ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি মানতে রাশিয়াকে ২ মাসের আল্টিমেটাম যুক্তরাষ্ট্রের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি মানতে রাশিয়াকে ২ মাসের আল্টিমেটাম যুক্তরাষ্ট্রের

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮

ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি মানতে রাশিয়াকে ২ মাসের আল্টিমেটাম যুক্তরাষ্ট্রের

রাশিয়াকে আগামী দুই মাসের মধ্যে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি অনুযায়ী কাজ করার আল্টিমেটাম দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার ইউরোপকে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র মুক্ত রাখার চুক্তির বিষয়ে স্বচ্ছ হতে আহ্বান জানায়, বলা হয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে।

রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকবার কূটনৈতিক সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। ১৯৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত মাঝারি পাল্লার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি বা আইএনএফ বাতিল হলে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে।

জার্মানির নেতৃত্বে ন্যাটোর দেশগুলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে ব্রাসেলসের এক বৈঠকে এই অনুরোধ করে।

এর প্রতিদানে, ‘রাশিয়া বস্তুগতভাবে আইএনএফ চুক্তি ভঙ্গ করেছে’ বলে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে বিবৃতি দিবে ন্যাটোর পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা।

কিন্তু, স্বল্প সময়ের মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে আঘাত হানতে সক্ষম এমন মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের কোনও কার্যক্রম নেয়নি বলে দাবী করছে রাশিয়া।

তবে, মাইক পম্পেও বলছেন রাশিয়া ‘কয়েক ব্যাটেলিয়ন এসএসসি-৮ ক্ষেপণাস্ত্র’ প্রস্তুত করেছে। ন্যাটো’র মহাসচিব জেন্স স্টোল্টেনবার্গ, জানিয়েছেন তারা রাশিয়াকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ত্যাগ করতে সম্মত করার জন্য ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবে।

‘এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার কারনে এগুলো ইউরোপের জন্য সরাসরি হুমকি’, বলেন পম্পেও। এগুলোকে ৯এম৭২৯ নামেও ডাকা হয়।

রাশিয়ার কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তাকে ব্যাপক হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পম্পেও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৩ সাল থেকে রাশিয়ার কাছে বিষয়টি অন্তত ৩০ বার উত্থাপন করেছেন। কিন্তু রাশিয়া বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে বা উল্টো পদক্ষেপ নিয়েছে।

‘এসব তথ্যের ভিত্তিতে, রাশিয়া চুক্তি ভঙ্গ করেছে ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও এটি মেনে চলা বন্ধ করে দিবে বলে জানাচ্ছি। ৬০ দিনের মধ্যে রাশিয়া সম্পূর্ণ ও যাচাইযোগ্য ভাবে চুক্তি মেনে না নিলে এই ঘোষণা কার্যকর হবে,’ বলেন পম্পেও।

এই সময়সীমার পর যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সামরিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে, কিন্তু তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে অস্ত্র পরীক্ষা ও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ততদিন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানান তিনি।

জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম ১৯৮০ সালের মতো ইউরোপে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের বিষয়ে উদ্বিগ্ন, জানায় রয়টার্স।

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান ও সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ আইএনএফ চুক্তির শর্ত নির্ধারণ করেছিলেন। এর ফলে বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ দুই দেশ দ্রুত পরমাণু হামলা চালানোয় তাদের সক্ষমতা কমিয়ে আনে।

চুক্তির ফলে ব্রিটেন ও পশ্চিম জার্মানিতে মোতায়েন ইউএস ক্রুজ ও পার্শিং ক্ষেপণাস্ত্র প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইউরোপে আঘাত হানতে সক্ষম এসএস২০-গুলো সরিয়ে নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন।

এমআর/এএসটি