ব্রিটেনে বাংলাদেশের শিল্প ও পণ্য বাজার

ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

ব্রিটেনে বাংলাদেশের শিল্প ও পণ্য বাজার

মিলটন রহমান ৩:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০১৮

print
ব্রিটেনে বাংলাদেশের শিল্প ও পণ্য বাজার

সবেমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পথে নানান বিতর্ক এবং নিজেদের অবস্থান পোক্ত রাখতে কাজ করছে যুক্তরাজ্য। লিসবন চুক্তি অনুযায়ী আর্টিক্যাল ফিফটি আলোচনার টেবিলে ফেলে চলছে দর কষাকষি। দু‘পক্ষই নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে পায়ের খুট লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইইউর কাস্টমস ইউনিয়ন, একক বাজার এবং নর্দার্ণ আয়াল্যান্ডের বর্ডার সংক্রান্ত আলোচনায় দু‘পক্ষই সপ্তমে চটে আছে। এখন দেখার বিষয় হলো কোন পক্ষের জেদ রচে।

কারণ স্বার্থের বিষয়ে কোন পক্ষই ছাড় দেবে বলে মনে হয় না। আর্টিক্যাল ফিফটির আলোকে আলোচনা এগুচ্ছে। অন্য অনেক বিষয় রয়েছে এই আলোচনায়। তবে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো বাণিজ্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এলে ব্রিটেন একক বাজারে(সিঙ্গেল মার্কেট) থাকতে পারবে কিনা বা থাকতে চায় কিনা এ বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বেশি। যদি থাকতে না পারে তাহলে ইইউভুক্তদেশগুলো থেকে আমদানী করতে গেলে বড় অংকের ব্যয়ের মুখে পড়বে যুক্তরাজ্য। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের মোট আমদানীর প্রায় ৫৩ শতাংশ আসে ইইউভুক্ত অন্যান্য দেশ থেকে। ফলে শুল্কমুক্ত আমদানী সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করছে যুক্তরাজ্য।

একক বাজার থেকে বেরিয়ে এলে সে সুবিধা পাবে না। ব্রিটেনের অর্থনীতিবিদরা বলছেন ইইউর একক বাজাওে ব্রিটেনের থাকার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। যদি তাই হয়, তাহলে নতুন আমদানী বাজারের খোঁজে বেরুতে হবে যুক্তরাজ্যকে। ইতোমধ্যে সেই ইঙ্গিত ও প্রস্তুতির কথাও প্রকাশ করেছে কনজারবেটিভ সরকার। ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টি এখন দক্ষিণ এশিয়ার দিকে।

কয়েকমাস আগে বাংলাদেশে সফরে গিয়ে ব্রিটিশ সরকারের মন্ত্রী লর্ড বেটস সে কথাই শুনিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল আখ্যা দিয়ে এসেছেন। ডিএফআইডির অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন।প্রয়োজনে বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও ভাবা হচ্ছে এমন ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছিলেন। ফলে বাংলাদেশের উচিত যুক্তরাজ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ বা রফতানি খাতে মনোনিবেশ করা।

এক্ষেত্রে একটি সার্ভে পরিচালনার মাধ্যমে সরকার বা ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো অনুসন্ধান করতে পারে কোন কোন পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে চাহিদা রয়েছে। কেবলমাত্র পণ্য নয়, সাংস্কৃতিক বাণিজ্যের বাজারও খুঁজতে পারে বাংলাদেশ সরকার এবং প্রতিষ্ঠানগুলো। যুক্তরাজ্যে শিল্প-সাহিত্যের বিশাল বাজার রয়েছে। মিশ্র ভাষাভাষীর এই দেশে বিভিন্ন ভাষা ও শিল্প-সংস্কৃতির সমান কদর রয়েছে। সে হিসেবে পণ্য-দ্রব্যের বাজারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বাণিজ্যের দিকেও দৃষ্টি মেলা যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বাজার রয়েছে। সমুদ্র ও কৃষিজাত পণ্যের বাজারও কিছুটা দখলে রয়েছে। হালে গ্রোসারী পণ্যের বাজারও তৈরী হয়েছে। ইইউ‘র সাথে ছাড়াছাড়ির এই সময়ে এসব খাতের বাজার সম্প্রসারণ করার আরো বৃহৎ সুযোগ তৈরী হয়েছে। যুক্তরাজ্য সেবা খাতের নিজস্ব রফতানি বাজার বড়, কিন্তু অভ্যন্তরীন উৎপাদনেনিজস্ব বাজার একেবারে ছোট। ফলে আমদানী তাকে করতেই হবে। এতোদিন এই চাহিদা মিঠিয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ।

ব্রেক্সিটের ফলে সেই পথ আর খোলা থাকবে না। ফলে নির্ভরশীল হতে হবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর। কারণ পণ্য মূল্যের সহনশীলতা। বাংলাদেশ থেকে পণ্য-দ্রব্য আমদানী করতে যুক্তরাজ্যের ব্যয় অনেক কমে আসবে ইউরোপের অন্য দেশের তুলনায়। ফলে ব্রেক্সিটের এই ডামাঢোলের মধ্যে যুক্তরাজ্যে রফতানী বাজার আরো সম্প্রসারণ করতে পারে বাংলাদেশ। এর জন্য রফতানী উন্নয়ন ব্যুরো, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারী দফতরগুলোকে এখনি কাজে নামা উচিত।

লন্ডনের বাংলাদেশ হাই কমিশনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখতে পারে। যদিও এ সংক্রান্ত যে বিভাগটি লন্ডন হাই কমিশনে রয়েছে সেটি যুক্তরাজ্যের বাজারে দেশের নতুন রফতানী বাজার খোঁজার ক্ষেত্রে বলতে গেলে কোন ভ’মিকাই রাখতে পারছে না। কেবল কমিউনিটির মধ্যেই সভা-সেমিনার করেই দায়িত্ব পালন অব্যহত রেখেছে। মূলধারার কোন বাণিজ্যিক সভা-সেমিনারে উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অতীতের সব আগল ভেঙ্গে এই সময়ে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে হবে যুক্তরাজ্যের বাজারে।

সরকারী হিসেব মতে বাংলাদেশের মোট রফতানিরমাত্র ১২ শতাংশ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশ করছে। এ হার আরো বৃদ্ধি করার সুযোগ এখন হাতের কাছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে লন্ডনের বাংলাদেশ হাই কমিশনকে আরো বেশি সক্রিয় হতে হবে। খুঁজতে হবে নতুন পণ্য বাজার। এ ক্ষেত্রে হাই কমিশনারকে কেবল মানি একচেঞ্জ উদ্ধোধন বা গুরুত্বহীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হওয়ার লোভ ত্যাগ করে ব্রিটেনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি বা কূটনৈতিক নীতি বাস্তবায়নে বর্তমান হাই কমিশনারের ভ’মিকা নিয়ে ইতোমধ্যে নানান প্রশ্ন উঠেছে। তিনি যে রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করুন না কেনো প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে এ সংকীর্ণতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে লন্ডনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচালিত বাংলাদেশ মিশনের উদ্দেশ্য পুরোপুরিই ভ্যর্থ হবে।

ব্রিটিশ বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের দু‘টি সংগঠন রয়েছে লন্ডনে। এছাড়া ওয়েলস ও বার্মিংহামেও বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের সংগঠন রয়েছে। তারাও যে ব্রিটেনে বাংলাদেশের বাণিজ্যবাজার সম্প্রসারণে কোন ভ’মিকা রাখতে পারছে তাও নয়। তারাও নানান রকম এওয়ার্ড অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে হাই কমিশনার মূলধারার বাণিজ্যবাজারে প্রবেশ করার পথ সুগম করতে পারেন।

ব্রেক্সিট রেফারেন্ডামের পর ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম কমে যায়। কিন্তু আবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে হঠাৎ করে গত বছরের ৮ জুন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথে ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য বাড়তে শুরু করে। বাড়তে শুরু করে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা। পাউন্ডের এই উর্ধ্বগতি অব্যহত রয়েছে। এই সুযোগ না নিতে পারলে ব্রিটেনে রফতানীবাণিজ্যে আরো পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ।

এমনিতেই গার্মেন্টস সেক্টর ছাড়া অন্য কোন বাণিজ্য শাখায় বাংলাদেশের উপস্থিতি খুবই নগন্য। পাশের দেশ ভারত এবং পাকিস্তান যেভাবে বিলেতের বিভিন্ন প্রধান বাণিজ্যিক বাজারে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে পেরেছে তা বাংলাদেশ পারছে না। এর প্রধান কারণ উৎপাদনের মান এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের দূর্বলতা। এ দেয়াল টপকাতে ক’টনীতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে হবে।

বছর তিনে‘ক আগে বাংলাদেশ ট্রেড ফেয়ার হয়েছিলো লন্ডনে। সেটি আয়োজনের দৈন্যতার কারণে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছিলো। কিছু ফড়িয়াদের কারণে ওই মেলায় মূলধারার তেমন কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলো না। যে ক‘জন ছিলো তারা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বাজার উপস্থাপনের প্রক্রিয়া সন্তুষ্ঠ ছিলো না। ফলে ওই আয়োজনের ফলফল ছিলো জিরো। এই যে অক্ষমতা সমূহ ব্রিটেনে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বাজারে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করেছে তা অপসারণ করতে হবে।

এ কাজটি করার জন্য লন্ডনের বাংলাদেশ হাই কমিশনের বাণিজ্যিক সেল আরো কার্যকর করতে হবে। মিশনের প্রধান হিসেবে হাই কমিশনারকে এ বিষয়ে সক্রিয়া ভ’মিকা রাখতে হবে। হাই কমিশন বিলেতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের সেবা প্রদানে অনেক আন্তরিক। কিন্তু মিশনের কাজ তো কেবল কমিউনিটির মানুষকে সেবা দেয়া নয়। তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে নিজের দেশকে ব্রিটেনের সর্বক্ষেত্রে প্রবেশ করানো।

ব্রেক্সিটের ফলে কেবল পণ্য-দ্রব্যের বাজার নয়। শিল্প-সংস্কৃতির বাজারও তৈয়ার হচ্ছে। মিশ্র সংস্কৃতির মানুষের বসবাস ব্রিটেনে। বিশ্বের এমন কোন দেশ নেই, যে দেশের মানুষ ব্রিটেনে নেই। ফলে এখানে মিশ্র সংস্কৃতির বাণিজ্যিক বাজার বেশ বড়। ব্রিটেন সরকার এক্ষেত্রে বেশ উদার। সব কমিউনিটির শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে সরকারের ব্যয় বরাদ্ধ রয়েছে। এছাড়া এসব কর্মকান্ডে আর্থিক সহায়তার জন্য বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিল্প-সংস্কৃতি-সাহিত্য চর্চা-প্রচার-প্রসারে এমন উদারনীতি অন্য কোন দেশে আছে কিনা জানি না।

বাংলাদেশী কমিউনিটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংগঠন রয়েছে, যেগুলো সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন অনুদানে কর্মকান্ড পরিচালনা করে। কিন্তু এসব সংগঠনের হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া কেউই মূলধারার সাথে যুক্ত হতে পারে না। কারণ বেশিরভাগ সংগঠনের কার্যক্রম শিল্পোত্তীর্ণ নয়। কেননা শিল্প-সাহিত্য চর্চার যে মার্গীয় স্তর রয়েছে সেখানে পৌঁছাতে যে রসদ দরকার হয় তা নেই। এর জন্য নিরন্তর চর্চার প্রয়োজন, প্রয়োজন বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সহায়তা। ভারত কিন্তু এই বাজার দখলে নিয়েছে কয়েক যুগ আগে।

আমরা তাদের তুলনায় একেবারে শিশু। ভারতের চলচ্চিত্র বাজার বিশাল একটি অংশ জুড়ে আছে বিলেতে। নাটক, গান, নাচসহ শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির এমন কোন শাখা নেই যার বাণিজ্যিক বাজার নেই ব্রিটেনে।

পাকিস্তানও কোন অংশে কম যায় না। কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের শিল্পী আবদা পারভীন লন্ডনের সাউথব্যাংকের রয়েল ফ্যাস্টিভাল হলে অনুষ্ঠান করে গেলেন। হলটির আসন অনুযায়ী আড়াই হাজার টিকেট অনুষ্ঠানের অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়। প্রতিটি টিকেটের দাম রাখা হয় ১২০ পাউন্ড করে। অথচ আমাদের শিল্পী রুনা লায়লা গত বছর পূর্ব লন্ডনের ছোট্ট একটি হলে অত্যন্ত ব্রাত্য আয়োজনে একটি অনুষ্ঠান করে গেলেন। ছিলো না কোন প্রচার প্রচারণা।

দর্শকের উপস্থিতিও ছিলো অত্যন্ত নগন্য। আবদা পারভীন আর রুনা লায়লা একেই মাপের শিল্পী। পার্থক্য আবদা পারভীনের বিলেত বাজার তৈরীতে পাকিস্তান দূতাবাস গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রেখেছে। তাঁকে মূলধারায় প্রচারের সব রকম প্রচেষ্ঠা গ্রহণ করে। অন্যদিকে রুনা লায়লাকে মূলধারায় নেয়া তো দূরে থাক কমিউনিটির ভেতরে ছোট্ট যে অনুষ্ঠানটি করেছে তাতেও বাংলাদেশে দূতাবাসের তেমন কোন ভ’মিকা ছিলো না।

কেনো এমন হচ্ছে তা আমাদের জানা নেই। দূতাবাসের প্রেস উইংসটি একেবারে অকেজু হয়ে আছে। সাবেক প্রেস মিনিস্টার নাদিম কাদির ঢাকায় ফেরত যাওয়ার পর হাই কমিশন একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে। কমিউনিটির সাথে বা মূলধারার সাথে যোগাযোগ শূন্য। নাদিম কাদিও ফেরত গিয়েছেন কয়েকমাস হয়ে গেলো, কিন্তু ওই পদে আর কেউ আসেন নি। পররাস্ট্র মন্ত্রণালয় নাকি চায় না লন্ডনে আপাতত কোন প্রেস মিনিস্টার আসুক। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই দফতরটি সচিবর এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এই ইচ্ছের কথা এখন লন্ডনের বাজারে তুমুল প্রচারিত। এখানে তারা দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের ইচ্ছেকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন বেশি।

নাদিম কাদির দায়িত্ব পালনকালে উল্লেখযোগ্য কিছু কাজ হয়েছিলো এই বিভাগ থেকে। যে কারণে আমি এতো উদাহারণ টানলাম তা হলো বিলেতের শিল্প-সংস্কৃতির বাজারে আমাদের দরিদ্র উপস্থিতি চিহ্নিত করার জন্য।

ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর ব্রিটেনের সাংস্কৃতিক জগতে আমাদের সম্ভাবনা আরো বৃদ্ধি পাবে। এই বাজার কেউ দেবে না। তা তৈরী করে নিতে হবে। বাংলাদেশে অসাধারণ সব মঞ্চ নাটক রয়েছে। এই খাতের বাজার বিলেতে অনায়াসে তৈয়ার করা যায়। কেবল সামারেই যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিশাল বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়। এডিনবরার ফ্রিঞ্জ ফ্যাস্টিভাল, গ্লাস্টোনবাজেট মিউজিক্যাল ফ্যাস্টিভাল ও স্টেঞ্জবে ফ্যাস্টিভালসহ অসংখ্য বড় বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে সামারে। এগুলোর মধ্যে ফ্রিঞ্জ ফ্যাস্টিভালে নিজ উদ্যোগে খুব স্বল্প পরিসরে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের শিল্পীরা।

এটি বিশ্বের সবেচেয়ে বড় শিল্প-সংস্কৃতির মেলা। সরকারীভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে এই মেলায় অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের বাজার তৈরী করা যাবে। আমাদের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর প্রায়ই লন্ডনে আসেন। তিনি নিশ্চয় অনুধাবন করতে পারেন বিলেতের শিল্পবাজারের পরিধি। তিনি গত বছর অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু বইমেলাতে এ বিষয়ে খোলামেলা কথাও বলেছেন। বলেছেন, কেবল কমিউনিটির মধ্যে নয়, মূলধারায় নিয়ে যেতে হবে বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি-সাহিত্যকে। এই যে বক্তব্য একে বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে হবে। নানান জটিলতার ফাঁদে পড়ে এবারও লন্ডনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বাংলাদেশ বইমেলা।

আর এর জন্য বিলেতের বই প্রেমীরা বাংলা একাডেমিকেই দায়ি করছেন বেশি। কারণ এই মেলাটি কেবল যুক্তরাজ্যে নয়, পুরো ইউরোপের জন্য একটি বৃহৎ আয়োজনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ ব্যক্তিস্বার্থের কারণে এই মহৎ আয়োজনটি থেমে গেলো। এই যে সংকীর্ণতা, এসবের উর্ধ্বে উঠে আমাদের সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ করতে হবে।

যুক্তরাজ্যে এখন যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে তাতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন বার্তা রয়েছে। কম শ্রমমূল্যের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দিকে সব সময় দৃষ্টি রাখে যুক্তরাজ্য । ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ছাড়াছাড়ির এ সময়ে যুক্তরাজ্যেও দৃষ্টি এখন বিশ্ববাজারে। এখন এই দৃষ্টি নিজের দিকে ফেরানোর কাজটি করতে হবে বাংলাদেশকে। বহু খাতের বাজার পেতে পারে বাংলাদেশ। এর জন্য কেবল প্রয়োজন উদ্যোগ এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকরি পদক্ষেপ।

মিলটন রহমান: কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক
Milton.rahman07@gmail.com

 

 
মতান্তরে প্রকাশিত মিলটন রহমান এর সব লেখা
 
.


আলোচিত সংবাদ