মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কয়েকশ' পেজ, একাউন্ট বন্ধ করল ফেসবুক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ | ৪ মাঘ ১৪২৫

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কয়েকশ' পেজ, একাউন্ট বন্ধ করল ফেসবুক

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:০৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কয়েকশ' পেজ, একাউন্ট বন্ধ করল ফেসবুক

মিয়ানমারের মিলিটারির গোপন লিঙ্কযুক্ত শত শত ফেসবুক পেজ বন্ধ করে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াটি।বুধবার প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি ছড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে এমন সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এসব পেজ বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক।

মিয়ানমারের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক। অত্যন্ত প্রভাবশালী সাইটটি রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় দারুন সমালোচিত হয়েছে।

গত বছর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-নিপীড়ন ও গণহত্যা শুরু হলে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। একই সময়ে বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের নামে ফেসবুকে অমানবিক সব তথ্য ছড়ানো হতে থাকে।

বুধবার ফেসবুক জানায়, তারা অন্তত ৪২৫টি পেজ, ১৭টি গ্রুপ, ১৩৫টি একাউন্ট ও ১৫টি ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছে। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, বিনোদন, ও রূপচর্চা, লাইফস্টাইল পেজের রুপ ধরে এগুলো রোহিঙ্গাদের দমনে-নিপীড়নে ভূমিকা রাখছিল। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বা আগে ডিলিট করে দেয়া বিভিন্ন পেজের সঙ্গে এগুলোর সম্পর্ক ছিল বলে জানায় ফেসবুক।

মিয়ানমারের গণহত্যা বন্ধে ফেসবুক এই নিয়ে তৃতীয়বার বিপুল সংখ্যক পেজ ও একাউন্ট ডিলিট করল বলে জানায় বার্তা সংস্থা এএফপি। আগে আগস্ট ও অক্টোবর মাসেও অনেক ডিলিট করা হয়েছিল।

এবছর চরমপন্থি বৌদ্ধ ভিক্ষু ও গণহত্যার দায়ে জাতিসংঘ কর্তৃক অভিযুক্ত সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ইউজারদের কালো তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেছে ফেসবুক।

ফেসবুক তাদের সুনাম পুনরুদ্ধার করতে এবছরের শেষ নাগাদ মিয়ানমারের ভাষা জানা ১০০ লোক নিয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছে। এদের কাজ হবে মিয়ানমারের পোস্টগুলোতে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে নজর রাখা।

তবে মিয়ানমারের দুই কোটি ফেসবুক একাউন্টের ওপর এভাবে নজর রাখা যাবে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে অনেকেই।

ফেসবুকেরই উদ্যোগে তৈরি একটি প্রতিবেদনে গত মাসে বলা হয়, আদতে মিয়ানমার রাষ্ট্রই দায়ী রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকের মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো বন্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি সামাজিক মাধ্যমটি, মন্তব্য করা হয় প্রতিবেদনে।

এমআর/