‘ভাই আমার ছেলেকে দেখছেন?’

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

‘ভাই আমার ছেলেকে দেখছেন?’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ৪:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৯

‘ভাই আমার ছেলেকে দেখছেন?’

আলমগীর মিয়া হবিগঞ্জের ঠিকাদারি ব্যবসা করেন। ছেলে ইয়াছিন (১০) কে সাথে নিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে উদয়ন এক্সপ্রেসে চট্রগ্রাম যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাদের যাওয়া আর হলো না। পথে কসবার মন্দবাগে ঢাকাগামী তুর্ণা এক্সপ্রেসের সাথে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। এতে মারা যায় ১৬ জন ট্রেন যাত্রী। এসময় আহত হয় আলমগীর মিয়া সহ প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ।

তাদেরকে উদ্ধার করে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। এসময় গুরুতর আঘাত পেয়ে অচেতন ছিলেন ঠিকাদার আলমগীর।

সদর হাসপাতালে চিকিৎসার পর জ্ঞান ফেরে আলমগীরের। তখন আলমগীর তার পাশে তার ১০ বছরের ছেলে ইয়াছিনকে দেখতে পাননি। ছেলেকে না পেয়ে পাগলপ্রায় তিনি। যাকে সামনে দেখছেন, জিজ্ঞেস করছেন 'আমার ছেলেকে কোথাও দেখেছেন'।

এই প্রতিবেদক হাসপাতালে গেলে তার কাছেও প্রাণপ্রিয় ছেলে ইয়াছিনের খোঁজ জানতে চান এই বাবা। আলমগীর জানান, তার বাড়ি হবিগঞ্জের মওলা এলাকায়। দুর্ঘটনার পর তিনি কিছু বলতে পারছেন, তার ছেলে কোথায়।

ঠিকাদার আলমগীরের মতো দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনে থাকা যাত্রীদের অনেক স্বজন এসে ভীড় করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে। খোঁজ করছেন স্বজনদের। অনেকে আবার খোঁজ পেয়েও গেছেন। কেউ আবার খোঁজ না পেয়ে কসবার মন্দবাগে ছুটে যাচ্ছেন। কেউ খোঁজ নিচ্ছেন লাশ ঘরে।

শ্রীমঙ্গল থেকে আসা আবুল খায়ের জানান, আমার ভাইকে গতকাল রাতে উনয়ন এক্সপ্রেসে চট্রগ্রাম যাওয়ার জন্য উঠিয়ে দিয়েছিলাম। ভোরবেলা জানতে পারলাম উদয়ন এক্সপ্রেস এক্সিডেন্ট করেছে। ভাইয়ের মোবাইলে কল দিয়ে অনেক চেষ্টা করেছি খবর নিতে। কিন্তু মোবাইল বন্ধ পেয়েছি। তাই ভাইয়ের খোঁজে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতালে আসলাম। এখনো তার কোনো খোঁজ পাইনি।

এআর/

আড়ও পড়ুন...
গভীর রাতে কান্নার রোল, ছড়িয়ে ছিটিয়ে রক্তাক্ত শরীর (ভিডিও)
শিশু মাহিমা খুঁজছে মাকে, হাসপাতালে বাবা
‘সোহা মনি যে বেঁচে নেই, জানে না বাবা-মা’

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও