নবীর বিরুদ্ধে লিখলে অবশ্যই ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

নবীর বিরুদ্ধে লিখলে অবশ্যই ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৯:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

নবীর বিরুদ্ধে লিখলে অবশ্যই ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

ভোলায় মহানবীর (সা.) বিরুদ্ধে কটূক্তি করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে দেশবাসীকে‌ ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, কেউ যেন দেশে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আমি সাধারণ মানুষের কাছে সহযোগিতা চাই। দেশবাসীর কাছে আমার একটাই আহ্বান থাকবে, সকলের ধৈর্য ধরতে হবে। কেউ যদি আমাদের নবী করিম (সা.) বিরুদ্ধে কিছু লিখে থাকে, নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যের ক্ষতি করার জন্য যারা এই ধরনের কথা লিখবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রোববার প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে আওয়ামী যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকপূর্ব সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভোলার বোরহানউদ্দিনে একটি হিন্দু ছেলের ফেসবুকের আইডি হ্যাকিং করা হয়েছে। সেখানে তার নামে কতগুলো মিথ্যাচার করা হয়েছে। যার ফেসবুক হ্যাকিং হয়েছে, তাকে আবার ফোন করে বিশ হাজার টাকাও চেয়েছে। বিশ হাজার টাকা না দিলে তার ফেসবুক আইডিতে এমন সমস্ত কথা লিখবে, সেটা তার জন্য ক্ষতি হবে।’

তিনি বলেন, ‘এরপরই ওই হিন্দু ছেলেটা থানায় গেছে। সে সেখানে একটা জিডিও করেছে। জিডি করা সত্ত্বেও সেখানে তাকে কিন্তু পুলিশ আটক করে রেখেছে। সাথে সাথে যে টেলিফোনটা করেছিল তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ফেসবুক আইডি হ্যাকিং হওয়ার পর ফেসবুক অপারেটরদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তাদের কাছ থেকে আমরা সমস্ত তথ্য জোগাড় করতে পারবো।’

তিনি বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। ফেসবুকে এই হিন্দু ছেলেটার আইডি হ্যাকিং করে তার কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে তার নাম করে যে কথাগুলো লিখেছে, সে তো একজন মুসলমান ছেলে। একজন মুসলমান হয়ে কীভাবে নবী করিম (সা:) নিয়ে এই ধরনের বাজে কথা লিখে? এবং আরেকজনকে জড়াবার চেষ্টা করতে পারে!

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই কথা ধরে সেখানকার একজন পীর সাহেব বেশ কিছু লোককে জড়ো করে। যখন পুলিশ তাদেরকে বোঝাচ্ছে আপনারা এগুলো করেন না, আমরা গ্রেফতার করেছি। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তখন পুলিশের ওপর তারা চড়াও হয়।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশের ওপর চড়াও হলে, পুলিশ নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য একটা ঘরে আশ্রয় নেয়। আশ্রয় নেওয়ার পরও তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। সেখানে একজন এসআইয়ের গায়ে গুলি লাগে। সেই সময় সেখানে এসপি, ডিসি সকলেই পৌঁছে যায়। পুলিশকে রক্ষা করা এবং অন্যান্য সাধারণ মানুষ যারা ছিল সেখানে, যারা তাদেরকে বোঝাতে গিয়েছিল তাদেরকে রক্ষার জন্য গুলি ছোড়ে ফলে বেশ অনেক জন আহত হয়। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু কনফার্ম বলা হয়েছে, আরেকজনের অবস্থা মুমূর্ষু।

তিনি বলেন, সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো, যে আইডিটা হ্যাকিং করলো এই ধরনের ঘটনা ঘটালো আর সেটাকে কেন্দ্র করে যারা কী উদ্দেশ্যে নিয়ে তারা সমবেত হলো এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ করলো তাদের উদ্দেশ্যেটা কী ছিল সেটাই বড় কথা। এরপর থেকে দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার সব জায়গায় ছড়ানো হচ্ছে, অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য। তাহলে এরা কারা? এদের উদ্দেশ্যেটা কী? 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ যদি সত্যিকার ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে। যদি তাদের নবী করিম (সা.) প্রতি এতটুকু সম্মান থাকে! তাহলে আরেকজনের ক্ষতি করার জন্য এই ধরনের জঘন্য কথাটা কীভাবে লেখে? এটাও আমার একটা প্রশ্ন। কাজেই আমি এই ব্যাপারে দেশবাসীকে বলবো, সবাইকে ধৈর্য ধরতে। আর যারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে খুঁজে বের করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ’

তিনি বলেন, উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে দেশে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য এই সমস্ত ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। যখনই দেখা যায় দেশটা একটু ভালোভাবে চলছে, অগ্রগতি হচ্ছে। তখনই একটা শ্রেণি আছে নানা ভাবে একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। এইটা যেন কোনোভাবে করতে না পারে সেই জন্য আমি সাধারণ মানুষ তাদের কাছে সহযোগিতা চাই। দেশবাসীর কাছে আমার একটাই আহ্বান থাকবে সকলের ধৈর্য ধরতে হবে। কেউ যদি আমাদের নবী করিম (সা.) বিরুদ্ধে কিছু লিখে থাকে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যের ক্ষতি করার জন্য যারা এই ধরনের কথা লিখবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। টেকনোলজি মানুষ যেমন ব্যবহার করতে পারে আবার কেউ অপকর্ম করলে সেটা ধরার টেকনোলজিও আছে। এটা ধরা পড়বে। কারণ এই ছেলে যদি টেলিফোন করে টাকাটা না চাইতো তাহলে তাকে খুঁজে বের করা মুশকিল হতো। সে কোথায় ছিল ফোন করে টাকা চাচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করেছে। আরও যারা আছে আমরা তাদেরকে গ্রেফতার করবো। আমরা ফেসবুক অথরিটির সঙ্গে যোগাযোগও করেছি। আরও তথ্য আমরা বের করতে পারবো।

মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় সব জিনিস একেবারে ধারাবাহিক এমনভাবে প্রচার করবেন না যা একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। বরং যারা সত্যিকার অপরাধী তাদেরকে দেখান। কেনো এভাবে আরেকজনের আইডি চুরি করবে, তাকে শেষ করে তার কাছে চাঁদা চাইবে আর টাকা দিতে না পারলে তার নাম করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাবে আর সেটাও চালাবে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে বা মহানবীর বিরুদ্ধে, বরং এই অপরাধীদেরই সনাক্ত করা দরকার এবং তাদেরকে জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার যে ধরনের জঘন্য কাজ তারা করে যাচ্ছে। আমি এটুকুই বলবো এ ধরনের নানা অনেক চক্রান্ত আমার বিরুদ্ধে সবসময় হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল যেমন মানুষ ভোগ করছে, সেরকম এর কুফলও ভোগ করছে। নানা ধরনের বিপদে ফেলে দেয়। এটা যেন বিপদে ফেলতে না পারে অর্থাৎ গুজবে কান না দিয়ে সঠিক বিষয় জেনে নেয়া দরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার যার ধর্ম তার তার কাছে। কাজেই সকল ধর্মের মানুষ এই দেশে সম্মানের সাথে বাস করবে। এটাই আমাদের দেশের একটা নিয়ম এবং এটাই আমরা চাই যে বাংলাদেশ যেন একটা শান্তিপূর্ণ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে ওঠে।

এসইউজে/এসবি

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও