মানুষের সেবার জন্য নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব দুটোই লাগে : ডেপুটি স্পিকার

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

মানুষের সেবার জন্য নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব দুটোই লাগে : ডেপুটি স্পিকার

যশোর ব্যুরো ৫:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৯

মানুষের সেবার জন্য নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব দুটোই লাগে : ডেপুটি স্পিকার

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। সমাজের অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ‘কমিউনিটি সার্ভিস’-এর অংশ হিসেবে শনিবার ক্যাম্পাসে এ ফ্রি হেল্থ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এবারের হেলথ্ ক্যাম্পে প্রায় ৪ হাজার রোগী চিকিৎসা ও ওষুধ সামগ্রি পেয়েছেন।

সকালে ক্যাম্প উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব দুটোই থাকা লাগে। আমাদের নেতৃত্ব থাকলেও কর্তৃত্ব নেই। এটা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা আছে বলেই এমন  ফ্রি হেলথ ক্যাম্প আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। মানবতার সেবায় এমন ফ্রি হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন বাংলাদেশের অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য দৃষ্টান্ত। সকলে যদি এ ধরনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে গরিব-দুঃখী মানুষেরা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে না।

১৫ আগস্ট আমরা যে শোক দিবস পালন করি, এ ধরনের আয়োজনে এর সার্থকতা আসবে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়েছে কিভাবে ১৫ আগস্টের মর্যাদা দিতে হয় যোগ করেন তিনি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ডেঙ্গু মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন যত্নবান হলে, মানুষের প্রতি মেহনত থাকলে ডেঙ্গু এত প্রকট হতো না। প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ এটা শুধু চিকিৎসক নয় সিটি করপোরেশনের জন্যও প্রযোজ্য।

ডেপুটি স্পিকার  ফজলে রাব্বী মিয়া আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁর সুযোগ্য কন্যা সেটাকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করেছেন। ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবে রুপান্তর করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন করতে হবে। এজন্য সকল ধরনের মানুষের প্রয়োজন আছে। সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্স ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী প্রফেসর ডা. মো. আব্দুর রশীদ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড.  ইকবাল কবীর জাহিদ, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় চিকিৎসাসেবা প্রদান। হেল্থ ক্যাম্পে ঢাকা, খুলনা ও যশোরের কার্ডিওলজি, সার্জারি, শিশু কার্ডিয়াক সার্জন, রক্তনালী সার্জন, মেডিসিন, ডায়াবেটিক, গাইনি, চর্ম, নিউট্রিশনিস্ট, অর্থোপেডিকস, চক্ষুরোগ, নাক, কান ও গলা, ডেন্টাল, শিশু, মনোরোগ, বক্ষব্যাধি, পেইন অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি, ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন এবং জেনারেল প্রাকটিশনার বিষয়ে ৬০ জনের অধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রায় ৪ হাজারের অধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও লাইব্রেরি ভবনে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত মডেল ফার্মেসির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ ওষুধসামগ্রি বিতরণ করে। মডেল ফার্মেসি পরিচালনায় সহায়তা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিতেশ চন্দ্র বাছার। এছাড়া রোগিদের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় হতে প্রদানকৃত একটি মোবাইল ভ্যান চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে হুইল চেয়ার, ভিজুয়াল এইড ও হেয়ারিং এইডসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করে। হেলথ্ ক্যাম্পে বিআরবি হাসপাতালের উদ্যোগে একটি চিকিৎসা বিষয়ক বিশেষ কর্নারও ছিল।

আইআর/এইচকে

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও