মেমো ইস্যু: ৭০’র পর যুক্তরাষ্ট্রে সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা

ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

মেমো ইস্যু: ৭০’র পর যুক্তরাষ্ট্রে সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:২১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৮

print
মেমো ইস্যু: ৭০’র পর যুক্তরাষ্ট্রে সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক পক্ষপাত’ এর অভিযোগ এনে যে গোপন নথি (মেমো) প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন তাকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছে বিরোধী শিবির ডেমোক্র্যাট। বিতর্কিত এই নথিকে ‘অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহার করে কোনো কর্মকর্তাকে বরখাস্ত না করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন সিনিয়র ডেমোক্র্যাটরা।

তারা বলছেন, এর মাধ্যমে সাংবিধানিক সংকট দেখা দিতে পারে, যা হয়েছিল প্রেসিডেন্ট নিক্সনের আমলে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ান হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করছে এফবিআই। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন শুক্রবার যে গোপন নথি প্রকাশ করেছে তাতে বলা হয়েছে, এফবিআই ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই নথি সমর্থন করেছেন এবং বলেছেন, এর মাধ্যমে যা প্রকাশ হয়েছে তা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।

নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এফবিআই ও জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট অপ্রমাণিত বিষয় নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের অর্থায়নে কাজ করছে যাতে ট্রাম্পের মিত্রদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করা যায়।

কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পকে বিজয়ী করতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ উঠেছে তার তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতেই এই নথি প্রকাশ করা হয়েছে।

এফবিআইও নথি প্রকাশের ব্যাপারে সতর্ক করেছে এবং বলেছে, নথিতে মূল বিষয়ই বাদ দেওয়া হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরা বলছে, রাশিয়ান হস্তক্ষেপ নিয়ে এফবিআইয়ের তদন্তের সময় এই নথি প্রকাশ লজ্জাজনক।

এক বিবৃতিতে সিনেটের সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রধান চাক স্কুমার, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রধান ন্যান্সি পোলেসি ছাড়াও আট সিনিয়র ডেমোক্র্যাট সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্প বিশেষ কৌঁসুলী রবার্ট মুয়েলার কিংবা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোসেন্সটেইনকে বরখাস্তের চেষ্টা করছেন।

এই ধরনের অনাকাঙ্খিত উদ্যোগ বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তারা বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি করতে পারে, যা ১৯৭০ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সময় হয়েছিল।

অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা, যারা এই নথিকে সমর্থন করে, বলছেন, এর মাধ্যমে অসদাচরণ এবং এফবিআই ও জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

নথিতে কী আছে জানতে চাইলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এর কারণে জনগণের একটি বড় অংশের লজ্জিত হওয়া উচিত।

এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প অভিযোগ করেন, রিপাবলিকান পার্টিকে ধ্বংস করার জন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা এফবিআই ও জাস্টিস ডিপার্টমেন্টে রাজনীতিকরণ করছেন।

ডেভিড নুয়েন্স, যার ওপর মেমো তৈরির দায়িত্ব ছিল, বলেছেন, এর মাধ্যমে জনগণের আস্থা ভয়ংকরভাবে লঙ্ঘণ করা হয়েছে এবং তিনি আশা করেন, এর কারণে সংস্কারের দাবি উঠতে পারে।

মি. পেজ বলেছেন, এই মেমো ব্যবহার করে তিনি জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

তবে সব রিপাবলিকান এই মেমো সমর্থন করে না।

সিনেটর জন ম্যাককেইন দলের সহকর্মী ও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেছেন, তারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের খেলার পুতুলে পরিণত হয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা যদি এটি অব্যাহত রাখি তাহলে আমাদের আইনের শাসনকে উপেক্ষা করা হবে, অর্থাৎ আমরা পুতিনের হয়ে কাজ করছি।

অন্যদিকে, এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমি এক টুইটে বলেছেন, এই মেমো অমর্যাদাকর ও বিভ্রান্তিকর। গত বছরের মে মাসে কমিকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প।

তবে এফবিআইয়ের বর্তমান পরিচালক ক্রিস্টোফার রায় তার সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘এসব সস্তা কথায় কান না দেওয়াই উচিত। আমরা নিয়মানুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমি আপনাদের পাশে আসি।’

আরপি

 
.


আলোচিত সংবাদ