শেখ হাসিনা-মমতার একান্ত বৈঠক সন্ধ্যায়

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেখ হাসিনা-মমতার একান্ত বৈঠক সন্ধ্যায়

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৯

শেখ হাসিনা-মমতার একান্ত বৈঠক সন্ধ্যায়

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় একান্ত বৈঠকে বসবেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফর। তবে মোদি নিজে থাকতে পারছেন না। এমনকি, আগে আসার কথা থাকলেও আসছেন না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এদিনের কলকাতা সফর মূলত ইডেনে ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট ম্যাচ উপলক্ষে।

তবে হাসিনা-মমতার বৈঠক গোলাপি বলে ম্যাচের চেয়ে কম আকর্ষণীয় নয়। কারণ, তিস্তা চুক্তিসহ ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক যে সব বিষয় এখনও অমীমাংসিত তার অনেকগুলোই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত।

মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বৃহস্পতিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের জানান, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বার আমার দেখা হবে। দুপুরে ইডেনে, সন্ধ্যায় তাজ বেঙ্গল হোটেলে, তারপর আবার ইডেনে— সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খবর, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিনিট কুড়ির সৌজন্য সাক্ষাতে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি সম্ভবত তুলছেন না শেখ হাসিনা। তিস্তা নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে ঢাকা। এ বিষয়ে সহমত তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে কয়েক মাস আগে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময়েও মোদি সরকার আশ্বাস দিয়েছে।

তিস্তা নিয়ে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর যে ভিন্নমত রয়েছে, শেখ হাসিনা সে বিষয়ে ওয়াকিবহাল। মমতা বহুবার জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের ‘স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে’ কোনও চুক্তি তিনি চান না। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। এবারে সেই আন্তরিকতাকে আরও বাড়িয়ে তোলা তার উদ্দেশ্য। গত বছর শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। তখন মুখ্যমন্ত্রী তাকে বাংলাদেশের ইলিশ পাঠানোর কথা বলায় হাসিনা বলেছিলেন, ‘আপনি পানি দিন। আমিও ইলিশ পাঠাব।’

তবে আপাতত সৌজন্যের আবহ রেখেই দুই নেত্রী কথা বলবেন বলে উভয় মহলেই খবর। তাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্তার মতে, তিস্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয় শেখ হাসিনা এই সফরে নাও তুলতে পারেন।

তবে একটি বিষয়ে মমতার কাছে কিছু প্রস্তাব শেখ হাসিনা দিতে পারেন। তা হল, কলকাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িগুলো এবং কলকাতায় স্বাধীন বাংলা সরকারের সদর দফতর বলে চিহ্নিত বাড়ির সংরক্ষণ। আগামী বছর শেখ মুজিবের জন্মশতবর্ষ। তার ছাত্রজীবন যেমন এই কলকাতায় কেটেছে, প্রবাসী সরকারের রাজধানীও ছিল কলকাতার একটি বাড়িতে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চান, বাবার স্মারক ভবনগুলোর সঙ্গে ওই বাড়িটিও সংরক্ষণ করে প্রদর্শনশালা করা হোক। এ বিষয়ে একেবারে মৌখিক ভাবে মমতার কাছে শেখ হাসিনা কিছু প্রস্তাব দিতে পারেন।

মমতার জন্য তার প্রিয় হাল্কা রঙের জামদানি শাড়ি ও মিষ্টি নিয়ে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলার শাড়ি উপহার দেবেন মমতাও। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্যও পাঞ্জাবি এবং মিষ্টি আনছেন শেখ হাসিনা।

এসবি

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও