এফআর টাওয়ারের ফারুক গ্রেফতার

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

এফআর টাওয়ারের ফারুক গ্রেফতার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৩:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯

এফআর টাওয়ারের ফারুক গ্রেফতার

নকশা জালিয়াতির মামলায় এবার অগ্নিদুর্ঘটনার শিকার বনানীর এফআর টাওয়ারের অন্যতম মালিক এস এম এইচ আই ফারুককে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার দুপুরে গুলশান এলাকা থেকে দুদকের উপ-পরিচালক আবুবকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে গতকাল রোববার এই মামলার আসামি কাসেম ড্রাইসেলের এমডি ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভীর উল ইসলামকে গ্রেফতার করে দুদক। একই ঘটনায় ৩০ জুলাই রাজউকের সহকারী পরিচালক শাহ মো. সদরুল আলমকেও গ্রেফতার করে সংস্থাটি।

নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ১৬ থেকে ২৩তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগে এফআর টাওয়ার মালিক, রাজউকের প্রাক্তণ দুই চেয়ারম্যান এবং রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গত ২৫ জুন পৃথক মামলা দায়ের করে দুদক।

মামলায় ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারের ১৯ থেকে ২৩তলা নির্মাণ, বন্ধক প্রদান ও বিক্রি করার অভিযোগে দণ্ডবিধির সাতটি ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

অপর মামলায় এফআর টাওয়ারের ১৫তলা অনুমোদন থাকলেও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ১৯৯৬ লঙ্ঘন করে নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের অভিযোগ আনা হয় হয়। এই মামলায় দণ্ডবিধির চারটি ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই বনানীর এফআর টাওয়ার নকশা অনুমোদনে জমির মালিক এস এম এইচ আই ফারুক হোসেন ও রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, কাশেম ড্রাইসেল ব্যাটারির মালিক ও এফআর টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভীর-উল ইসলাম এবং রাজউকের সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

ফারুক হোসেন ১৯৯৬ সালে তার মালিকানাধীন ১০ কাঠা জায়গায় ১৮তলা ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকে আবেদন করেন। তবে প্রথম ১৫তলার অনুমোদন পেলেও পরবর্তীতে রাজউকের সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে অবৈধভাবে ১৮তলা ভবন নির্মাণ করেন। কিন্তু, ২০০৫ সালে ১৮তলা থেকে সংশ্লিষ্টরা ২৩তলা পর্যন্ত নির্মাণ করেন।

২০০৭ সালে বিষয়টি তদন্ত করে অনুমোদিত নকশায় অতিরিক্ত পাঁচতলা নির্মাণের প্রমাণ পেয়েও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘুষ নিয়ে অবৈধভাবে নির্মিত অংশ বিক্রির অনুমোদন দিলে কাশেম ড্রাইসেল ব্যাটারির মালিক তাসভীর-উল ইসলাম সেটি কেনেন।

গত ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। এতে নিহত হয়েছেন ২৭ জন।

এফএ/আইএম

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও