‘সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়নি পুলিশ’

ঢাকা, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯ | ১২ চৈত্র ১৪২৫

‘সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়নি পুলিশ’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১১:১২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৬

‘সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয়নি পুলিশ’

সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশ আগুন দিচ্ছে এই ভিডিও চিত্রের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আগুন দেওয়ার ভিডিওচিত্রটি এতদিন কোথাও দেখলাম না। এটা কারো বানানো কি না, কোনো মেকানিজম আছে কি না বুঝতেছি না। ভিডিও চিত্রটি প্রশ্নবিদ্ধ। তবে পুলিশ ঘরে আগুন দেয়নি। কে বা কারা দিয়েছে।’ ঘটনার তদন্ত চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভিডিওচিত্রটি  ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছিল পেছন দিক থেকে। তাছাড়া ভিডিও চিত্রটি  অস্পষ্ট হওয়ার কারণে তাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না।’

ভিডিও নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও এসপি বলেন, ‘ভিডিও দেখে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। চিহ্নিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমিতে গড়ে ওঠা সাঁওতাল পল্লীতে আগুন দেয় পুলিশ। তবে পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আলজাজিরার এক ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা দলবল নিয়ে চিনিকলের জমিতে তোলা সাঁওতালদের ঘরের দিকে যাচ্ছেন। ফাঁকা গুলি চালাতে দেখা যায় তাদের। সাঁওতালদের ঘরের কাছে  পৌঁছে তিনজন পুলিশ সদস্য একটি ঘরে লাথি মারেন এবং ঘরের বেড়া টেনে ভাঙচুর করেন। পরে এক পুলিশ সদস্য আগুন লাগিয়ে দেন। অন্যরা ঘরের খড়ে আগুন দিতে সহায়তা করেন। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। ভিডিওতে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও  দেখা যায়। 

ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, সাদাপোশাকের একজন গিয়ে ওই ঘরের আগুন নিয়ে অন্য ঘরে লাগানোর জন্য এগিয়ে যাচ্ছেন। এরপর মুহূর্তের মধ্যে অন্যান্য ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের সামনে কিছু পুলিশ সদস্য হাঁটাহাঁটি করছেন। কিছু পুলিশ সদস্য গুলি ছুড়ছেন। অনেক ঘর আগুনে পুড়ে যাচ্ছে।

সাঁওতালদের ঘরে পুলিশের আগুন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে  গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এটাই বাস্তব পুলিশ আগুন  দেয়নি।

ভিডিওচিত্র প্রসঙ্গে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, ওই ভিডিওচিত্রে স্পষ্ট  দেখা যাচ্ছে পুলিশ, স্থানীয় সাংসদ ও ইউপি চেয়ারম্যানের  লোকজন আমাদের ঘরে আগুন দিচ্ছেন। ঘটনাটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

গত ৬ নভেম্বও সাহেবগঞ্জ এলাকায় আখ কাটা কেন্দ্র করে রংপুর চিনিকল কর্মকর্তা-কর্মচারি ও পুলিশের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এত পুলিশসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। এদেও মধ্যে চারজন সাঁওতাল মারা যান। এ সময় চিনিকলের জায়গায় গড়ে তোলা সাঁওতালদের ঘরবাড়ি লুটপাট করার পর তাতে আগুন লাগানো হয়। 

একে