গাংচিলের যত্ন নিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

গাংচিলের যত্ন নিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ২:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৯

গাংচিলের যত্ন নিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাংচিল’র উদ্বোধন করেছেন।

বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে এক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে তিনি এ উদ্বোধন করেন বলে খবর দিয়েছে বাসস।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবাইকে ‘গাংচিল’র প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব- আমার গাংচিল যেন ভালভাবে ডানা মেলে উড়তে পারে আকাশে, সবাই যত্ন নেবেন। মনে রাখতে হবে, এটা নিজ দেশের নিজস্ব সম্পদ।’

এর আগে বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে ফিতা কেটে ‘গাংচিল’ উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজটিতে আরোহন করেন এবং ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। পাইলট এবং ক্রুদের সঙ্গেও কথা বলেন।

এ উপলক্ষ্যে দেশ ও জাতির উন্নতি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক, বিমানের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহাম্মাদ এনামুল বারী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও ক্যাপ্টেন ফরহাত হাসান জামিল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিনবাহিনী প্রধান, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বিকেল সাড়ে ৫টায় উদ্বোধনী ফ্লাইটে (বিজি-০২৭) আবুধাবির উদ্দেশে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করবে ‘গাংচিল’।

১৫তম বিমান হিসেবে তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার গত ২৫ জুলাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যুক্ত হয়। গত ২৫ জুলাই বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল অবস্থিত বোয়িং ফ্যাক্টরি থেকে সরাসরি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে।

‘আকাশবীণা’ নামের প্রথম বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে আসে। ‘হংসবলাকা’ নামের দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার আসে গত বছরের ডিসেম্বরে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির ১০টি নতুন বিমান কেনার জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউএস ডলারের একটি চুক্তি করে।

ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ২টি ৭৩৭-৮০০ এবং ৩টি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার।

‘রাজহংস’ নামের চতুর্থ ড্রিমলাইনারটি আগামী মাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যুক্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সবক’টি ড্রিমলাইনারের নামকরণ করেছেন। এগুলো হলো- পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত, ময়ূরপঙ্খী, আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাংচিল ও রাজহংস।

২৭১ আসনের বোয়িং ৭৮৭-৮ গাংচিল ড্রিমলাইনারটিতে বিজনেস ক্লাস ২৪টি এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস রয়েছে। বিজনেস ক্লাসের ২৪টি আসন ১৮০ ড্রিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড সুবিধা এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন।

এছাড়া প্রতিটি আসনের সামনে প্যানাসনিক এলইডি এস-মনিটর রয়েছে। একই সঙ্গে ড্রিমলাইনারের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেমে (আইএফই) থাকবে ১০০টির বেশি ক্ল্যাসিক থেকে ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র।

অন্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ জ্বালানি-সাশ্রয়ী করে তৈরি করা হয়েছে। এটি ঘণ্টায় গড়ে ৬৫০ মাইল বেগে বিরতিহীনভাবে ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম।

অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। যাত্রীরা ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারবেন এবং বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে অবস্থিত বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

ওএস/আইএম

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও