পরিবেশ বিরোধী উন্নয়নেই বাড়ছে বন্যা-ভূমিধস

ঢাকা, রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮ | ৫ কার্তিক ১৪২৫

পরিবেশ বিরোধী উন্নয়নেই বাড়ছে বন্যা-ভূমিধস

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

পরিবেশ বিরোধী উন্নয়নেই বাড়ছে বন্যা-ভূমিধস

পরিবেশবাদী ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, এদেশের পরিবেশ বিধংসী উন্নয়ন শুধু পরিবেশকেই ধ্বংস করছে না, ঝুঁকিতে ফেলছে লাখো মানুষের জীবন। পরিবেশ বিরোধী এমন উন্নয়নের দায় সরকার এড়াতে পারে না।

এক্ষেত্রে প্রতিবারই দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দায়িত্বে অবহেলা করলেও ছাড় পেয়ে যান বলেও মন্তব্য করেন এই কলামিস্ট।

শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস বিষয়ক বিশেষ সম্মেলন’ এর সমাপনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের (বেন) উদ্যোগে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশবাদী অধ্যাপক শরীফ জামিল বলেন, সরকারের ভুল নীতি আর অবকাঠামো উন্নয়নে সারাদেশে জলাবদ্ধতা, ভূমিধসের পরিমাণ বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে মানুষের মৃত্যুর হার। আর এই মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রের।

দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেন’র  বৈশ্বিক সমন্বয়ক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের পরিবেশ বিরোধী ভুল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, নীতি ও পরিকল্পনা বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষায় পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের বিকল্প নেই। সরকারি নীতি-নির্ধারকদের অবশ্যই স্থানীয় মানুষের মতামত নিতে হবে।

সম্মেলন প্রস্ততি পরিষদের সদস্য সচিব ইকবাল হাবিব বলেন, ঢাকার চারপাশের নিচুভূমি দখলদারের ভরাটের পাশাপাশি সরকারি  বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রম ঢাকার জলাবদ্ধতাকে ভয়াবহ করে তুলছে।

তিনি বলেন, ঢাকায় বন্যা এবং জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধানে স্বাভাবিক, প্রকৃতিপ্রদত্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে ব্যহত করে কৃত্রিম, ব্যয়বহুল পাম্প-নির্ভর নিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের চেষ্টাকে প্রতিহত করতে হবে।

এসময় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সত্যব্রত সাহা বলেন,  সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমি জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে চাই। এসব সমস্যার সমাধানে সরকার ও জনগণকে একসাথে কাজ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’র মহাপরিচালক ব্রি. জেনারেল প্রকৌশলী আলী আহমেদ খান বলেন, দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হতে হবে।

সম্মেলনে শিক্ষাবিদ, গবেষক, বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনের প্রতিনিধি, পেশাজীবি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী, তরুণ-যুবক, গণমাধ্যম সদস্য ও পরিবেশ বিপর্যস্ত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিসহ চার শতাধিক প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট ৬১টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ ছাড়াও বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস এর উপর ২০টি সামাজিক উপস্থাপনা হয়েছে। সম্মেলনে উপস্থাপিত এ সকল প্রবন্ধের সুপারিশ ও অংশগ্রহকারীদের মতামতের আলোকে একটি খসড়া প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

কেএইচ/এমএসআই