ট্রাম্পকে বাংলাদেশি নারীর দেয়া তথ্য নিয়ে তোলপাড়

ঢাকা, ২২ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

ট্রাম্পকে বাংলাদেশি নারীর দেয়া তথ্য নিয়ে তোলপাড়

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:২৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০১৯

ট্রাম্পকে বাংলাদেশি নারীর দেয়া তথ্য নিয়ে তোলপাড়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশি এক নারীর দেয়া তথ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ট্রাম্পের সঙ্গে ওই নারীর কথোপকথনের ভিডিও শেয়ার করে বলছেন, নিজের দেশ সম্পর্কে কীভাবে তিনি এমন মিথ্যাচার করতে পারলেন?

জানা গেছে, গত বুধবার ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধর্মীয় কারণে নির্যাতনের শিকার ১৭টি দেশের কয়েকজনকে ডেকেছিলেন তাদের কথা শুনতে।

সেখানে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, মিয়ানমার, নিউজিল্যান্ড, ইয়েমেন, চীন, কিউবা, ইরিত্রিয়া, নাইজেরিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, সুদান, আফগানিস্তান, উত্তর কোরিয়া, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশের মানুষ নিজেদের কথা বলার সুযোগ পান।

ভিডিওতে নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয় দিয়ে ওই নারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলছেন, দেশে তার জমিজমা কেড়ে নেয়া ও বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়েছে। দেশটিতে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানকে গুম করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টর সঙ্গে ওই নারীর কথোপকথন—

নারী: ‘স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। এখানে ৩ কোটি ৭০ লাখ (৩৭ মিলিয়ন) হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর মানুষ গুম হয়ে গেছে। প্লিজ, আমাদের বাংলাদেশিদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।

এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ আছে। আমার অনুরোধ, প্লিজ, আমাদের সাহায্য করেন, আমরা আমাদের দেশ ছেড়ে যেতে চাই না। আমাদের শুধু ওখানে যেন থাকতে পারি সে সাহায্যটুকু করেন! আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি, তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি।’

ট্রাম্প: কারা বাড়ি নিয়েছে, কারা জমি কেড়ে নিয়েছে?

নারী: ‘মুসলিম মৌলবাদী গ্রুপ এগুলো করছে। সব সময় তারা রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে, সব সময়।’

ওই নারীর বক্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকে ট্রাম্পকে হ্যাশট্যাগ করে জানাচ্ছেন, বাংলাদেশি ওই নারী মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গণমাধ্যম পুরো অনুষ্ঠান ফেসবুকে লাইভ করে। এরপরই সেটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সম্পর্কে যিনি মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন, তিনি ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা।

পরে সংগঠনটির ওয়েবসাইটে গিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির ৫৫ ক্রমিকে তার নাম ও মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে।

প্রিয়া সাহা কেন এমন মিথ্যাচার করেছেন, তা জানা যায়নি। তবে এ বিষয়ে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও, সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রোহিঙ্গারা কোথায় জানেন না ট্রাম্প

একই অনুষ্ঠানে নির্যাতিত এক রোহিঙ্গা তার দুর্দশা বলতে গেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা কোথায়, তা তিনি জানেন না।

অথচ রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগে গত মঙ্গলবারই মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ চার জেনারেলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

অনুষ্ঠানে এক রোহিঙ্গা, যিনি বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে এসেছেন বলে ট্রাম্পকে জানান। তিনি ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে তার পরিকল্পনা কী?

এর জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা (বাংলাদেশ) আসলে ঠিক কোথায়?’ এ সময় ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ানো অপর একজন তাকে বলেন, ‘বার্মার (মিয়ানমারের) পাশে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির রাখাইনে জাতিগত নিধন চালায়। নিপীড়নের মুখে দেশটির সাড়ে ৭ লাখের বেশি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

এই অভিযানে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা, নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশি নারীর কথোপকথনের ভিডিও দেখুন...

পুরো অনুষ্ঠানের ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন...

আইএম

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও