শুধু ডেঙ্গুই আমাকে কাবু করেছে: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

শুধু ডেঙ্গুই আমাকে কাবু করেছে: অর্থমন্ত্রী

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৯:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৯

শুধু ডেঙ্গুই আমাকে কাবু করেছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘৭৩ বছরের জীবনে কেবল ডেঙ্গুই আমাকে কাবু করেছে। ডেঙ্গু জ্বর থেকে মুক্তির পর আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।’

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর আইডিইবিতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বয়স অনেক হয়েছে। কেউ আমাকে কাবু করতে পারেনি। একমাত্র ডেঙ্গু আমাকে কাবু করেছে। বাজেটের দু’দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হই। বাজেট উপস্থাপনের দিন ৭ মিনিট আমার জ্ঞান ছিল না। ওই ৭ মিনিটি কিভাবে কেটেছে আমি তা মিলাতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর আগে দু’টি যুদ্ধ রেখে গেছেন। একটি হচ্ছে রক্তাক্ত যুদ্ধ, যার মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই যুদ্ধে ৩০ লাখ নারী-পুরুষ শহীদ হয়েছেন, দুই লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। জীবন দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যসহ জাতীয় চার নেতা।’

মুস্তফা কামাল বলেন, আর একটি যুদ্ধ তিনি রেখে গেছেন, ‘সেটি হলো সোনালী যুদ্ধ। যারা প্রথম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তারা সেই রক্তের ঋণ শোধ করতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে একসঙ্গে কাজ করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘জাতীর পিতা সারা জীবন স্বপ্ন দেখেছেন এ দেশের মানুষের অর্থনীতির মুক্তির। এ দেশের মানুষকে তিনি অনেক ভালোবেসেছিলেন, ভালোবাসতেন। সে জন্য তিনি কোনো কাজ অসমাপ্ত রেখে যাননি। বঙ্গবন্ধু শুধু একটি নাম না, তিনি বিশ্বাসের নাম, একটি দেশের নাম, একটি পতাকার নাম।’

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকির সঙ্গে নিজের বয়সের তুলনা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আরেফিন সিদ্দিকি সাহেব আমার থেকে বড়। কিন্তু আমি ওনার থেকে অনেক বড়। বয়সের দিক থেকে আমি বড়। কারণ তিনি ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। আর আমি ১৯৬৮ সালে মাস্টার্স শেষ করেছি।’

১৫ আগস্ট হত্যা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করতে একটি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে তাদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দেয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে তাদেরকে বর্জন করার আহ্বান জানিয়ে আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রোগ্রামে জাতির পিতার থাকার কথা ছিল। আমি সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। শেখ হাসিনাও তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। আমাদের উপাচার্য শেখ হাসিনাকে ১৫ আগস্টের প্রোগ্রামে থাকার জন্য বলেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে শেখ হাসিনার স্বামী ওয়াজেদ মিয়া প্রশিক্ষণের জন্য জার্মানিতে ছিলেন। তিনি (ওয়াজেদ মিয়া) স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে রাখার জন্য আলাদা বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। ওয়াজেদ মিয়া বার বার শেখ হাসিনাকে ফোন করছিলেন সেখানে যাওয়ার জন্য। কিন্তু উপাচার্য ১৫ আগস্টের প্রোগ্রাম পর্যন্ত থেকে যাওয়ার কথা বলায় তিনি (শেখ হাসিনা) দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে তিনি বঙ্গবন্ধুর কাছে বিষয়টি বলেন। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনাকে বলেন- ‘জামাই যা বলে তাই কর’। এরপর ১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনা জার্মানির উদ্দেশে রওনা হন।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এনবিআরের সদস্য কালিপদ হালদার ও সুলতান মাহমুদ ইকবাল।

এফএ/এইচআর

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও