বই মেলা

ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

বই মেলা

আহসান হাবীব ৮:৫০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৮

print
বই মেলা

বই মেলা শুরু হয়েছে। বই মেলায় সবাই যায় আবার অনেকেই যায় না। কারা যায় না? এক লেখিকা একবার আমাকে বলেছিলেন তার ছেলে ভীষণ বই পড়–য়া প্রতিদিন তার বই মেলায় গিয়ে বই কেনা চাই চাইই...। কিন্তু ছেলের বিয়ের পর ছেলে এখন আর বই মেলায় যায় না।

- তাহলে কোথায় যায়? আমি প্রশ্ন করি
- কেন বাণিজ্য মেলায়।

শিল্পী মাসুক হেলাল বই মেলা এলে প্রচুর দৃষ্টিনন্দন বইয়ের কভার করেন। কিন্তু তিনি বই মেলায় যান না, কখনই না। কেন? কারণও বলতে নারাজ। আরেকজনকে পেয়েছিলাম একবার বই মেলায় এসে চিংড়ির ভাজা মাথা খেয়েছিলেন (বড় বড় সাইজ মেলায় ভিতরের খোলা রাস্তায় বিক্রি হত। এখনও বাইরে বিক্রি হয়)।

তারপর নাকি তার পেট নেমে যায়। টানা সপ্তাহ খানেক টয়লেট ছিল তার স্থায়ী স্টেশন। এখনও ফ্রেব্রুয়ারি মাস এলে সে মাঝে মাঝে গভীর রাতে সেই চিংড়ির মাথা দুঃস্বপ্নে দেখে জেগে উঠে। এই কারণেই সে আর মেলা মুখো হয় না। ভবিষ্যতেও নাকি হবে না। তবে পৃথিবী থেকে চিংড়ি প্রজাতী উঠে গেলে তার মেলায় যাওয়ার একটা চিকন সম্ভবনা দেখা যেতেও পারে।

যাহোক আবার মেলায় ফিরে আসি। এবারের মেলা আরো গোছানো মনে হচ্ছে। দ্বিগুণ প্যাভেলিয়ন। প্যাভিলিয়নের আশেপাশে ছোটবড় স্টল। মোটামুটি সবাই খুশি । সবাই ভালই বিক্রি করছেন। সব স্টলেই কোন না কোন লেখকের ছবি ঝুলছে। রাস্তায় নামলেই আমরা ব্যানার ফেস্টুনে ছোট বড় মাঝারি নেতাদের ছবি দেখি লাইট পোস্টে ওভার ব্রিজে গাছে... দেখতে দেখতে একরকম ক্লান্তই বলা যায় (একটা ব্যানারে আমি সর্বচ্চ পঁচিশজন নেতার ছবি দেখেছিলাম) । এখানে না হয় কয়েকটা দিন লেখকদের ছবি দেখলামই... (এক স্টলে দেখলাম আমারও একটা ছবি ঝুলিয়ে রেখেছে তাই একটু...) এই প্রসঙ্গে একটা ঘটনা বলা যেতে পারে। আমাদের এক কার্টুনিস্ট পোল্যান্ড গিয়েছে কার্টুন-কমিকস বিষয়ক একটা ওয়ার্কশপ এটেন্ড করতে। সেখানে তার গাইডের সঙ্গে যেতে যেতে বলল-

- তোমাদের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর কোনো ছবি তো দেখছি না কোথাও?
- তাদের ছবি দেখবে মানে? খুব বিরক্ত হয়ে বলল গাইড ‘ তারা কি সুপার মডেল নাকি যে যেখানে সেখানে তাদের ছবি ঝুলবে? তাদের কাজ হচ্ছে দেশকে সার্ভিস দেয়া... সেটাই তারা দিচ্ছেন। ছবির কি দরকার...?’
আমার কার্টুনিস্ট গোপনে দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করল।

দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করলে কার্বন-ডাই অক্সাইড বের হয় এটাতো আমরা জানি। এই প্রসঙ্গে একটা রিয়েল লাইফ জোক বলা যেতে পারে। জোকটা বই মেলা প্রসঙ্গেই। বই মেলায় সব স্টলেই যে প্রচুর বিক্রি হচ্ছে তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু স্টলের পজিশন এমনই বেকায়দায় পড়েছে যে ক্রেতা তো দূরে মশা মাছিও নাকি যাচ্ছে না। আশেপাশের উঁচু-নিচু ইটে উষ্টা খেয়েও ওই দোকানের সামনে কেউ আছড়ে পড়ছে না। এ মন্তব্য অবশ্য দোকানের মালিকেরই। সেই রকম একটি দোকানের সামনে গেলে নাকি মাথা ঝিম ঝিম করে ব্যথা করতে শুরু করে।

- কেন? আমি জানতে চাই।
- সায়েন্স। গম্ভীর হয়ে দোকানের মালিক বলল।
- মানে বুঝলাম না
- না বোঝার কি আছে? এতো সহজ। আমার দোকানে ছ’জন স্টাফ। বিক্রি বাট্টা নেই। সকাল থেকে বসে বসে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছে দোকানের ভিতরে বাইরে কি মনে করেন অক্সিজেন আছে? সব কার্বন ডাই অক্সমাইড... আর কার্বনডাই অক্সসাইডের কারণেই মাথা ব্যাথা ঝিম ঝিম... সব শেষে বই মেলা নিয়েই একটা জোক বলা যাক।
- এবার মেলার সেরা বইটাই আমি লিখেছি। এক স্টলের সামনে দাড়িয়ে গম্ভীর হয়ে এক লেখক জানালো।
- কিভাবে বুঝলেন আপনার বইটাই মেলার সেরা বই? এক সাংবাদিক পাশ থেকে জানতে চায়।
- কারণ বইটা স্টলে রাখা মাত্র নাই হয়ে যাচ্ছে
- বলেন কি এতো মনে হচ্ছে হট কেকের মত বিক্রি হচ্ছে তাহলে!
- ঠিক তা নয়। এই পর্যায়ে লেখককে একটু বিপর্যস্ত মনে হয়। আমতা আমতা করে বলে “ আমার বইটার নাম ‘ এই বইটা চোরের’ তাই বোধহয় স্টলে রাখা মাত্রই বইটা চুরি হয়ে যাচ্ছে ...! ”

আহসান হাবীব: লেখক, সম্পাদক: উন্মাদ।
habibunmad@yahoo.com

 
মতান্তরে প্রকাশিত আহসান হাবীব এর সব লেখা
 
.


আলোচিত সংবাদ