বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীর মর্যাদা

ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীর মর্যাদা

অধ্যাপক ড. দীপিকা রাণী সরকার ২:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৮, ২০১৯

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীর মর্যাদা

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক দশক থেকে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নও বেড়েছে এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে রোল মডেল হিসেবেও দাবি করছি। কিন্তু পরিবার, সমাজ, সংগঠন ও রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে এখনো নারীর যথাযথ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।

বিশ্বের অর্ধেকের বেশি নারী হওয়া সত্ত্বেও পুরুষশাসিত এ ব্যবস্থায় নারীরা এখনো দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বলেই জ্ঞান করা হচ্ছে। অথচ শারীরিক ও মানসিক, মেধা ও মননে, শিক্ষায় ও উন্নয়নে সর্ব্বোচ্চ যোগ্যতা ও দক্ষতার বাস্তব স্বাক্ষর রেখেই চলেছে।

নারীরা পরিবার থেকে রাষ্ট্র ও আন্তর্জান্তিক পরিমণ্ডলে। তবুও যেন নারী পরনির্ভরশীল, নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। দু-চারজন নারীকে সম্মানজনক অবস্থানে বসালেই নারীর উন্নয়ন হয়েছে বললে ভুল হবে। সমাজের অর্ধেক অংশ যখন অন্য অর্ধেকের সমান তালে চলতে পারবে তখনই হবে পুরুষতন্ত্রের অবসান। নারী পাবে তার যোগ্য সম্মান ও মর্যাদা, এগোবে পরিবার, আধুনিক হবে সমাজ, উন্নত হবে দেশ।

আজকের দিনটি শুধু নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তা নয়, পুরুষদের জন্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা আজ অঙ্গীকার করবে যে হাজার বছরের পুরুষতন্ত্রের শিকল ভেঙে সমাজের একটি ভেঙে দেয়া পাকে অন্যটির মতো একই তালে চলার সুযোগ করে দেবে।

তাই ২০১৯ সালের নারী দিবসে আমার আন্তরিক প্রত্যাশা সব ক্ষেত্রে নারীর বিচরণ হোক নিষ্কণ্টক, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার চির বিদায় হোক। জয় হোক নারীর, জয় হোক পুরুষের। জয় হোক সমাজের, রাষ্ট্রের তথা মানবজগতের।

লেখক: সভাপতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি