পেঁয়াজের লাগাম টানতে আসছে বড় চালান  

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

পেঁয়াজের লাগাম টানতে আসছে বড় চালান  

শাহাদাৎ স্বপন ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৯

পেঁয়াজের লাগাম টানতে আসছে বড় চালান  

বেশকিছুদিন ধরেই পেঁয়াজের দামের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না সরকার। কোন কৌশলই যেন কাজে আসছে না। নানা সময় সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মুখে শোনা গেছে তাদের অপারগতার কথাও। ব্যবসায়িদের কারসাঁজির বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। কিন্তু আজও সাধারণ মানুষদের প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

এই অবস্থায় বাধ্য হয়েই পেঁয়াজের বড় চালান আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে ১০ যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে ১০টি মনিটরিং টিম করে করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রী।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেছেন, দেশের রুট লেভেলে ফিজিক্যালি গিয়ে আরদগুলোসহ দেশের পেঁয়াজ প্রবেশ পথগুলো পর্যন্ত ভিজিট করবে। যদি কোন ব্যবসায়ি পেঁয়াজের উচ্চ মূল্য পাওয়ার আসায় স্টক রাখার চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং এর দায়িত্বে থাকা ‍যুগ্মসচিব মোছাম্মাদ কামরুজ্জামান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, নতুন পেঁয়াজ আমদানির পর সেগুলো ভোক্তা পর্যন্ত যথাযথভাবে যাতে পৌঁছে তার জন্য সব ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আশা করছি দু'একদিনের মধ্যেই পেঁয়াজের যে বড় চালান আসছে তাতে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। এছাড়া পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মন্ত্রণালয়ের ৪টি টিম প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালাচ্ছে।

মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, মিসর ও তুরষ্কসহ কয়েকটি দেশ থেকে দুই একদিনের মধ্যে পেঁয়াজের বড় এই চালান দেশে পৌঁছাবে। এ পেঁয়াজ বাজারে আসলে মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এছাড়া নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে বলে ধারনা করছেন তারা। এর সঙ্গে ভারতও তাদের পেঁয়াজ রফতানি শুরুর একটা সম্ভাবনার বার্তা সরকারকে দিয়ে রেখেছে।

এদিকে ভারতের মহারাষ্ট্র ও অন্য এলাকায় বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এজন্য কিছুদিন আগে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইস (এমইপি) নির্ধারন করে দেয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত কর্তৃপক্ষ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে দেয়। বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ মায়ানমার থেকে এলসি এবং বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি মিশর ও তুরস্ক থেকেও এলসি’র মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করা হয়। সম্প্রতি মায়ানমারও পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু এর তেমন কোন প্রভাব বাজারে না পড়ায় বড় আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

সম্প্রতি পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পর থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পেঁয়াজ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে বেশ কয়েকবার সভা করা হয়। নিয়মিত ভাবে আমদানিকারকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আমদানি বৃদ্ধি এবং নৈতিকতার সাথে ব্যবসা পরিচালনার অনুরোধ করা হয়েছে। এরপরও কোন ব্যবসায়ী অবৈধ পেঁয়াজ মজুদ, কৃত্রিম উপায়ে মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা, স্বাভাবিক সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রতিদিনই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে দেশের বেশ কয়েকটি বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে সিটি গ্রুপসহ বেশকিছু গ্রুপ কোম্পানী মিশর ও তুরষ্ক থেকে বেশি পরিমানে পেঁয়াজ আমদানি করছে। দু’একদিনের মধ্যে এ পেঁয়াজের বড় ধরনের চালান দেশে পৌছাঁলে দ্রুত মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাফর উদ্দীন।

এ বিষয়ে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি দেশ থেকে বড় কিছু চালান আসছে। দু'একদিনের মধ্যেই চালানগুলো দেশে আসবে। সেগুলো দেশের বাজারে আসলেই পেঁয়াজের দাম কমে যাবে। তাছাড়া টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে আমরা বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা সবকিছুই তদারকি করছি। বাজারগুলোতেও অভিযান অব্যাহত আছে। তবে শিগগিরই দাম কমে যাবে বলে আশা করছি।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা যায়, আজ বুধবার বেলা ৩টার দিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কীত সংসদীয় কমিটির সভা করবে মন্ত্রণালয়। সেখানে পেঁয়াজের দামিই হবে প্রধান এজেন্ডা। পেঁয়াজের বড় চালান আমদানিসহ দেশীয় বাজারে পেঁয়াজ পরিকল্পিত ও কৃত্তিমভাবে দাম বৃদ্ধির বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পেঁয়াজের বড় চালান আসার পরে যাতে ব্যবসায়িরা তা আটকে রেখে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে সেজন্য নির্ধারন করা হবে নানা কৌশলও।

সুত্র জানায়, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার পরেও মিশর, তুরস্ক, দুবাই ও মায়ানমারসহ বেশকিছু দেশ থেকে যে পরিমান পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে তাদের ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ রাখলেও কোন প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে পড়ার কথা নয়। কিন্তু পেঁয়াজের দাম কোনভাবেই কমছে না। এই বিষয়টি নিয়েও সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এসএস/এমকে 

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও