ইভিএম সংরক্ষণ সমস্যায় ইসি, প্রকল্পের চিন্তা

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

ইভিএম সংরক্ষণ সমস্যায় ইসি, প্রকল্পের চিন্তা

মো. হুমায়ূন কবীর ৮:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৯

ইভিএম সংরক্ষণ সমস্যায় ইসি, প্রকল্পের চিন্তা

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে এগুচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই অংশ হিসেবে ভোট প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)।

এরই মধ্যে ইভিএমের জন্য একটি প্রকল্পও পাস করা হয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায়। বেশ কিছু ইভিএম কেনাও হয়েছে।

এখন সেগুলো কোথায়, কীভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে তা নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। আর এ জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা ভাবছে কমিশন।

ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এ কমিটির সভাপতি নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।

জানা যায়, ওই বৈঠকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ইসির যুগ্ম সচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেনকে ইভিএম সংরক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে এর ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে উপস্থাপন করতে বলেন। এরপর  বাতেন এ বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন।

সেখানে তিনি বলেন, ইভিএম সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে বরিশাল, রংপুর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা এ চারটি অঞ্চলে গঠিত ইভিএম সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের নিমিত্ত চারটি কমিটি এবং একটি কেন্দ্ৰীয় কমিটি গঠন করা হয়। এসময় তিনি ওই কমিটির সুপারিশসমূহ সভায় উপস্থাপন করেন।

বৈঠকে আলোচনা করে, স্বল্প মেয়াদী ব্যবস্থা হিসেবে ইভিএমগুলো মাঠপর্যায়ের সকল উপজেলা এবং জেলা  নির্বাচন অফিসে রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে বিভিন্ন ফরম এবং নির্বাচনি কাগজপত্রাদি রয়েছে। যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সরানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ২নং ফরম ডিজিটাল আর্কাইভিং এর মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে এবং অন্যান্য কাগজপত্রাদি আইন অনুযায়ী সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে এ সংক্রান্ত নতুন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

বিএমটিএফ থেকে র‌্যাক সংগ্রহ করে এবং দৈনিক ভাতার ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ করে ইভিএমগুলোকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে; দৈনিক ভাতার ভিত্তিতে এসব জনবল নিয়োগের জন্য সচিবের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো যেতে পারে।

এছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমানের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করে উপজেলা/জেলা/আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসগুলোতে ভার্টিকাল এক্সটেনশন করে ইভিএমগুলো সংরক্ষণের স্থায়ী ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

আরো জানা যায়, ইভিএম সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্য স্কুল/কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী, ভলান্টিয়ার/বিএনসিসি/স্কাউট ও গার্লস গাইডকে প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, সমাজের মধ্যে একটার পর একটা অনিয়ম অনুপ্রবেশ করে, আবার সেটি প্রতিহত করতে একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। আমরা এখন চিন্তা করছি, এগুলো দরকার নেই। ইভিএম শুরু করে দেব, তাহলে সেখানে আর রাতে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকবে না।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়।

সেদিন তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, নির্বাচনি ব্যবস্থায় আরো স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। ইভিএমগুলো (১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম) তিনটি পর্যায়ে ক্রয় করা হবে।

এইচকে/এইচআর

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও