পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:২১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সঙ্গে আলোচনার পর দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিকরা। সোমবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিপিসির লিয়াজোঁ কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠকের পর বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম এ কথা জানান।

রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ২৬ জেলায় প্রায় দেড় দিন জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ থাকার পর এমন ঘোষণা এলো।

বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম বলেন, উনারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা জনগণের ভোগান্তি চাই না। আগামী ১৫ ডিসেম্বর জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর আহ্বানে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আমাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা হবে বলে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। সে পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি স্থগিত রাখছি।

জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসির পরিচালক (বিপণন) সৈয়দ মেহদী হাসান বলেন, খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। উনাদের যেসব দাবি, তার মধ্যে বিপিসি সংশ্লিষ্ট বিষয় আছে দুই-তিনটি। বাকিগুলোর বিষয়ের অন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

তবে জ্বালানি তেল বিক্রিতে পাম্প মালিকদের কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ কমিশন দেওয়ার যে দাবি ছিল, সে বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মেহদী হাসান বলেন, মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে রবিবার সকাল ৬টা থেকে ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতিসহ জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা এ কর্মবিরতি শুরু করে। পাশাপাশি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর শ্রমিকরা তেল উত্তোলন, বিপণন ও সরবরাহ বন্ধ রাখায় ২৬ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানবাহন চলাচলে ব্যহত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সংগঠনের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির আয়োজনে বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ১৫ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আল্টিমেটাম দেন। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মঘটের কর্মসূচী ঘোষণা করেন  বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প  ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মিজানর রহমান রতন।

১৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— জ্বালানী তেল বিক্রির  প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে সাত শতাংশ প্রদান,  জ্বালানী তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান-বিষয়টি সুনির্দিষ্টকরন, প্রিমিয়াম পরিশোধ স্বাপেক্ষে ট্যাংক লরী শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রথা প্রণয়ন,  ট্যাংক লরীর ভাড়া বৃদ্ধি, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট, জেনারেল ষ্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপদ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশ দ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতিত অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডার গ্রাউন্ড ট্যাংক ৫ বছর অন্তর বাধ্যতামুলক ক্যালিব্রেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল, ট্যাংক লরী চলাচলে পুলিশি হয়রানী বন্ধ, সুনির্দিষ্ট দপ্তর ব্যতিত সরকারী অন্যান্য দাপ্তরিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিলার বা এজেন্টদেরকে অযথা হয়রানী বন্ধ, নতুন কোন পেট্রোল পাম্প নির্মানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানী তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু, পেট্রোল পাম্পের পাশে যেকোন স্থাপনা নির্মানের পূর্বে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক ও বিভিন্ন জেলায় ট্যাংকলরী থেকে জোরপূর্বক পৌরসভার চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করতে হবে।

ওএস/জেডএস

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও