নানা বাহানায় চামড়ার দাম তলানিতে

ঢাকা, ৭ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

নানা বাহানায় চামড়ার দাম তলানিতে

মাহমুদুল হাসান ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৯

নানা বাহানায় চামড়ার দাম তলানিতে

‘আমাদের এক লাখ টাকার গরুর চামড়ার দাম মাত্র ৫০০ টাকা বলা হয়। তাই বিক্রি না করে মাদ্রাসায় দিয়ে দিয়েছি।’

রাজধানীর আশকোনার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান জুয়েল জানালেন এমনটাই।

শুধু জুয়েল নয়, রাজধানীর নয়াটোলার বাসিন্দা রাশেদুল হকও জানালেন চামড়ার কম দামের কথা।

একই এলাকার মো. হান্নানও বলেন, ‘এক লাখ টাকার নিচের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। যা গত বছরের তুলনায় খুবই কম।’

এবার ঈদে গরুর দাম বিগত বছরের তুলনায় কিছুটা ছিল বেশি। কিন্তু চামড়ার দাম একেবারেই কম। অনেকটা পানির দামে চামড়া বিক্রি করছেন কেউ কেউ।

ঈদুল আযহায় এবার কোরবানি পশুর চমড়া ঢাকায় প্রতি বর্গফুট ৪৫-৫০ টাকা (লবণযুক্ত) এবং ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা (লবণযুক্ত) নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া খাসির চামড়া ১৮-২০ টাকা, বকরির ১৩-১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঈদের আগে গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে চামড়া ব্যবসায়ীদের বৈঠকে চামড়ার দাম নিয়ে এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে চামড়া খাত শিল্পের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, রফতানিকারক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ওইদিন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজার দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদাও কমে গেছে। কিন্তু চামড়াজাত পণ্যের দাম বেড়েছে। তাই সবকিছু বিবেচনায় গতবারের দামই নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে চামড়ার মান বাড়ানোরও তাগিদ দেন তিনি।

বিগত বছরগুলোতে ঈদুল আযহার নামাজের পরপরই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়, কোরবানির মাঠে গিয়ে যেভাবে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা ভিড় করতো, এবার তাদের খুব একটা দেখা মেলেনি। ফলে অনেকেই চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন। অনেকই আবার দাম কম থাকায় এতিম খানা ও মাদ্রাসায় দান করে দেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের নির্ধারণ করে দেয়া দাম অনুযায়ী, রাজধানীতে কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুট চামড়া লবণ দেয়ার পরে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের।

জানা গেছে, এবার মৌসুমি বা ফড়িয়া চামড়া ব্যবসায়ীদের কম দেখা যায়। কোথাও কোথাও আবার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন স্থানে চামড়া বেচা-কেনা হচ্ছে আরও কম দামে। 

জানতে চাইলে এমবি ট্যানারি লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রিন্টু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সারা বছরই আমরা এই দাম চামড়া কিনেছি। এছাড়া গত কোরবানিতে আমরা যে চামড়া কিনেছি তার স্টক এখনও আছে। আমরা তা সেল করতে পারিনি। কারণ ইউরোপে চামড়ার মার্কেট বন্ধ।’

তিনি বলেন, ‘চামড়া কিনতে আমাদেরকে ব্যাংক থেকে যে ঋণ দেয়ার কথা তা দেয়া হয়নি। তাহলে আমরা কীভাবে চামড়া কিনবো। তাছাড়া বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ ভাগ মার্কেট আছে। এটা দিয়ে আমরা কতদূর এগুতে পারবো?’

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হাজী মো. টিপু সুলতান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘২০১৫ সাল পর্যন্ত চামড়ার মার্কেট ঠিক ছিল। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে চামড়ার মার্কেট পড়তে শুরু করেছে। এছাড়া আমাদের টাকা নেই। কীভাবে চামড়া কিনবো। খুচরা মার্কেটে আমাদের ৮৬ ভাগ টাকা আটকে আছে। ’

আন্তর্জাতিক বাজারেও চামড়ার দাম কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ মৌসুমি বলেন, ‘এবার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যেন চামড়া চিন্তা-ভাবনা করে কেনেন। আমরা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া এবার সরাসরি নিচ্ছি না।’

তবে যারা চামড়ায় লবণ দেবেন, তাদের কাছ থেকে চামড়া নেবেন বলেও জানান তিনি।

এমএইচ/এইচআর

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও