ঐক্য পরিষদ থেকে বরখাস্ত প্রিয়া

ঢাকা, ২২ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

ঐক্য পরিষদ থেকে বরখাস্ত প্রিয়া

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৯:১৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৯

ঐক্য পরিষদ থেকে বরখাস্ত প্রিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বলা তথ্যকে ‘অসত্য’ আখ্যা দিয়ে প্রিয়া সাহাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

সোমবার সংগঠনের নিজ কার্যালয়ে পরিষদের স্থায়ী কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক।

পরে রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে প্রিয়া সাহাকে সাময়িক বরখাস্তের কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ঐক্য পরিষদের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাকে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

গত ১৭ জুলাই ওভাল হাউসে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান সম্পদায়ের মানুষ গায়েব (ডিসঅ্যাপিয়ার্ড) রয়েছে। আরও ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছেন, যারা দেশটিতে থাকতে চান। প্লিজ, আমাদের সাহায্য করুন।’

এই বক্তব্যের পর সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠলে প্রিয়া সাহা গতকাল রোববার ভিডিওতে তার বক্তব্যের স্বপক্ষেই কথা বলেন।

নিজের পরিচালিত এনজিও ‘শারি বাংলাদেশ’র ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করা প্রায় ৩৫ মিনিটের ভিডিওতে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের গায়েব (ডিজঅ্যাপিয়ার্ড) হওয়ার যে তথ্য তিনি ট্রাম্পকে দিয়েছেন, তা সরকারি পরিসংখ্যান থেকেই নেয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত ওই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ২০১১ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা সে সময় গণমাধ্যমেও আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের ওই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করেই অধ্যাপক আবুল বারকাত ২০১১ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল, প্রতিদিন ৬৩২ জন হিন্দু দেশ ছাড়ছেন। ২০১১ সালে আমি স্যারের সঙ্গে সরাসরি ওই প্রকল্পে কাজ করেছিলাম, যে কারণে আমি বিষয়টা সম্পর্কে অবহিত।’

তবে সোমবার প্রিয়া সাহার বক্তব্যের এই অংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড.আবুল বারকাত।

তিনি বলেন, ‘প্রিয়া সাহার বক্তব্যসমূহের সঙ্গে আমার গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্তের কোনোই মিল নেই। আমার গবেষণায় যা আছে তা হলো- ‘আমার হিসেবে প্রায় পাঁচ দশকে (১৯৬৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত) আনুমানিক ১ কোটি ১৩ লাখ হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ নিরুদ্দিষ্ট হয়েছেন’ (উৎস: আবুল বারকাত, ২০১৬, বাংলাদেশে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি, পৃ:৭১)। অর্থাৎ আমি কোথাও ‘৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নিখোঁজ রয়েছেন’— একথা বলিনি। উপরন্তু তিনি কোথাও বললেন না যে আমার গবেষণা তথ্যটির সময়কাল ৫০ বছর- ১৯৬৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত।’

ড. বারকাত বলেন, ‘প্রিয়া সাহা কখনো আমার সহ-গবেষক, গবেষণা সহযোগী অথবা গবেষণা সহকারী ছিলেন না।’

তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে সরকারি আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে ১৯০১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মোট জনসংখ্যায় বিভিন্ন ধর্মগোষ্ঠীর আনুপাতিক হার উল্লেখ করেছি মাত্র।
এরপরই ড. বারকাত বলেন, ‘একজন সমাজ গবেষক হিসেবে আমি নিশ্চিত হতে চাই যে, প্রিয়া সাহা আমার নাম উল্লেখপূর্বক যেসব বিভ্রান্তিমূলক ও নীতিগর্হিত বক্তব্য দিয়েছেন, অতি দ্রুত তা প্রত্যাহার করবেন।’

পিএসএস/আইএম

আড়ও পড়ুন...
মুখ খুলেই প্রিয়া জানালেন, কিভাবে তিনি আমেরিকায়
ভালো নাই, আমি ভালো নাই: প্রিয়া সাহা
ট্রাম্পকে বলা বক্তব্যে অনড় প্রিয়া সাহা
প্রিয়া আমার তথ্য-উপাত্ত বিকৃত করেছেন: বারকাত

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও