আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৫

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭

print
আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

আজ ১৪ ডিসেম্বর। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এই দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে একটি স্মরণীয় ও কলঙ্কময় বেদনাবিধুর দিন। ৭১’র এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল-শামস বাহিনী বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার প্রয়াসে আমাদের গর্বের ধন বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে পৈশাচিকভাবে হত্যা করে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদদের বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিবসটি পালনের পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।


শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সবার প্রতি বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের পথ বেয়ে দেশকে জ্ঞানভিত্তিক, প্রজ্ঞাময় সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করার আহবান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এ দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের, যাঁরা ১৯৭১ সালে বিজয়ের প্রাক্কালে হানাদারবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন। আমি তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, বুদ্ধিজীবীরা দেশ ও জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির রূপকার। তাঁদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, উদার ও গণতান্ত্রিক চিন্তাচেতনা জাতীয় অগ্রগতির সহায়ক। জাতির বিবেক হিসেবে খ্যাত জাতির বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি, যুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারকে পরামর্শ প্রদানসহ বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে বিপুল অবদান রাখেন।

তিনি বলেন, কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য, বিজয়ের প্রাক্কালে হানাদারবাহিনী পরিকল্পিতভাবে এ দেশের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। জাতির জন্য এ এক অপূরণীয় ক্ষতি। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রেখে যাওয়া আদর্শ ও পথকে অনুসরণ করে অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভিত্তিক সমাজ গড়তে পারলেই তাঁদের আত্মত্যাগ স্বার্থক হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেয়া বাণীতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মহান ত্যাগকে স্মরণ করে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আজকের এই দিনে আমি দেশবাসীকে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মহান ত্যাগকে স্মরণ করে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানাই।

সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, আমার লক্ষ্য জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। আমি বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সুখী সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, তাঁদের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তিনি বলেন, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। বাকি দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি এই বিচার বানচাল করতে দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। আমরা দৃঢ়তার সাথে সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য পরিচালনা করছি। কোনো ষড়যন্ত্রই বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে পারবে না। আমরা সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করবোই। যারা ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় নানা অপচেষ্টা করছে তাদেরও একদিন বিচারের আওতায় আনা হবে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গভীর কালো অধ্যায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঊষালগ্নে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি পরাজয় নিশ্চিত জেনে বাংলাদেশকে মেধাশুন্য করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীরা পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়ার জন্যই এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার বাণীতে বলেন, আজকের এ শোকাবহ দিনে আমি দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাই-আসুন ন্যায় বিচারভিত্তিক শোষণমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলি। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা একসাথে কাজ করি।

বিজয়ের আগ মুহূর্তের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও বাংলাদেশের রাজাকার বাহিনীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন স্হান থেকে ধরে নিয়ে শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, আইনজীবি, চিকিৎসক, প্রকৌশলীদের ও বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বুদ্ধিজীবীদের রায়ের বাজার ও মিরপুর বধ্যভূমিতে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। বাঙালি জাতি যাতে কখনো স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, এটি নিশ্চিত করতেই তারা এহেন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলো। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের হত্যাকাণ্ড ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম বর্বর ঘটনা, যা বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষকে স্তম্ভিত করেছিল। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের পর ঢাকার মিরপুর, রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের লাশ ফেলে রেখে যায়।

১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরপরই নিকট আত্মীয়রা মিরপুর ও রাজারবাগ বধ্যভূমিতে স্বজনের লাশ খুঁজে পায়। এদের মধ্যে অনেকেরই লাশ পাওয়া যায়নি। বর্বর পাক বাহিনী ও রাজাকাররা এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পৈশাচিকভাবে নির্যাতন করেছিল। বুদ্ধিজীবীদের লাশজুড়ে ছিল আঘাতের চিহ্ন, চোখ, হাত-পা বাঁধা, কারো কারো শরীরে একাধিক গুলি, অনেককে হত্যা করা হয়েছিল ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে। লাশের ক্ষত চিহ্নের কারণে অনেকেই তাঁদের প্রিয়জনের মৃতদেহ শনাক্ত করতে পর্যন্ত পারেননি।

১৯৭২ সালে জাতীয়ভাবে প্রকাশিত বুদ্ধিজীবী দিবসের সঙ্কলন, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও আন্তর্জাতিক নিউজ ম্যাগাজিন ‘নিউজ উইক’-এর সাংবাদিক নিকোলাস টমালিনের লেখা থেকে জানা যায়, শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা মোট ১ হাজার ৭০ জন।

কেইবিডি/এএস

 
.



আলোচিত সংবাদ