গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১০ ধরনের দুর্নীতি: দুদক

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১০ ধরনের দুর্নীতি: দুদক

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১০ ধরনের দুর্নীতি: দুদক

গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১০ ধরনের দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। দুদক এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ২০টি সুপারিশ দিয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে এ বিষয়ে দুদকের করা প্রতিবেদন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের হাতে তুলে দেন প্রতিষ্ঠানটির কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান।

দুদকের প্রতিবেদনে দুর্নীতির উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে- টেন্ডার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি। এরমধ্যে রয়েছে যথাযথভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করা, অপছন্দের ঠিকাদারকে নন রেসপন্সিভ করা, অস্বাভাবিক মূল্যে প্রাক্কলন তৈরি, ছোট ছোট প্যাকেজে প্রকল্প প্রণয়ন, টেন্ডারের শর্তানুসারে কাজ বাস্তবায়ন না করা।

এছাড়া নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, প্রকল্প প্রণয়ন, তদারকি, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কাজে ধীরগতি, প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ কম, অনাবশ্যক প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, স্থাপত্য ও কাঠামোগত নকশা চূড়ান্তে বিলম্ব, প্রত্যাশী সংস্থার প্রয়োজন মতো জরুরি ভিত্তিতে কার্য সম্পাদন না করা, সেবা প্রদানের বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসহযোগিতা, সময়মতো ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ না করা এবং বরাদ্দ থাকার পরও ঠিকাদারদের আংশিক বিল পরিশোধ করার বিষয়টিকে দুর্নীতির উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুদক।

এসময় দুদক কমিশনার বলেন, দুদক ২৫টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি অনুসন্ধানে কাজ করছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আলাদা টিম কাজ করছে। টিমগুলো ওইসব প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা-সক্ষমতা, কাজের গাফিলতি, দুর্নীতিপ্রবণ জায়গাগুলো, কোন কোন ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করলে দুর্নীতি রোধ করা যায় সেই বিষয়গুলো পরীক্ষা করে প্রতিবেদন তৈরি করে। ২৫টির মধ্যে আজকের প্রতিবেদনটি ১৫তম। এই প্রতিবেদনের মূল বিষয় হচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

তিনি বলেন, এই প্রতিবেদনটি এক ধরনের গাইডলাইন, এক ধরণের পর্যবেক্ষণ, এক ধরনের সংক্ষিপ্ত জরিপ। এই কাজটি করতে এই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্টেক হোল্ডার, ঠিকাদার এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন, এই মন্ত্রণালয়ের অডিট রিপোর্ট, বার্ষিক প্রতিবেদন সবকিছু পর্যালোচনা করা হয়েছে। এটি একটি যৌক্তিক প্রতিবেদন।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, দুদকের প্রতিবেদনটি আমাদের কাজের গতি বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা আনতে এবং জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি- এই গাইডলাইকে আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবো। যদি তদন্ত কমিটি করা লাগে, ডমেস্টিক কমিটি করা লাগে, পদ্ধতি পরিবর্তন করা লাগে, যা কিছু করা লাগে এই রিপোর্টটাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করবো।

এফএ/এসবি

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও