নির্বাচনে সেনাসহ ১১ প্রস্তাব ইসলামী ঐক্যজোটের

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

নির্বাচনে সেনাসহ ১১ প্রস্তাব ইসলামী ঐক্যজোটের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৬:২২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৭

নির্বাচনে সেনাসহ ১১ প্রস্তাব ইসলামী ঐক্যজোটের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ ১১ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামী ইক্যজোট। নির্বাচনের সময় সরকারের কাজ ‘রুটিন ওয়ার্কের’ মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব করেছে দলটি।

মঙ্গলবার ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব প্রস্তাব দেয়।

বিকেল ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ সংলাপ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল ৫টায়। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

সংলাপ শেষে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা- কর্মচারীদের কমিশন থেকে প্রত্যাহার করা, নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে সকল প্রর্থীর নাম, সব দল ও প্রতীকের উল্লেখ সম্বলিত অভিন্ন পোস্টারের ব্যবস্থা করাসহ ১১ দফা প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনে স্পর্শকাতর এলাকায় সেনাবাহিনী নিয়োগ দিতে হবে। ঢালাও সেনাবাহিনী নিয়োগ করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করি আমরা।

লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরে জোটের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে অনৈতিকভাবে জেতার প্রয়াসকে প্রতিহত করা, পোলিং বুথে সব প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের নির্ভয়ে কাজ করারার পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রতিটি কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল জনসমক্ষে ঘোষণা করা এবং প্রত্যেক প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সার্টিফিকেট ইস্যু বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছি।

আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে সকল প্রর্থীর নাম , দল ও প্রতীকের উল্লেখ সম্বলিত অভিন্ন পোস্টারের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করেছি। এতে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনকালে সকল প্রকার রঙিন পোস্টার,ব্যানার ও অহেতুক আঞ্চলিক অফিস স্থাপন বন্ধ করার প্রস্তাব করেছি। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠন পর্যন্ত বিদ্যামান সরকার শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবেন। এমন কোনো পরিকল্পনা নিতে পারবেন না যাতে ভোটাররা প্রভাবিত হয়- এ প্রস্তাব দিয়েছি আমরা।

নির্বাচনী বিরোধ পাঁচ বছরেও শেষ না হওয়ার বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে নির্বাচনী অভিযোগ তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিধান করতে হবে। এজন্য হাইকোর্টে একটি পৃথক বেঞ্চ গঠন করা যেতে পারে পারে বলেও প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানান লতিফ নেজামী।

ইসলামী ঐক্যজোটের অন্য প্রস্তাবগুালো হলো- নির্বাচনে কালো টাকা, পেশী শক্তি প্রবাবমুক্ত রাখার প্রযোজনীয় ব্যবস্থা প্রহন করা। নৈতিকস্খলনের অভিযোগে দণ্ডিত ব্যক্তিদের (দুই বছর পর) সংসদ নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করা সুযোগ বাতিল করা এবং যেসব দল ৩০ এর অধিক প্রার্থী মনোনয়ন দেবে সেসব দলকে বেতার ও টিভিসহ সরকারি প্রচারমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সুযোগ দেওয়ার বর্তমান নিয়ম বহাল রাখা।

সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকেও নিরপেক্ষ করতে হবে। তাই রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কমিশন থেকে প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করে ইসলামী ইক্যজোট।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, কোন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে সেটা ঠিক করবে সরকার। এখানে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নেই। তাই আমরা এ বিষয় কোন আলোচনা করিনি।

ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এর আগে গত ৩১ জুলাই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং ২৪ আগস্ট থেকে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন কমিশন। এ পর্যন্ত ২৮টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ করল ইসি।

এইচকে/এমএসআই

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও