পুতিনের সঙ্গে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বৈঠক করে দেশে সবার তোপে ট্রাম্প

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

পুতিনের সঙ্গে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বৈঠক করে দেশে সবার তোপে ট্রাম্প

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:১২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৮

পুতিনের সঙ্গে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বৈঠক করে দেশে সবার তোপে ট্রাম্প

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় একসুরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন তার দল, বিরোধী দল ও গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তারা। সোমবার ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘মর্যাদাহানিকর’ অভিহিত করেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট দলের নেতা এবং বিভিন্ন সংস্থার সাবেক কর্মকর্তারা।

রিপাবলিকান দলের বর্ষীয়ান সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেন, অভিযোগ অস্বীকার করে পুতিনের দেয়া বক্তব্য ট্রাম্প কার্যত মেনে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট’ উদাহরণ তৈরি করেছেন। হেলসিঙ্কিতে দুই নেতার স্মমেলন একটা ‘ট্র্যাজিক ভুল’।

‘ট্রাম্প ও পুতিনের যৌথ সংবাদ সম্মেলন মার্কিন কোনো প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে লজ্জাজনক পারফরমেন্স’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাককেইন বলেন, ‘আগের কোনো প্রেসিডেন্ট আর কখনো নিজেকে এত শোচনীয়ভাবে নিচে নামিয়ে আনেনি।’

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদক কিম্বারলি হ্যালকেট ওয়াশিংটন থেকে জানান, হেলসিঙ্কিতে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা ছিল ‘প্রায় সার্বজনীন’।

ট্রাম্পের নিয়োগ দেয়া জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক ড্যান কোটস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘প্রমাণের ভিত্তিতে’ পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে দুই বছর আগে মস্কো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল। কিন্তু ট্রাম্প হেলসিঙ্কিতে এই সিদ্ধান্ত অস্বীকার করেছেন।

কোটস আরও বলেন, তার দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল করতে রাশিয়া এখনো আড়ালে থেকে কাজ করছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্পের বক্তব্য তার শত্রুমিত্র সবাইকে স্তম্ভিত করে দেয়। তিনি বলেন, ‘পুতিন বলেছেন রাশিয়া এটা করেনি। আমি বলব- আমি বুঝতে পারছি না রাশিয়া কেন এটা করবে। পুতিন আজকেও এটা জোর দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ হিলারি ক্লিনটনের ডেমোক্রেটিক পার্টির কম্পিউটারে হ্যাক করার দায়ে ১২ জন রাশিয়ানকে অভিযুক্ত করার কয়েকদিন পর এই বক্তব্য দিলেন ট্রাম্প।

রিপাবলিকান পার্টির হাউজ স্পিকার পল রায়ান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কোনো নৈতিক মিল নেই। রাশিয়া আমাদের বেশিরভাগ মূল্যবোধ ও আদর্শের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন।’

রিপাবলিকান দলের প্রবীণ নেতা লিন্ডসে গ্রাহাম মনে করেন, নির্বাচনে হস্তক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পের জবাবকে ‘রাশিয়া দুর্বলতার চিহ্ন’ হিসেবেই দেখবে।

ট্রাম্পের আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ অভিহিত করেন তার সতীর্থ রিপাবলিকান সিনেটর জেফ ফ্লেক।

ওয়াশিংটনের আটলান্টিক কাউন্সিলের ইউরেশিয়া সেন্টারের সিনিয়র ফেলো মার্ক সিমাকোভস্কি বলেন, হেলসিঙ্কির স্মমেলনের পর ট্রাম্পের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট দুই দলই ট্রাম্পের সমালোচনা করায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের বিরোধিতা আরও বাড়বে এবং নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে আরও বেশি তদন্ত হবে বলে মনে করেন তিনি।

ট্রাম্পকে আরও বেশি তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে ডেমোক্রেট দলের সদস্যরা তার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’র অভিযোগ তুলেছেন।

তারা বলেন, ‘মার্কিন আইন, মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে গিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সমর্থন করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য অবিবেচক, বিপজ্জনক ও দুর্বলচিত্তের পরিচায়ক।’

ডেমোক্রেট প্রতিনিধি জিমি গোমেজ অভিযোগ করেন, ‘মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বদলে পুতিনকে সমর্থন দেয়াটা অরুচিকর। যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা দিতে না পারাটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।’

সাবেক গোয়েন্দা প্রধান জেমস ক্ল্যাপার পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের বশ্যতাকে ‘অবিশ্বাস্য এক আত্মসমর্পণ’ বলে অভিহিত করেন। গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক প্রধান জন বেনান এটিকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়’ বলে মন্তব্য করেন।

এমআর/এমএসআই