা হওয়ায় অনেকেই কাপড়ের ব্যবহার করায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে টিস্যু ব্যাগের ব্যবহার।

টিস্যু ব্যাগ অপচনশীল। এই বস্তুটি ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হয়। যা পানি নিষ্কাশন নালায় আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। টিস্যু ব্যাগ ব্যবহারের কারণে রাজধানীসহ সারাদেশ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বিশ্লেষকরা। তারা আরও জানিয়েছেন, বাজারে প্রকাশ্যে টিস্যু ব্যাগ ব্যবহার হলেও এটি বন্ধে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।

রাজধানীর বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, ফ্যাশন হাউস, কাপড়ের দোকান, জুতা কোম্পানি, মোবাইল ফোন কোম্পানি, বিভিন্ন নাম করা কোম্পানি বিভিন্ন রঙের টিস্যু ব্যাগ ব্যবহার করছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শোরুমে যোগাযোগ করলেও টিস্যু ব্যাগ উৎপাদনকারীদের নাম ঠিকানা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চীন, কোরিয়াসহ বেশকিছু কোম্পানি বন্ড লাইসেন্স নিয়ে পলি প্রোপাইলিন আমদানি করছে। বন্ড লাইসেন্সের মাধ্যমে কোনো পণ্য আমদানি করলে সে পণ্য থেকে উৎপাদিত মালামাল বিদেশে রপ্তানি পণ্যের সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। আইন অনুযায়ী, দেশের ভেতরে কোনো বিপণন নিষিদ্ধ হলেও গোপনে টিস্যু ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বৈধভাবে আমদানি করা এ পলি প্রোপাইলিন প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বেআইনিভাবে টিস্যু ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টিস্যু ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাত হচ্ছে। নিষিদ্ধ পলিথিন হলেও এ ব্যাগটি কাপড়ের বলে বিক্রি করা হচ্ছে। দেখতে কাপড়ের মতো মনে হলেও আগুন দিলে গলে যায়। টিস্যু কাপড়ের হলে সেলাই করা থাকত, কিন্তু এ ব্যাগে কোনো সেলাই নেই, তা তাপ প্রয়োগ করে চাপ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। বেশকিছু ব্যবসায়ী কৌশলে টিস্যু ব্যাগ বিক্রি করছেন। সাধারণ মানুষ না জেনে ব্যবহার করছে এবং পরিবেশের ক্ষতি করছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান পরিত্যক্ত পলিথিন ব্যাগ থেকে ডিজেল ও পেট্রোল তেল উৎপাদন করেছেন। তিনি ৩০ গ্রাম প্লাস্টিক ব্যাগ থেকে ১৫ মি.লি. জ্বালানি তেল উৎপাদন করেছেন। এ প্রক্রিয়ায় ১ কেজি প্লাস্টিক থেকে ০.৫ লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। এই তেল সম্পূর্ণ সালফারমুক্ত। এ প্রক্রিয়ায় ১৭% গ্যাস, ৪৩% পেট্রোল, ২৩% কেরোসিন, ১৪% ডিজেল এবং ৩% কার্বন রেসিডিউ তৈরি হয়। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত লাভজনক হবে, কারণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ক্যাটালিস্টটি তৈরির কাঁচামাল সস্তা ও সহজলভ্য। এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত মিক্সড তেলকে Fractional Distillation-এর মাধ্যমে আলাদা করে বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

এই তেল প্রতি লিটার ৩০.০০ টাকা হারে বাজারজাত করা যাবে। প্রাথমিক অবস্থায় স্বল্প পরিসরে একটি মেশিনের মাধ্যমে প্রতিমাসে কমপক্ষে ৩০০ লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব হবে। বড় পরিসরে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ লিটার তেল উৎপাদন করা সম্ভব। এর ফলে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ব্যাগ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের মাধ্যমে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং পরিবেশ দূষণ হতে সমগ্র দেশ রক্ষা পাবে। ওই তেলে সব প্রকার যানবাহন, সেচ পাম্পসহ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত গ্যাস থেকে বিদ্যুৎও উৎপাদন করা যাবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী বিপ্লব সূচিত হবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান বলেন, জাতির জন্য এটি একটি বড় অর্জন। পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ব্যাগ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের মাধ্যমে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং পরিবেশ দূষণ হতে দেশ রক্ষা পাবে।’

সৈয়দ ফারুক হোসেন : ডেপুটি রেজিস্ট্রার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

 

মতান্তর: আরও পড়ুন

আরও