নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গাঁ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গাঁ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৯:০৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গাঁ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে মন্তব্য করায় বিষয়ে সব দোষ নিজের ঘাড়ে নিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে সবার কাছে নিঃশর্তভাবে করজোড়ে ক্ষমা চেয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ।

সাবেক এই স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যদি কোনো রকমের ভুল করে থাকি তার জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি, নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। আমার কোনো ভুল ত্রুটি হলে সবাই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ২৭৪ বিধিতে নিজের কৈফিয়ত দিতে গিয়ে একথা বলেন তিনি।

তাদের নিয়ে মন্তব্য করার প্রেক্ষিতে এর আগে মঙ্গলবার তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি আসে সংসদ থেকে।

কোনো কোনো এমপি তাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কারও চান। আর জাতীয় পার্টির কয়েকজন সিনিয়র নেতারা বলেন, এটা তাদের দলীয বক্তব্য নয়।

এর প্রেক্ষিতে মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেন, ‘জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ একটি গণতন্ত্র দিবস পালন নিয়ে আমাদের একটা সংক্ষিপ্ত পরিসরে অনুষ্ঠান ছিল। একই দিনে নূর হোসেন দিবস নিয়ে একটি আলোচনা ছিল। পুরাতন ঢাকা থেকে আমাদের কিছু লোক আসার সময় নূর হোসেন চত্বরে গালাগালি করে। বলা হয়- এরশাদের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে। এসব কিছু কথাবার্তা শোনার পর আমাদের অফিসে এসে তারা আমাদের বলেন। আমি দলের মহাসচিব হিসেবে তাদেরকে শান্ত থাকতে বলি।’

তার এ বক্তব্যের সময় সংসদে উপস্থিত অনেক এমপি হৈ-হুল্লোড় করতে থাকেন। উত্তেজিত এমপিদের উদ্দেশে রাঙ্গাঁ বলেন, ‘কোনো মন্তব্য করার আগে আমারটা শুনুন।’

এসময় সংসদের সভাপতিত্বে থাকা স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘সংসদ সদস্য আপনি বলতে থাকুন, আপনি বলুন।’

এরপর রাঙ্গাঁ বলেন, ‘আমাদের সাবেক সিনিয়র মন্ত্রী মহোদয় সংসদে এই নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমার স্থানীয় সরকারের সাবেক সিনিয়র মন্ত্রীও আলোচনা করেছেন মঙ্গলবার সংসদে।  আমি মনে করি তারা আমাকে শাসন করেছেন। আমি এটা ভুল করেছি এবং ভুল করার জন্য আমি তার (নুর হোসেন) পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। এমনকি বিবৃতিও দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সংসদে ৩৭ বার প্রশ্নের জবাব দিয়েছি। সে সময় অসংখ্যবার আমি জাতির পিতাকে নিয়ে কথা বলেছি। এ সময় জয় বাংলা বলেছি। তাই জাতির পিতা নিয়ে যদি কোনো রকমের ভুল করে থাকি তার জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি, নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি।

রাঙ্গাঁ আরো বলেন, ‘আমরা মহাজোটের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছি ২০১৪ সালে। আমি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সারা দিনরাত পরিবহন সেক্টর সচল রাখার জন্য কাজ করেছি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতিবাজ বা সন্ত্রাসবাদ বলিনি। আমি বলেছি এই সময়ে বিশ্বজিৎ হত্যা হয়েছে। তারও বিচার হয়েছে। আমি যেটা বলেছি তাহলে ১৯৯০ সালে পর যখন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসলেন তখন কৃষকদের হত্যা করা হয়েছিল। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল সেসময়ের বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা হত্যার জন্য। বিদেশ থেকে সেই সময় অস্ত্র নিয়ে আসা হয়েছিল বাংলাদেশে। এই কথাগুলো কিন্তু আমি বলেছি। এর রেকর্ড রয়েছে। এরপরও আমি নিঃস্বার্থভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি অবশ্যই আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।’

‘সংসদে আমার কলিগ আছেন তারাও এটা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি হয়তো আমার দল ক্ষমতায় আসলেও আমি মন্ত্রী হতে পারতাম না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রী করেছেন। তিনি আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। আমি মনে করি সেই সম্পর্ক তাঁর সঙ্গে আমার থাকবে।’ যোগ করেন তিনি।

মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেন, ‘আমি এখানে কাউকে কটাক্ষ করে কিছু বলতে চাই না। সমস্ত দোষ আমার ঘাড়ে নিচ্ছি। আমার হয়তো ভুল ত্রুটি হতে পারে। আমি তিনদিন যাবত জ্বরে ভুগছি। তাই দুইদিন আমি সংসদে আসতে পারিনি। আমি কালকে সংসদে আসলে কালকেই জবাব দিতে পারতাম। তারপরও আমি বিশ্বাস করি নূর হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা গুলি করি কিংবা এরশাদ সাহেব গুলি করে মারুক কিংবা  না মারুক এটা তো সত্য তিনি মারা গেছেন। আমি তার পরিবারের কাছে পত্র দিয়েও ক্ষমা চেয়েছি।  সুতরাং আমি মনে করি এখানকার মন্ত্রী-এমপিরা আমার কোনো ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করে দেবেন।’

এইচকে/এইচআর

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও