জাবি ইস্যুতে ‘বালকসুলভ’ আচরণে প্রধানমন্ত্রীর তিরস্কার

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জাবি ইস্যুতে ‘বালকসুলভ’ আচরণে প্রধানমন্ত্রীর তিরস্কার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ২:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

জাবি ইস্যুতে ‘বালকসুলভ’ আচরণে প্রধানমন্ত্রীর তিরস্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ইস্যুতে ‘বালকসুলভ’ আচরণের তিরস্কার করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের ১৩তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তিরস্কার করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকে বলেন, আমরা নাকি বিশ্ববিদ্যালয় ধারণাই বুঝি না। অর্থ সরকার দেবে, সব রকম উন্নয়ন প্রকল্প সরকার করবে, আর সরকার সেখানে কোনো রকম ব্যবস্থা নিতে পারবে না, সেটা হতে পারে না। কথায় আছে- স্বাধীনতা ভালো তবে সেটা বালকের জন্য নয়।’

প্রসঙ্গত, জাবিতে ভিসির দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলন চলছে। এ নিয়ে টিভি-টকশো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব জায়গায় সমালোচনা চলছে। অনেকে এই ইস্যুতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেছেন।

সমালোচনাকারীদের বক্তব্যকে ‘বালকসুলভ’ আচরণ বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার পরিবেশ ও সময় নষ্ট করবেন, এটা হবে না। এটা মেনে নেয়া যায় না। কথা নাই, বার্তা নাই, যেকোনো সময় একটা অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমে যায়! সরকার কোনো ব্যবস্থা নিলে আবার সমালোচনা হয়!’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যদি কোনো ব্যবস্থা না নিতে পারে। নিজেরাই নিজেদের অর্থ যোগান দেবেন। বেতন-ভাতা ও উন্নয়ন প্রকল্প নিজেদের টাকায় করবেন। কেননা এটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। নিজের মতো চলে, তো নিজের টাকায় চালান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, টাকাও পাবলিক দেবে। সরকার দেবে কেন? সরকার সব বন্ধ করে দেবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণ না হলে অভিযোগকারীর শাস্তি হয়, এটা আমার দেশের আইনে আছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়েরও তো একটা আইনকানুন আছে। যখন যা মন চাইবে তাই করবেন? আমরাও তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েই এখানে এসেছি।’

শ্রমিক লীগের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের কল্যাণে নেয়া পদক্ষেপগলো তুলে ধরেন। এ ছাড়া তিনি ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষায় সবার দোয়া চেয়েছেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এতে যেন ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সেজন্য সবাই দোয়া করেন। আল্লাহ যেন সবাইকে নিরাপদ রাখেন। তবে এর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা ও পরবর্তী ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এর আগে বেলা ১১টার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী এসে শান্তির পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এর পর কুরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান ও বিদেশি শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।    

এসইউজে/আরপি

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও