বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন

ঢাকা, ১৯ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন

মিল্টন বিশ্বাস ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৯

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন

কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘প্রত্যেক নেতাকর্মীকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে সততার সঙ্গে সংগঠনকে গড়ে তুলতে হবে, নিজের জীবনকেও সেভাবে গড়তে হবে। সততাই হলো সব থেকে বড় শক্তি। যা উঁচু গলায় কথা বলার সাহস জোগায় সেটা একমাত্র সততা।’ তার মতে, ‘আওয়ামী লীগ সব সময় নীতি-আদর্শ নিয়ে চলেছে। এ জন্য আওয়ামী লীগের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারেনি।’

ওই সভায় শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বাঙালির যা প্রাপ্তি, তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে। যে দলের নেতা (বঙ্গবন্ধু) সংগঠনের জন্য মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে, সে দলের শিকড় কত গভীরে?’ মুসলিম লীগের প্রগতিশীল একটি অংশের উদ্যোগে বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্যে গঠিত হয়েছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। প্রতিষ্ঠাকালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী দলটির সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে যাত্রা শুরু করলেও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নাম হয়-‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নাম নেয় দলটি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘসময় এ দলটি সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন করে জনগণের মধ্যে আস্থার স্থান তৈরি করে। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা দেন বঙ্গবন্ধু, যাকে বাঙালির মুক্তির সনদ নামে অভিহিত করা হয়। ছয় দফার ভিত্তিতেই ’৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগের অবদান এই ক্ষুদ্র পরিসরে বলে শেষ করা যাবে না। বরং দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছু রেখাচিত্র অঙ্কন করা যেতে পারে।

জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। কেবল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় নয় শেখ হাসিনা যে কোনো দলীয় অনুষ্ঠানে বলে থাকেন, তরুণদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তার নেতারা নিজেদের বর্তমানকে উৎসর্গ করছেন। কারণ এ মুহূর্তে বাংলাদেশের অগ্রগতি অসামান্য। বিশ্বের অন্যতম উন্নত রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে এটি। বিশ্বের ১১তম সুখী দেশের তালিকায়ও আছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ষষ্ঠতম ভাষা হিসেবে বাংলা অনেক আগে থেকে স্বীকৃত। আসামের শিলচরের ভাষা সংগ্রামীদের কথা মনে রেখেও বলা যায় আমরাই একমাত্র ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছি। অন্যদিকে বাংলাদেশ শক্তিশালী ১০টি মুসলিম দেশের একটি। নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্বের দীর্ঘ সেতু নির্মিত হচ্ছে ‘পদ্মা সেতু’ নামে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সবচেয়ে বেশি সৈন্য প্রেরণ করেছে বাংলাদেশ। এ দেশটি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বিশ্বে ২৭তম, গার্মেন্ট শিল্পে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ।

১৯৮৩ সাল থেকে খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন এবং দলটি দীর্ঘদিন যে সেনাছাউনীর মনোবৃত্তিতে বেড়ে উঠেছে তাকে লালন-পালন করতে থাকেন। খালেদা জিয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতার কারণে দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক ধারার বিলুপ্তি ঘটে। বিএনপির একাধিক নেতা কখনো এরশাদ আবার কখনো বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে রাজনীতি করে বিতর্কিত হয়েছেন। অতীতে বিএনপি ২০ দলীয় জোট করে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে সহিংস ঘটনার জন্ম দিয়ে জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক জামায়াত-শিবির কেবল তাদের নেতাদের ফাঁসির হাত থেকে রক্ষার জন্য সারা দেশের মধ্যে মানুষ হত্যায় সংঘবদ্ধ হয়েছিল। কোনো আদর্শিক লড়াই এখন আর জামায়াত-বিএনপির নেই। মূলত বিএনপির জোট ধর্মভিত্তিক বা চরম ডানপন্থি দলগুলোকে জায়গা করে দিয়ে দেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল।

রাজনীতির অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাপক। গত নির্বাচনী প্রচারণায় আমরা দেখতে পেয়েছি অসাধারণ উপস্থাপনার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তাদের সাফল্যগুলো নিরন্তর কয়েকটি টিভি চ্যানেলে প্রচার করে চলেছে। সেখানে তথ্যাদির নিরিখে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচার করা হচ্ছে। আর তা যে সম্পন্ন হয়েছে এটা জনগণের কাছে স্পষ্ট। না হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া কিংবা কোনো ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য পরিবেশিত হলে তার সমালোচনা করা কারও পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে যদিও কেউ কেউ মিথ্যাচার করেছেন। তবে উপস্থাপিত তথ্যাদি বা সরকারের উন্নয়ন না হওয়ার ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি কেউ। সরকারের উন্নয়নের ব্যাপারে কোনো চ্যালেঞ্জ না করে নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার জন্য উদ্ভট আর মিথ্যাচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে বিএনপি-জামায়াত।

মিল্টন বিশ্বাস : পরিচালক
জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দফতর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]

 

মতান্তর: আরও পড়ুন

আরও