শেষ ইচ্ছানুযায়ী অজয় রায়ের দেহ বারডেমে দান (ভিডিও)

ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০ | ৯ মাঘ ১৪২৬

শেষ ইচ্ছানুযায়ী অজয় রায়ের দেহ বারডেমে দান (ভিডিও)

পরিবর্তন প্রতিবেদক ২:৪৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও একুশে পদক জয়ী অধ্যাপক ড. অজয় রায় আর নেই। তার শেষাচ্ছানুযায়ী মরদেহ বারডেম হাসপাতালে দান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুর সোয়া ২টায় অধ্যাপক ড. অজয় রায়ের ছোট ছেলে অনুজিৎ রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বাবার শেষ ইচ্ছে ছিল তার মরদেহ মেডিকেল দান করা। তাই তার শেষাচ্ছানুযায়ী মরদেহ বারডেম হাসপাতালে দান করার জন্য পারিবারিক ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

এর আগে দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ড. অজয় রায় ১৯৩৫ সালের পয়লা মার্চ দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ৮৫ বছর বয়সী এই অধ্যাপক জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ২৫ নভেম্বর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন। গত এক সপ্তাহ যাবত তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

স্কুল এবং কলেজজীবনে পড়াশোনা করেছেন দিনাজপুরে। ১৯৫৭ সালে এমএসসি পাশ করে যোগ দেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে। তিনি ১৯৫৯ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের লিডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৭ সালে সেখানেই করেন পোস্ট ডক্টরেট। ১৯৬৭ সালে শিক্ষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় যোগদান করেন এবং অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন।

শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক অজয় রায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতাদেরও একজন। বর্তমানে তিনি নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা।

একুশে পদকপ্রাপ্ত পদার্থবিদ অজয় রায়ের দুটি গবেষণা নোবেল কমিটিতে আলোচিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অবসরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ইউজিসি অধ্যাপকও ছিলেন অজয় রায়।

মুক্তিযোদ্ধা অজয় রায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল ভাষা আন্দোলন ও উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানেও।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে ব্লগার-লেখক অভিজিৎ রায় ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির উল্টো পাশে জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন।

ওজি/জেডএস

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও