সংশোধন হচ্ছে শিক্ষার্থীদের অনুদান নীতিমালা

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

সংশোধন হচ্ছে শিক্ষার্থীদের অনুদান নীতিমালা

শাহাদাৎ স্বপন ১:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

সংশোধন হচ্ছে শিক্ষার্থীদের অনুদান নীতিমালা

‘অর্থের অভাবে শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেওয়া ‘অনুদান নীতিমালা- ২০১৭’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১৭ সালে করা এই নীতিমালা মাত্র ২ বছরের মাথায় এসে হচ্ছে সংশোধন।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, অনুদানের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্তর ভিত্তিক বন্টন নিশ্চিত করতেই নেওয়া হচ্ছে এ উদ্যোগ।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এমনকি শিক্ষক ক্যাটাগরিতে বেসরকারি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারেন। শিক্ষকরা দূরারোগ্য ব্যাধি ও দুর্ঘটনার জন্যও পেয়ে থাকে সরকারি এই অনুদান।

আর এ সংক্রান্ত ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানের জন্য অনুসরণীয় নীতিমালা’ প্রনয়ণ করা হয় ২০১৭ সালে। মন্ত্রণালয় বলছে, এই নীতিমালা সংশোধনের ফলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনুদানের অর্থের বিতরণ শ্রেণি ভিত্তিক সমন্বয় নিশ্চিত হবে।  

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: বেলায়েত হোসেন তালুকদার (বিশ্ববিদ্যালয়-১) পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বৃত্তি দেওয়ার মতো শিক্ষার্থী দেশের সব জায়গায় আছে। কিন্তু আমরা মূলত গরীব, মেধাবী ছাত্রদেরই এ অনুদানের জন্য বাছাই করি। সরকার সবসময়ই এ বরাদ্দ বাড়াতে চেষ্টা করে এবং সেটি ধাপে ধাপে বাড়ছে।

তিনি জানান, নীতিমালা সংশোধনের বৈঠকে বিশেষ অনুদানের ক্ষেত্রে মোট বাজেটের কত পার্সেন্ট কোন লেভেলে দেওয়া হবে সেটি নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। এতে শুধুমাত্র পর্যায়ভিত্তিক শিক্ষার্থীদের যে সংখ্যাটি রয়েছে সেটি পুনর্বিন্যাস করা হবে

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে থেকে জানা যায়, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানের জন্য অনুসরণীয় নীতিমালা-২০১৭’ অনুযায়ী আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির ৩৫ শতাংশ, ৯ম ও ১০ শ্রেণির ৩৫ শতাংশ, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ২০ শতাংশ এবং স্নাতক ও তদুর্ধ্ব পর্যায়ের ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী এ অনুদান পেয়ে থাকে।

সে অনুযায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চারটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের এ অনুদানের টাকা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির ২ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। আর ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণির ২ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী বিশেষ অনুদানের ১ কোটি ৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। তারা প্রত্যেকে ৫ হাজার করে টাকা পাবেন।

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ১ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে ৬০ লাখ টাকা, স্নাতক থেকে তদুর্ধ্ব শ্রেণির ৪২৮ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৭ হাজার করে ২৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বিশেষ অনুদান দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ২০০ শিক্ষককে বিশেষ অনুদানের টাকা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস নগদের মাধ্যমে এ টাকা দেয়া হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিশেষ অনুদান খাতে বরাদ্দ শুরুতে ২ কোটি টাকা থাকলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৪ কোটি টাকা করা হয়। আগামী অর্থ বছরে আরো দুই কোটি টাকা বাড়িয়ে ৬ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হবে। তবে অনুদানের মধ্যে শিক্ষার্থীদের চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে স্নাতক ও তদুর্ধ্ব পর্যায়ে আবেদন পড়ে বেশি। কিন্তু নীতিমালা অনুযায়ী এই ক্যাটাগরিতে ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় সেখানে অনেক আবেদনকারীই অনুদান পান না।

সেটি বিবেচনায় নিয়ে স্নাতক থেকে তদুর্ধ্ব শ্রেণির জন্য বরাদ্দ বাড়াতে নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২৭ অক্টোবর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানের জন্য অনুসরণীয় নীতিমালা সংশোধন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় অনুদানের জন্য স্নাতক ও তদুর্ধ্ব পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ ফজলুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানের জন্য অনুসরণীয় নীতিমালায় অনার্স-মাস্টার্স লেভেলে পার্সেন্টেজ কিছুটা কম আছে। ফলে যে পরিমাণ আবেদন পড়ে তার মধ্য থেকে মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে অনুদান দেওয়া হয়। সেজন্য ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যে অনুদান রয়েছে সেখান থেকে আমরা সমানুপাত করব।

তিনি বলেন, কারণ প্রতি বছরই অনুদানের জন্য বরাদ্দ বাড়ছে। আমরা শুরুতে দুই কোটি বরাদ্দ পেয়েছিলাম। গত বছরও বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি টাকা, এবার বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা। তাই অনার্স-মাস্টার্স লেভেলে এর পরিমাণ কীভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়েই ২৭ অক্টোবর সভায় আমরা আলোচনা করব।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অনুদান প্রাপ্তির জন্য আগ্রহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে স্ব-স্ব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবরে আবেদন দাখিল করতে হয়। পরে জেলা প্রশাসকরা তিনটি শ্রেণিতে প্রাপ্ত আবেদন নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক ক্যাটাগরি, প্রতিটি ক্ষেত্রে, সর্বোচ্চ পাঁচটি আবেদন এবং শিক্ষার্থী ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ১৫টি আবেদন সুপারিশ সহকারে চূড়ান্ত বাছাইয়ের জন্য প্রেরণ করেন।

শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচটি, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচটি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তিনটি এবং স্নাতক ও তদুর্ধ্ব পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রে দুইটিসহ মোট ১৫টি আবেদন সুপারিশসহ পাঠাতে পারেন। পরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রাপ্ত আবেদনগুলো বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করে সরকারের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করেন।

বিশেষ অনুদান প্রাপ্তির যোগ্যতা ও শর্তে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি প্রাপ্ত অথবা এমপিওভুক্ত বেসরকারি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারবে। আবেদনকারি প্রতিষ্ঠানের মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র তৈরী, খেলাধুলার সরঞ্জাম, প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করাসহ পাঠাগারের উন্নয়ন কাজের জন্য অনুদান চাইতে পারবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনগ্রসর এলাকার অস্বচ্ছল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিন্তু প্রতিষ্ঠানের লেখাপড়ার মান ভাল, সেসব প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আর বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি সভায় আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ খরচ করতে হবে। অর্থ প্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে অর্থ বিতরণ ও খরচ করতে হবে।

অর্থ ব্যয়ের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্যয়ের প্রতিবেদন প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, এই নীতিমালা সংশোধন হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুদানের অর্থ বরাদ্দের ধারাবাহিকতা এবং উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়ণ হবে।  

এসএস/এএসটি

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও