যত বাধাই আসুক এগিয়ে যাব: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

যত বাধাই আসুক এগিয়ে যাব: প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৯:১০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

যত বাধাই আসুক এগিয়ে যাব: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তার সরকারের এই পথচলা সহজ ছিল না। সেখানে নানা বাধা-বিঘ্ন মোকাবেলা করতে হয়েছে।

এ সময় যত বাধাই আসুক, জনণকে নিয়ে এগিয়ে যাবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদ এবং ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক হয়।

এতে উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে কিছু মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসে। তারা নিঃশ্বাস নিতে পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা দেশটাকে একটা অবস্থানে নিয়ে এসেছি। এর মূল শক্তিটাই দেশের জনগণ ও তাদের সমর্থন।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে আমাদের দলকে শক্তিশালী করতে আরও জনমত সৃষ্টি করতে হবে। যেন আমাদের চলার পথে যত বাধাই আসুক, তা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সক্ষমতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। আমরা অবহেলা করে রাষ্ট্রপরিচালনা করি না। আমরা মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে, মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের কল্যাণে ও উন্নয়নে কাজ করা এই নীতি নিয়েই চলি বলে আজকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন বৃষ্টি হচ্ছে, বন্যা হচ্ছে, কোথাও নদী ভাঙন হতে পারে বা পাহাড়ে ধস নামতে পারে। আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত সারা দেশে কোথায় কী ঘটছে, খবর নিচ্ছি এবং সেখানে যার যা দায়িত্ব সেটা দেয়া আছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এখানে এতটুকু শৈথিল্য নেই। কারণ, তাদের সব কাজ আমাকে সঙ্গে সঙ্গে মেসেজ দিয়ে জানাতে হয়।’

দুর্যোগ মোকাবেলায় বিএনপি সরকারের একটি ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়, তখনতো বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। তারা জানেই না এত বড় একটা ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, এত মানুষ মারা গেছে। পার্লামেন্টে যখন আমি বললাম, এতবড় ঘূর্ণিঝড় হযেছে, এত মানুষ মারা গেছে, তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পার্লামেন্টে বলে দিলেন- ‘যত মানুষ মরার কথা ছিল, তত মানুষ মরে নাই।’ তখন আমি জিজ্ঞেস করতে বাধ্য হলাম, ‘কত মানুষ মরলে আপনার তত মানুষ হবে বলেন’। এ ছাড়া বলার মতো কিছু ছিল না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবেও জনগণের পাশে থাকে। অতীতেও ছিল। আমরা আমাদের দেশের উন্নয়নের ধারাটা কিন্তু ধীরে ধীরে অব্যাহত রেখেছি। এই ১০ বছরে আমরা কিন্তু হোঁচট খাইনি কিংবা পিছিয়ে যাইনি। আবার হঠাৎ করেও লাফ দেইনি। আমরা খুব স্থিরভাবে দেশটাকে ধাপে ধাপে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সামনে যেতে চাই। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই। সে পরিকল্পনা আমাদের আছে।’

উন্নয়নের এই যাত্রাপথের নানা বাধা-বিপত্তির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এই চলার পথ কিন্তু খুব সহজ ছিল না। প্রতি পদে পদে বাধা, অগ্নিসন্ত্রাস, খুন, নির্যাতন অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তারপরেও আমরা কিন্তু এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি।’

দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক শক্তি, সাংগঠনিক শক্তি ও জনগণের সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি ’৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত যেভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে; আজকে বাংলাদেশটাকে আমরা সরকার গঠন করে এগিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছি; সেখানে মূল শক্তিটাই ছিল দেশের জনগণ, তাদের সমর্থন। আর অবশ্যই মহান আল্লাহর একটা রহমত ছিল। সেজন্যই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পেরেছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, উন্নয়নে সফলতা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। সরকার গঠনের আগে আওয়ামী লীগের কিছু পরিকল্পনা ছিল দেশকে নিয়ে। সেই কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের নিজেদের একটা চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা ছিল। আমরা সরকারে আসলে কী করব? কোথায় যাব? সেগুলোর সবকিছু মোটামুটি একটা তৈরি করা ছিল বলেই আমরা সরকারে আসার পর আমাদের কাজগুলো করতে পেরেছি। যার কারণে দেশটা আজকে এতদূরে আনতে পেরেছি। আগামী দিনে দেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যাব? সে পরিকল্পনাও আমাদের আছে। সেটা ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছি।’

এ সময় ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করা, জনমত সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা।

এজন্য দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উপদেষ্টারা আমাদের ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্কের’ মতো। আপনাদের সকলকে সক্রিয় হতে হবে। আমাদের বিভিন্ন উপ-কমিটি করা আছে। আপনারা মিটিং, সেমিনার করছেন। সেটা অব্যাহত রাখেন।’

দেশের অগ্রগতিকে যারা অস্বীকার করেন, ভিত্তিহীন সমালোচনা করেন তাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশের কিছুলোক থাকে যাদের কোনো কিছুই ভালো লাগে না। এই যে আমরা অর্থনৈতিকভাবে যতদূরই আগাই, কিছু লোক সবসময় এটাকে ভিন্ন চোখে দেখে, এটি তাদের অভ্যাস। এরা আসলে কখনও গণতান্ত্রিক ধারাটা চায় না। গণতান্ত্রিক ধারাটা হলে আমার মনে হয়, তাদের যেন দম বন্ধ হয়ে যায়। এমন একটা ভাব তাদের। তাদের কাছে মনে হয় যেন অস্বাভাবিক কিছু হলে তাদের খুব দাম বাড়ে।’

এসইউজে/আইএম

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও