জনপ্রশাসন ব্যাংক চান ডিসিরা

ঢাকা, ২২ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

জনপ্রশাসন ব্যাংক চান ডিসিরা

সচিবালয় প্রতিবেদক ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৯

জনপ্রশাসন ব্যাংক চান ডিসিরা

জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরতদের জন্য জনপ্রশাসন ব্যাংক করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে ডিসি সম্মেলনের পঞ্চম দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন।

ডিসিরা কী ধরনের প্রস্তাব করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিসিরা বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা আমাদের জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য অলাদা ব্যাংক করার প্রস্তাব দিয়েছেন। নিচের পদগুলো সৃজন করা যায় কিনা সেগুলো তারা বলেছে। কিছু প্রস্তাব বাস্তবসম্মত, আমরা বলেছি, যেগুলো যৌক্তিক সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা জনপ্রশাসন ব্যাংক চাইতেই পারে। ইতোমধ্যে জনপ্রশাসনে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা কাজ করছেন। সাবেক যারা আছেন, যারা অবসরে গেছেন তারা সম্পৃক্ত হতে পারেন। সেটি জনগণ ও দেশের জন্য কল্যাণকর হলে করা যাবে। কল্যাণকর না হলে বিবেচনা করবে সরকার।

তিনি বলেন, ব্যাংক কিন্তু তারা চাইতেই পারে, সেই চাওয়ার অধিকার তাদের আছে। করা হবে কি না সেটা সরকার বিবেচনা করবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) দুনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা অফিসগুলোতে ভোগান্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখানে অনিয়ম আছে তা শনাক্ত করা প্রয়োজন। আমরা জানি, কিছু কিছু জায়গা আছে। যেমন আমরা বলেছি, এসিল্যান্ড অফিসে ভূমির নাম খারিজের জন্য বিষয়গুলো আরো দ্রুততার সঙ্গে কীভাবে করতে পারি এবং সেখানে ডিজিটালাইজেশন আরো দ্রুত কীভাবে করতে পারি সে বিষয়ে উদ্যোগ নেবে এবং আমাদের বলবে। কোনো কর্মকর্তা দুনীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে ডিসিরা তাদের ডেকে বলে সংশোধনের চেষ্টা করবে, সেটা না হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা আছে।

ডিসিদের প্রতি কী নির্দেশনা দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আমরা দুনীতিমুক্ত, জনমুখী ও জনকল্যাণমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তুলব। মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে জনগণের কাছে কিন্তু নিয়ে গেছি। ডিসি অফিস আরো সুন্দরভাবে সাজিয়েছি। এ ছাড়াও সার্কিট হাউজসহ সব লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, তাদের বলেছি, সেবার ধরন কীভাবে আরো জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যোতে পারি। প্রতি বুধবার সাপ্তাহিক গণশুনানি করি, যার যে সমস্যা আছে সেগুলো শুনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। সেটি কীভাবে আরো সুন্দরভাবে করতে পারি সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, অফিসগুলোকে ডিজিটালাইজেশনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। ইতোমধ্যে ই-ফাইলিংসহ সব ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের আরো ডিজিটালাইজেশন করতে হবে। কমকর্তাদের সেজন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা শহরের হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত, অনিয়ম দুর্নীতিমুক্ত করার বিষয়গুলো ডিসিরা দেখবেন। পাসপোর্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে ভোগান্তি সেদিকে তারা নজরদারি বাড়াবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক জেলায় যে স্কুল আছে ডিসিরা যেহেতু সেখানকার সভাপতি সেহেতু তারা যেন আরো গুরুত্ব দেয়, নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং লেখাপড়ার মান উন্নত করতে ব্যবস্থা নেয় সে নির্দেশনা তাদের দিয়েছি। আমরা চেয়েছি জেলা প্রশাসকরা যেন আরো জনমুখী হয়ে মানুষের সেবায় ব্যাপক অববদান রাখতে পারেন।

এসএস/আরপি

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও