৬৪ জেলায় আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে: আইনমন্ত্রী

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

৬৪ জেলায় আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে: আইনমন্ত্রী

সচিবালয় প্রতিবেদক ৫:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৯

৬৪ জেলায় আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে: আইনমন্ত্রী

দেশের ৬৪ জেলায় আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

কুমিল্লায় আদালতের এজলাসে ছুরিকাঘাতে হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলেন তিনি বলেন, দুই আসামির মধ্যে মারামারি হয়েছে একজন অপরজনের মামাতো ভাই। তাদের সঙ্গে আগেই একটি মনোমালিন্য বা ঝগড়াঝাটি ছিল। আদালতে একে অপরকে দোষারোপ করা হচ্ছিল একটি হত্যা মামলায়, এ সময় একজন আরেকজনকে বলছিল তোমাদের কারণে আমি জড়িয়ে গেছি। সেই রাগেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, এখানে আমাদের বিষয় হচ্ছে আদালতে নিরাপত্তার বিষয়টি। আমি আজই কুমিল্লার এসপির সঙ্গে কথা বলেছি এবং আমার মনে হয় আমরা আলাপ-আলোচনা করে যেটা পেয়েছি আদালতে নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা করব। আর এটা শুধু কুমিল্লার আদালতের বিষয় নয় ৬৪ জেলাতে আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে।

ডিসিদের সঙ্গে কি আলোচনা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যে এজেন্ডা পেয়েছিলাম তাতে সেখানে নয়টি আলোচ্য বিষয় ছিল। তার মধ্যে ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রসেকিউশনের বিষয়টি ছিল। এ বিষয়ে আগেও আপনাদেরকে আমি জানিয়েছি। এখন যে প্রসেকিউশন আছে তার ৩০ ভাগ আমরা ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রসেকিউশন সার্ভিস করার চিন্তা করছি। পিপি জিপিদের বেতনের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করছি এবং সেই প্রস্তাব অলরেডি অর্থ মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছি। বিষয়টি আজ ডিসিদের জানিয়েছি।

তিনি বলেন, মামলা যেগুলো চলে সে বিষয়ে কমিউনিকেশনের একটি বড় গ্যাপ রয়েছে। সেটা আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে। এই কমিউনিকেশন গ্যাপ দূরীকরণের জন্য যে পদক্ষেপগুলো নিতে হবে তা আমরা নেব। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হাইকোর্টে যেসব মামলা হয় সেসব সম্বন্ধে তারা যেন তড়িৎ জানতে পারে। আমি এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলব। কয়েকদিন আগে যথেষ্ট পরিমাণ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়েছি।

আনিসুল হক বলেন, এখানে ৫ থেকে ৭ জনের একটি এসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেলদের টিম করে দেবো। যারা ৬৪ জেলার মামলার বিষয়ে যোগাযোগ রাখবে। তাতে মামলা সংক্রান্ত স্বাভাবিক কমিউনিকেশন এবং মামলা তড়িৎ নিষ্পত্তি নিশ্চিত হবে। আবার অন্য কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে ফৌজদারি ধারা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে দেয়ার জন্য, এ বিষয়ে আমি যেটা বক্তব্য দিয়েছি সেটা হলো এটা আইন সংশোধন করতে হবে। যেহেতু আইন সংশোধন ব্যতীত এটি সম্ভব নয় ফলে এ মুহূর্তে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। এটি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেখা যাবে বিষয়টি প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা।

ফৌজদারি মামলার দায়িত্ব ডিসির আছে এর আগেও আপনাকে বলেছেন বিষয়টি এবারও ডিসি সম্মেলনে তারা তুলেছে এটি আলোচনা কতটুকু যৌক্তিক? এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আলোচনা হতেই পারে। ওনারা হয়তো প্রত্যেক বারই জানতে চান এটা কেন হচ্ছে না। আর প্রতিবারই আমরা বলি এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আইনমন্ত্রী বলেন, এটা আপনাদের ও মনে রাখতে হবে ধরেন গতবার যিনি জেলা প্রশাসক ছিলেন আজকে তিনি জেলা প্রশাসক নন। তাদের কাছে হয়তো নিচের থেকে এই প্রশ্ন ওঠে। এই প্রশ্ন উঠলে প্রত্যেকবারই আমরা জবাব দিতে আমাদের জন্য কোনো আপত্তি নেই।

এসএস/এইচআর

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও