প্রশ্নপত্রে ‘বিতর্ক’ তৈরি হলেই ব্যবস্থা

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

প্রশ্নপত্রে ‘বিতর্ক’ তৈরি হলেই ব্যবস্থা

সচিবালয় প্রতিবেদক ৮:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

প্রশ্নপত্রে ‘বিতর্ক’ তৈরি হলেই ব্যবস্থা

বিতর্কিত বিষয় এড়িয়ে প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

একই সঙ্গে এসব নির্দেশনা না মানলে প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থারও কথা বলা হয়েছে।

সম্প্রতি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ের সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে বিতর্কিত সেফাতুল্লাহ সেফুদাকে নিয়ে করা কয়েকটি প্রশ্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

এমন প্রেক্ষাপটে শুক্রবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড পরিপত্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র তৈরির নির্দেশনা দিলো।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জিয়াউল হক এতে স্বাক্ষর করেছেন।

পরিপত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের উদ্দেশে বলা হয়, মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় বিতর্কিত বিষয়গুলোকে উদ্দীপক হিসেবে সৃজনশীল প্রশ্নে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি ও জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।

এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিরোধে পরিপত্রে বলা হয়, পাঠ্যপুস্তকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম না থাকলে প্রশ্নের উদ্দীপক হিসেবে তা ব্যবহার করা যাবে না।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, সরকার, কোনো দল, কোনো জনগোষ্ঠী, আদিবাসী এবং অঞ্চলকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে কোনো উদ্দীপক প্রশ্ন তৈরি করা যাবে না।

বাংলাদেশের ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, গোষ্ঠী, ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জাতীয় অনুষ্ঠানের অমর্যাদা হয় এমন কোনো উদ্দীপক দিয়েও প্রশ্নপত্র তৈরি করা যাবে না।

প্রশ্নপত্রে সংবিধান পরিপন্থী ও রাষ্ট্রবিরোধী কোনো বিষয় ব্যবহার করা যাবে না। ধর্ম, তীর্থস্থান, ধর্মীয় স্থাপনা, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় স্থাপনার ঐতিহাসিক স্থানকে অসম্মান করে প্রশ্নপত্র করা যাবে না।

কোনো অশোভনীয় বা আপত্তিকর ছবি কিংবা বিতর্কিত ব্যক্তি বা তার কার্যকলাপ প্রশ্নপত্রের উদ্দীপক হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সরকার এবং সমাজে অগ্রহণযোগ্য বিষয় যেমন: বাল্যবিয়ে, যৌতুক ইত্যাদিকে ইতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা যাবে না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা মেনে চলতে পরিপত্রে অনুরোধ করা হয়েছে।

পরিপত্রবিরোধী কোনো প্রশ্ন প্রণয়ন করা হলে প্রধান শিক্ষক ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন এবং প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

এসএস/আইএম

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও