৪৬ মাসে ২০ কোটি টাকা জব্দ করেছে দুদক

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

৪৬ মাসে ২০ কোটি টাকা জব্দ করেছে দুদক

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:৫২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

৪৬ মাসে ২০ কোটি টাকা জব্দ করেছে দুদক

২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে ১৬৫টি ব্যাংক হিসাবের ২০ কোটি ১৮ লাখ টাকা জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এই সময়ে ক্রোক করা হয়েছে ২১টি ভবন, ২৪টি ফ্ল্যাট, ৭৭ একর জমি ও পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি।

রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যান্ড কমব্যাটিং ফিন্যান্সিং অব টেরিরিজম-২০১৯-২০২১’ শীর্ষক আলোচনা সভায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এসব তথ্য জানান।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের মানি লন্ডারিং মামলায় ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্ত ৫৮৪.৪৬ কোটি টাকার সম্পদ পুনরুদ্ধার করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত ঝুঁকি শনাক্তকরণের জন্য দুদক বিএফআইইউ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহযোগিতায় তিনবার ন্যাশনাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করেছে। ওই অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে দুর্নীতিকেই মানি লন্ডারিংয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল রিকোয়েস্ট অ্যাসিসটেন্সের মাধ্যমে দুটি মানি লন্ডারিং মামলায় ১৬ মিলিয়ন হংকং ডলার এবং ০.৮০ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড যথাক্রমে হংকং ও বৃটেনে জব্দ করা হয়েছে। এই অর্থ পুনরুদ্ধারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর আগেও ২.০৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার এবং ০.৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুনরুদ্ধার করে দেশে আনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএফআইইউ কখনো কখনো একই রিপোর্ট একাধিক এজেন্সিকে দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে একই অভিযোগ একাধিক সংস্থা তদন্ত করলে ভুল বোঝাবুঝির যেমন সৃষ্টি হতে পারে তেমনি সময় ও কর্মঘণ্টার অপচয়ও হয়। ফলে সার্বিকভাবে মানি লন্ডারিং বিরোধী তৎপরতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদক বিশ্বাস করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং হয়- বাণিজ্য কার্য প্রক্রিয়ায় ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিং। গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটিসহ বিভিন্ন সংস্থার বৈশ্বয়িক সূচকে দেখা যায়, প্রায় শতকরা আশিভাগ মানি লন্ডারিং হয় বাণিজ্য কর্ম প্রক্রিয়ায়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মানি লন্ডারিং জাতির এক নম্বর শত্রু। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সোনালী ভবিষ্যতের জন্য এর প্রতিরোধ করতে হবে।’

এফএ/এসবি

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও