যে কারণে পদত্যাগ করছেন মার্কিন কূটনীতিকরা

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

যে কারণে পদত্যাগ করছেন মার্কিন কূটনীতিকরা

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০১৮

যে কারণে পদত্যাগ করছেন মার্কিন কূটনীতিকরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসন থেকে মন্ত্রী ও উপদেষ্টা পর্যায়ে যেমন ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে তেমনি অনেকেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগও করেছেন। ইতোমধ্যে বিদেশে কর্মরত তিনজন কূটনীতিক পদত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন এস্তোনিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন দূত জেমস ডি মেলভিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেপরোয়া আচরণ ও নানা মন্তব্যে এসব মার্কিন কূটনীতিক তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা তাদের পদত্যাগপত্রে কারণও উল্লেখ করেছেন।

ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকান ও ইউরোপীয় মিত্রদের নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে হতাশ হয়েই মেলভিল পদত্যাগ করেছেন।

সম্প্রতি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওপর শুল্কারোপ এবং সামরিক জোট ন্যাটোর মিত্রদের সমালোচনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মেলভিল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট যখন বলেছেন, ইইউ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত কিংবা আমাদের সঞ্চিত অর্থে ভাগ বসাতে চায়, অথবা ন্যাটোর অবস্থা নাফটার মতোই খারাপ, তখন বুঝলাম এটি সাধারণ কোনো ভুল নয় এবং আমার কাছে মনে হলো- এটিই চলে যাবার উপযুক্ত সময়।’

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র শুক্রবার মেলভিলের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে জানুয়ারিতে পানামায় নিযুক্ত মার্কিন দূত জন ফিলি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের সময় তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আর দায়িত্ব পালনে তিনি সক্ষম নন।

এর এক মাস আগে কেনিয়ার নাইরোবিতে নিযুক্ত মার্কিন দূত এলিজাবেথ শাকেলফোর্ড পদত্যাগ করেন। তিনি সোমালিয়ায় মার্কিন মিশনের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার না দেওয়ায় তিনি পদত্যাগ করছেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার ওয়াশিংটন থেকে নিউ জার্সির ব্যক্তিগত গল্ফ ক্লাবে যাওয়ার সময় ন্যাটো সদস্যদের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। বিমানের ফ্লাইটে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জার্মানি, স্পেন ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোকে আর্থিক অনুদান বাড়াতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে সব করাবে এটা অন্যায্য। তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি অর্থ দিচ্ছে।’

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন সময় ন্যাটো সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করলেন যখন কয়েক দিন পরই ব্রাসেলসে সংস্থাটির শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আরপি