ইসি-সচিবালয় দ্বন্দ্ব: সিইসির কাছে সমাধান চান নির্বাচন কমিশনাররা

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ইসি-সচিবালয় দ্বন্দ্ব: সিইসির কাছে সমাধান চান নির্বাচন কমিশনাররা

মো. হুমায়ূন কবীর ১১:৩৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০১৯

ইসি-সচিবালয় দ্বন্দ্ব: সিইসির কাছে সমাধান চান নির্বাচন কমিশনাররা

নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন কমিশন সচিবলয়ের দ্বন্দ্ব দিন দিন প্রকাশ পাচ্ছে। সম্প্রতি ইসি সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের ১২তম ও ২০তম গ্রেডভূক্ত শুন্যপদের নিয়োগের অনিয়ম নিয়ে এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে।

জানা যায়, সম্প্রতি এক সভায় নিয়োগের অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনারের প্রশ্নের উত্তরে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব কমিশনকে জানান, নিয়োগের বিষয় এবং তদসংক্রান্ত ব্যয় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বহিরর্ভূত। বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনারও (সিইসি) সমর্থন করেন।

সিনিয়র সচিব আরও অবহিত করেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়াদি কমিশনের অনুমোদনের প্রয়োজন আছে। নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য বিষয়াদি সিইসির অনুমোদন সাপেক্ষে সচিবালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন।

কিন্তু ইসি সচিবালয়ের এমন কর্তৃত্বের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন চার নির্বাচন কমিশনার। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে এ সকল বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে লিখিত দিয়েছেন।

চার নির্বাচন কমিশনার মনে করছেন, সচিবালয়ের এমন কর্তৃত্ব সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইনের সুস্পষ্ট লংঘন।

চার নির্বাচন কমিশনারের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন- (ক) নির্বাচন কমিশনের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গঠিত। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণে অর্পিত সকল দায়িত্ব পালন করবে। এবং সচিব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিকট দায়ী থাকবেন।

(খ) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য অনুমোদিত বাজেট নির্ধারিত খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় অনুমোদনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হবেন; বরাদ্দকৃত অর্থ যে সকল খাতে ব্যয় হবে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি কমিশনের এখতিয়ারভূক্ত। এবং কমিশন কর্তৃক অনুমোদন আবশ্যক। মাঝে মধ্যে নির্বাচন প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কোন কোন বিষয় উপস্থাপন করা হলেও অন্য কোন আর্থিক বিষয়ে কমিশনকে অবগতও করা হয় না। যাহা নির্বাচন কমিশন আইন, ২০০৯ এর ১৬ ধারার সুস্পষ্ট লংঘন।

(গ) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০০৯ এর ধারা ৪সহ অন্যান্য ধারা বর্ণিত কমিশনের উপর অর্পিত সকল কার্যাদিতে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কমিশনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তদুপরি সচিবালয় এককভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তা গত ১৪ নভেম্বরের কমিশন সভায় সিনিয়র সচিব তুলেও ধরেছেন। যা সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০০৯ ও সংশ্লিষ্ট বিধির সুস্পষ্ট লংঘন।

(ঘ) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের সকল বিষয়ে সংবিধানসহ বিদ্যমান সকল আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হবে। একইসংগে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

সংবিধান, আরপিও, ইসি সচিবালয় আইন ও বিধির আলোকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ওপর কার্যাদির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এর এখতিয়ার প্রসঙ্গে এক লিখিত অভিযোগ সিইসির কাছে রোববার চার নির্বাচন কমিশনার জমা দেন। এতে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছেন। তারা এই সকল বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগপত্রে বলা হয়- নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০১০ এর ৫(১) ধারায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সার্বিক নিয়য়ন্ত্রণ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উপর ন্যস্ত থাকবে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে; এবং একই আইনে ১৪(১) ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যাবতীয় দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য সচিব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিকট দায়ী থাকবেন। আইনের ১৪(২) উপধারা মোতাবেক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারি, নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণে সচিবের নিকট দায়ী থাকবেন....।

বলা হয়েছে-নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০১ এর ১৬ ধারায় বর্ণিত আছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য অনুমোদিত বাজেট নির্ধারিত খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় অনুমোদন ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হবেন।

এইচকে/এআরই

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও