রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সতর্ক ইসি, অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সতর্ক ইসি, অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা

মো. হুমায়ূন কবীর ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সতর্ক ইসি, অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা

গত ১০ সেপ্টেম্বর উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা ১৪ রোহিঙ্গাকে আটক করে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানা পুলিশ।

রোহিঙ্গাদের ভোটার হতে ‘মরিয়া’ পরিস্থিতির মধ্যে চলমান ভোটার তালিকা হাল-নাগাদের নিবন্ধন কাজে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে মাঠপর্যায়ে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেইসঙ্গে দেশের সব উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসের সার্ভারের বিদ্যমান পাসওয়ার্ড ও কোড নম্বর পরিবর্তন করে নতুন ‘সিকিউরিটি ফিচারস’ সন্নিবেশ করেছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে ইসি সচিব মো. আলমগীর জানান, রোহিঙ্গাদের ভোটার হতে অপতৎপরতা রোধে মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভোটার করতে কারো সংশ্লিষ্টতা পেলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে। ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্যরা জড়িত থাকলে বিভাগীয় মামলা করা হবে।

জানা যায়, ইসি সচিব মো. আলমগীর বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নানের কাছে চিঠি দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, সারাদেশে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ভোটার নিবন্ধন করা হবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত ‘বিশেষ এলাকায়’ নিবন্ধনের জন্য পাওয়া আবেদনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই, অনুসন্ধান, পরিদর্শনের পর নিবন্ধন কেন্দ্রে ভোটারযোগ্য ব্যক্তিদের ছবি তোলা ও আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করা হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটিসহ ৩২ উপজেলার ‘বিশেষ এলাকা’র সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের টিম রয়েছে। নিবন্ধন কাজে রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার হতে না পারে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে ইসি। তবুও রোহিঙ্গারা বিভিন্ন কৌশলে ভোটার হওয়ার জন্য নানা রকম অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ আসছে।

বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া চিঠিতে ইসি সচিব আরো বলেন, এ অপচেষ্টা রোধে ইসি মাঠ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা দিতে নির্দেশা দিয়েছে।

ইসির উপ-সচিব আব্দুল হালিম খান বিশেষ এলাকার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আলাদা চিঠিতে বলেছেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় রোহিঙ্গারা ভোটার হতে নানা পন্থা অবলম্বনের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। প্রতিটি বিশেষ ফরম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে ইসির নির্দেশনা সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।

আলাদা চিঠিতে সব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়ে কারো কোনো রূপ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে এবং তদন্তে তা প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে ফৌজদারি মামলা দায়েরের ব্যস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের ভোটার হতে যদি কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তাদের স্বপক্ষে সহযোগিতা বা মিথ্যা তথ্য দেয় বা মিথ্যা কাগজপত্র সরবরাহ করে; তাদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান চালায় বার্মিজ আর্মি। ইতিহাসের ভয়াবহতম ওই অভিযানের শিকার হয়ে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বাংলাদেশ মানবিক কারণে তাদের ওই সময় আশ্রয় দেয়।

কিন্তু রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার পাঁয়তারা করছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশ হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করছে নির্বাচন কমিশন।

এইচকে/আরপি

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও