কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তের প্রত্যাহার চায় ট্যানারি মালিকরা

ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তের প্রত্যাহার চায় ট্যানারি মালিকরা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:৫৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০১৯

কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তের প্রত্যাহার চায় ট্যানারি মালিকরা

সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে দেশীয় চামড়াশিল্প হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। তারা দেশীয় শিল্প রক্ষায় কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

বুধবার ধানমন্ডিতে সংগঠনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিএর সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, আমরা জেনেছি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দিতে যাচ্ছে। এতে শতভাগ দেশীয় এ শিল্প হুমকির মুখে পড়বে।

বিটিএর সভাপতি বলেন, সাভারের আধুনিক চামড়া শিল্পনগরী প্রয়োজনীয় কাঁচা চামড়ার অভাবে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়বে। ফলে চামড়া শিল্পনগরীতে ৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে। ট্যানারি শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। এতে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।

এ সময় সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান ট্যানারি মালিকদের এই নেতা।

শাহীন আহমেদ বলেন, কোরবানির সময় মাঠ পর্যায় থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে আড়তদার ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তাদের কাছ থেকে লবণযুক্ত চামড়া আমরা কিনে থাকি। এবার আগামী ২০ আগস্ট থেকে আমরা লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ শুরু করব।

চামড়ার দাম কমিয়ে দেওয়ার সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিটিএ জড়িত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, আমরা কখনো কাঁচা চামড়া কিনি না। পাঁচ থেকে ছয় হাত বদল হয়ে ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া আসে। তাই কাঁচা চামড়ার দরপতনের সঙ্গে কোনোভাবেই বিটিএ জড়িত নয়।

আড়তদাররা অভিযোগ করেছেন, ট্যানারি মালিকরা তাদের সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করেনি। এ কারণে টাকার অভাবে চামড়া কিনতে পারেননি তারা। এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে বিটিএ সভাপতি বলেন, বকেয়া টাকা আদায় হয়নি এমন দোহাই দিয়ে কোরবানির কাঁচা চামড়ার মূল্য কমিয়ে ফায়দা লুটেছেন আড়তদাররা। তারা পানির দামে চামড়া কিনেছে কিন্তু আমাদের কাছে যখন বিক্রি করবে তখন সরকার নির্ধারিত দামই নেবে। এ সময় চামড়ার দাম না পাওয়া ও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আড়তদারদের ওপর দায় চাপান ট্যানারি মালিকরা।

শাহীন আহমেদ আরও বলেন, কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ দেয়া হলে লাভবান হবে আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা। এর কারণ তারা কম মূল্যে চামড়া কিনেছে। তাই কাঁচা চামড়া রফতানির এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইলিয়াছুর রহমান বাবু, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ও ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম প্রমুখ।

পিএসএস

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও