ক্যাম্পাসেও চলবে শুদ্ধি অভিযান: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

ক্যাম্পাসেও চলবে শুদ্ধি অভিযান: প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৯:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

ক্যাম্পাসেও চলবে শুদ্ধি অভিযান: প্রধানমন্ত্রী

আবরার হত্যাকাণ্ডে সারাদেশ আন্দোলনে উত্তাল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মিডিয়ার কাঠগড়ায় ছাত্ররাজনীতি। বিশিষ্টজনসহ বুয়েটের শিক্ষকরা ছাত্রদের আন্দোলনে একাত্ম হয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধে সহমত পোষণ করেছেন।

শিক্ষাবিদ, শিক্ষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, শুদ্ধি অভিযান এখানেও দরকার। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ক্যাম্পাসগুলোতে শুদ্ধি অভিযানের কথা বলেছেন।

বুধবার গণভবনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশন এবং ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ক্যাম্পাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সার্চ করা দরকার। কারা মাস্তানি করছে? ১০/১২ টাকায় রুমে থাকবে, সেখানে বসে এগুলো (অপরাধ) করবে, এটা বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি যায়গায় সার্চ করা হবে। এতে আপনাদেরও (মিডিয়া) সহযোগিতা চাই। এখানে কোনো দল বা মত নাই। অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান।’

তিনি বলেন, ‘একটা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও গ্রাজুয়েট বানাতে সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। এগুলো কি তারা জানে?

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্ররাই নেতৃত্ব দিয়েছে। একটা ঘটনায় তো ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হতে পারে না। এগুলো তো অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক শাসকদের কথা। অনেক প্রতিষ্ঠানে তো রাজনীতি নিষিদ্ধ, বুয়েট চাইলে তাদের ক্যাম্পাসেও নিষিদ্ধ করতে পারে। সেখানে আমরা হস্তক্ষেপ করবো না।’

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন করে সমাধানের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

দলগুলোর অধীনে ছাত্রসংগঠন থাকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগ স্বতন্ত্র সংগঠন। আওয়ামী লীগের বাইরে অন্যগুলোও সহযোগী সংগঠন। অঙ্গ সংগঠন বলতে কিছু নেই। তবে ছাত্রদের গাইড লাইন মূল দল থেকেই দেবে। কারণ একটা নীতি আদর্শের ব্যাপার তো আছে। সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে হয়, কেনো?’

আবরার হত্যার আসামি ধরতে নির্দেশ প্রধানন্ত্রীর, দুর্নীতিবাজদের ধরতে অভিযানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, এমনকি একটা আগুনে নেভানোর গাড়ি পাঠাতেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ লাগে। এটি কেনো, সরকার যন্ত্র তাহলে কি করছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সরকার প্রধান। আমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে তো দেশ চালাই না। কোথাও কিছু ঘটলে আমাকে দেখতে হয়। আমি নিজ থেকেই খবর রাখি, নির্দেশনা দেই। দেশের মানুষের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব তো আমার।’

তিনি বলেন, ‘আগের প্রধানমন্ত্রী তো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেশ চালাতেন। ১২টায় ঘুম থেকে ওঠতেন। আপনাদের সামনে এসে বলতো, ও এটা ঘটেছে? আমি জানি না, আমি তো ভুলেই গেছি। তার ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেশ পরিচালনা দেখতে দেখতে আপনাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন এজন্য এ প্রশ্ন করেন।’

আবরার হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে

আবরার ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে আমি দল দেখি না। অপরাধী অপরাধীই। আবরার হত্যার বিষয়টি শুনে সকালেই আমি পুলিশকে আলামত সংগ্রহ করতে বলেছি। তারা ফুটেজও সংগ্রহ করেছে। এগুলো নিয়ে আসার সময় তাদের ঘেরাও করেছে। তারা বলছে, পুলিশ নাকি সেটা নষ্ট করে ফেলবে, অথচ পুলিশ আলামত সংগ্রহ করছে অপরাধীদের ধরার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘এখানে কে ছাত্রলীগ, কে কী, আমি বিবেচনা করিনি। অবশ্য, এটা ঠিক ক্ষমতায় থাকলে অনেকের মধ্যে শক্তি চলে আসে। আবার কেউ কেউ সব সময় পাওয়ার পার্টি করে। আমি এগুলো দেখিনি, আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। ছাত্রলীগকেও ডেকে নির্দেশনা দিয়েছি। একটা অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। এর বিচার আমাদের করতে হবে, এটাই বুঝি। ফুটেজ দেখে অপরাধীদের ধরা হয়েছে। তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কী অমানবিক! ২১ বছরের এই মেধাবী ছেলেটাকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলল। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আপনারা দেখেছেন? বাইরে কোনো ইনজুরি নেই, ভেতরে সব ইনজুরি। কত জঘন্য? বাপ-মা কত কষ্ট করে মানুষ করেছে, এ পর্যেন্ত নিয়ে আসছে। আমি কাউকে ছাড় দেবো না। সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এগুলো নিয়ে এত কথা বলছে, তারা কী করেছে? তাদের (জিয়া-খালেদা) সময়ে ক্যাম্পসগুলোতে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল। সারাদেশের ক্যাম্পসগুলো অস্ত্রবাজদের দখলে ছিলো। আমি ধীরে ধীরে এগুলোর পরিবর্তন এনেছি। আমার কাছে অন্যায়কারী-অপরাধীর দলীয় পরিচয় মুখ্য নয়। অপরাধ করলে তার বিচার হবে।’

ভারতকে এলপিজি পানি দেয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

সম্প্রতি ভারতে এলপিজি রপ্তানি ও ফেনী নদীর পানি দেয়ায় দেশের স্বার্থ কতখানি সংরক্ষণ হচ্ছে? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলপিজি আমদানিকৃত। এটা বোতলজাত করে আমরা সারাদেশে সরবরাহ করি। সেটাই এখন ত্রিপুরায় দিচ্ছি। এতে তো দেশের কোনো ক্ষতি দেখছি না, বরং অর্থনৈতিকভাবে আমরা লাভবান হবো।’

ফেনী নদী নিয়ে তিনি বলেন, ‘ফেনী নদী সীমান্তবর্তী নদী। সীমান্তবর্তী নদীতে দু’দেশের অধিকবার থাকে। ভারতের ত্রিপুরার একটা এলাকার মানুষের পান করার জন্য তারা স্বল্প পরিমাণ (১.৮২ কিউসেক) পানি চেয়েছে। সেই খাবারের পানি দিচ্ছি। কেউ যদি পানি পান করতে চায়, আমরা যদি না দেই সেটা কেমন দেখায়?’

তিনি বলেন, ‘খাওয়ার জন্য এখন তারা ভূগর্ভস্থ পানি তোলে, যেটা উত্তলনে প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের দেশেও প্রভাব পড়ে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ত্রিপুরা যদি কিছু চায় তাদের দিতে হবে। ’৭১-এ তারা আমাদের লোকদের আশ্রয় দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধের সময় সহায়তা করেছে। সেখান থেকে আমাদের ভালো সম্পর্ক আছে, এটা থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে, এটা কখনো হতে পারে না, হবেও না। ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা ভারতের কাছ থেকে ক্রয় করি। এখন আমরা তাদের কাছে এলপিজি বিক্রি করছি। তাদের সঙ্গে আমাদের সীমান্তবর্তী অনেক নদী আছে, যেগুলো যৌথভাবে ডেজিং করার বিষয়েও আমরা ভাবছি।’

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, “গ্যাস বিক্রির মুছলেকা দিয়ে বিএনপি ২০০১ এ ক্ষমতায় এসেছে। আমি রাজি হইনি বলে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। যারা প্রশ্ন তুলে তারা অতীত ভুলে যায়। তারা দেশের স্বার্থে কী করেছে? ভারত থেকে ফিরে গঙ্গার চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছে, ‘আমি ভুলে গেছিলাম।’ এরকম সবই ভুলে যান।”

এসময় সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রধানমন্ত্রী এটি মালিক ও সাংবাদিকদের বিষয়ে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এটা তো আপনাদের (সাংবাদিক) আর মালিকদের বিষয়। আমাদের যেটা করার, করে দিছি। তারপরেও তথ্যমন্ত্রীকে বলবো এটা দেখতে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্যাসিনোতে যারা যেতে চায় বা জুয়া খেলায় যারা অভ্যস্থ হয়ে গেছে, এখন নাকি দেশ ছাড়তে চায়- তারা চাইলে তাদের জন্য বড় দ্বীপের মতো আলাদা এলাকা করে দেবো। ভাসানচর আছে, আরও অনেক জায়গা তো আছে। তারা সেখানে গিয়ে এগুলো করবে। লাইসেন্স করে দেবো, আমাদের রেভিনিউ আসবে। লাভ হবে। তারাও দেশেই থাকলো। ভাসানচর তো অনেক বড় এলাকা, রোহিঙ্গা আর তারা পাশাপাশি থাকলো!’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা ও আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এসইউজে/এইচআর

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও