জাতিসংঘে এরদোগানের আবেগঘন ভাষণ

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জাতিসংঘে এরদোগানের আবেগঘন ভাষণ

পরিবর্তন ডেস্ক    ৯:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯

জাতিসংঘে এরদোগানের আবেগঘন ভাষণ

মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অত্যন্ত আবেগময়ী ভাষণ দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। এই ভাষণে তিনি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অল্পকিছু রাষ্ট্রের আধিপত্যসহ বিশ্বজুড়ে মুসলিম জাতিসত্বার নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। 

জাতিসংঘের অধিবেশনে তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট সিরিয়ায় মানবিক সংকট বন্ধের উদ্যোগ নিতে এবং সিরিয়ার শহর ইদলিবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানান।   

এরদোগান বলেন, সমস্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী থেকে একই দুরত্বে অবস্থান নেওয়া ছাড়া আমাদের পক্ষে সিরিয়া সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না। 

পাশাপাশি তিনি ফোরাত নদীর পূর্বদিকে কুরদিস্তানি শ্রমিকদের সংগঠনগুলো অপসারণের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।  

তিনি উল্লেখ করেন, তুরস্ক চলতি বছরে ৩২ হাজার অনিয়মিত অভিবাসীকে সমুদ্রের তীরে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে এবং আমরা ৫৮ হাজার অ-সিরিয়ান অভিবাসীকে তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছি।  

এরদোগান আক্ষেপ করে বলেন, সিরিয় শিশু আয়লান কুর্দিকে বিশ্ব খুব দ্রুত ভুলে গেছে। সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রার সময় যে আয়লান পরিবারের সাথে ডুবে মারা গিয়েছিল। তিনি বলেন, ভুলে যাবেন না সময় হয়তো ঘুরে যাবে এবং আপনিও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন।  

ফিলিস্তিন ও কাশ্মীর

বিশেষত ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতিসংঘের উপর আবশ্যক যে, ফিলিস্তিনি জনগণকে সমর্থন দেবে যা অনেক অনেক প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি।  

তিনি আরও বলেন, ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক নিরীহ ফিলিস্তিনি নারীকে নৃশংসভাবে হত্যার দৃশ্য দেখেও যদি আমাদের বিবেক না জাগে, তবে এতসব কথা বলা অর্থহীন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতিসংঘ এবং নিরাপত্তা পরিষদ ইসরাইল বিরোধী প্রস্তাবগুলো কার্যকর করেনি। তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে জাতিসংঘ থেকে কী লাভ? আমরাই যদি আমাদের নেওয়া সিদ্ধান্তে প্রভাবিত না হই তাহলে ন্যায় ও ইনসাফের বাতি আর কোথায় জ্বলে উঠবে?

তিনি বলেন, সমাধান হলো যতদ্রুত সম্ভব একটি স্বতন্ত্র্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়ে দেওয়া, যার সীমান্ত হবে ১৯৬৭ সালের সীমানা এবং পূর্ব জেরুসালেম হবে রাজধানী। 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও কাশ্মীর অঞ্চল প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশার কথাও বলেন।

এরদোগান সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার মামলাটি চালিয়ে যাওয়ারও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন, যাকে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে হত্যা করা হয়েছিল।

মিসরের বর্তমান স্বৈর শাসক জেনারেল সিসি কর্তৃক দেশটির প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বন্দি অবস্থায় মৃত্যু নিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগান, নিশ্চয় তা এমন ক্ষত যা থেকে রক্ত ঝরতে থাকবে।  

পারমাণবিক শক্তি

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, “পারমাণবিক শক্তি হয়তো বিশ্বের সব দেশের থাকবে, অথবা পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে। যেসব দেশের কাছে পরমাণু শক্তি আছে এবং যেসব দেশ এই শক্তির অধিকারী নয় তাদের মাঝে যে বৈষম্য বিরাজ করছে তাতে বৈশ্বিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।

এসব বিষয় বিবেচনা করে পরমাণু শক্তির ব্যবহার হয় পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে আর নইলে তা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

ব্যাপক ধংসক্ষমতা সম্পন্ন অস্ত্রপ্রসঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি ন্যায়সঙ্গতভাবে সমস্যাটির সমাধান করতে হয়, তাহলে হয় সকল দেশেই তা নিষিদ্ধ করা হবে অথবা সকল দেশেই তা থাকার অনুমতি দিতে হবে।

বিশ্ব নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এরদোগান বলেন, আমাদের অবশ্যই নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার চালিয়ে যাওয়া উচিত।  

সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ইরানের ইস্যুটি যথাযথভাবে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

সূত্র: আলজাজিরা আরবী

এমএফ/

 

উত্তর আমেরিকা: আরও পড়ুন

আরও