এ মাসেই ভোটার হতে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন প্রবাসীরা

ঢাকা, ২৯ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

এ মাসেই ভোটার হতে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন প্রবাসীরা

মো. হুমায়ূন কবীর ৯:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৯

এ মাসেই ভোটার হতে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন প্রবাসীরা

চলতি মাসের শেষের দিক থেকে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে প্রবাসীদের বাংলাদেশিদের ভোটার হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর সিঙ্গাপুরে থাকা প্রবাসীরা প্রথম এ সুযোগ পাচ্ছেন। আর ভোটার হওয়ার একমাসের মধ্যেই এসব নাগরিকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে স্মার্টকার্ড। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।   

সূত্র জানায়, চলতি মাসের শেষ থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদন করার পর আবেদনকারীর দেয়া তথ্য সঠিক আছে কিনা তা সংশ্লিষ্ট এলাকা উপজেলা/থানা নির্বাচনা অফিসার যাচাই করবেন। সবঠিক থাকলে তিনি সেখানকার দূতাবাসে গিয়ে ছবি তোলাসহ বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

আরো জানায়, প্রবাসীদের জন্য আলাদা সার্ভার বসাবে ইসি। যে সার্ভারটি ইসির ওয়েবসাইটে আলাদা লিংকের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে। প্রবাসী নাগরিক সংশ্লিষ্ট দেশে বসেই সেই লিংকে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় সকল কাগজ/দলিলাদী আপলোড করে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন এবং সেখানে দূতাবাসে গিয়েও ফরম পূরণ করেও আবেদন করতে পারবেন। দূতাবাসে পূরণ করা আবেদন পরবর্তীতে আবেদনকারীর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। তদন্তে ইতিবাচক প্রতিবেদন আসলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে নেওয়া হবে। এরপর দশ আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশেই বসানো হবে ইসির নিবন্ধন কেন্দ্র। যেখান থেকেই বিতরণ করা হবে স্মার্টকার্ড বা এনআইডি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত কমিশন বৈঠকে এমন আলোচনা করা হয়।

এ বিষয়ে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন বলেন, সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশি নাগরিকরা চলতি মাসের শেষের দিকেই অনলাইনেই আবেদন করে ভোটার হওয়ার সুযোগ পাবেন। আমরা এজন্য আলাদা সার্ভারও করবো। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অন্যান্য দেশে এই কার্যক্রমটি পরিচালনা করা হবে।

জানা যায়, গত ৩ থেকে ৯ মার্চ ইসি তৎকালীন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম সিঙ্গাপুর ঘুরে এসে বেশকিছু সুপারিশ করে। আর সে ভিত্তিতেই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ইসির সাবেক সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ওই টিম সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস, সিঙ্গাপুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড চেকপয়েন্ট অথরিটি এবং বাংলাদেশী কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাবনাটি প্রণয়ন করেছিলেন। এতে বলা হয়েছে- সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের প্রকৃত সংখ্যা জানা না গেলেও তা এক লাখের বেশি নয়। আর এজন্য তাদের তথ্য নিয়ে দেশ থেকে তদন্তের পর এনআইডি ছাপিয়ে সিঙ্গাপুরে গিয়ে বিতরণের জন্য ছয় মাস সময় লাগবে।

কাজটির করার জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিঙ্গাপুরের আইন। তারা একমাসের বেশি ভিসা দেয় না, বিধায় কয়েক ধাপে কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে কাজটি সম্পন্ন করার পক্ষে ইসি সচিব সচিবালয়।

এক্ষেত্রে ৫ থেকে ৬ জনের এক একটি টিম ২১ দিন করে সিঙ্গাপুর অবস্থান করে কার্যক্রম চালাবে। আর এজন্য সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে দেশটির অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকও। ব্যাংকটি এ কার্যক্রম চালানোর জন্য তাদের বুথে অবস্থিত জায়গায় ইসিকে বুথ স্থাপনের জন্য সম্মতি দিয়েছে। এছাড়া সিটি ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংকের স্পেসও ব্যবহার করা হতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন দূতাবাসেই বুথ বসিয়ে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জুলাইয়ে শেষ থেকে অনলাইনে আবেদন নিয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে কর্মকর্তাদের পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। যারা কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে ২১ দিনের জন্য সিঙ্গাপুর গিয়ে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। পরবর্তীতে আরেকটি টিম যাবে। এভাবে চলবে এ কার্যক্রম।

মো. আবদুল বাতেন বলেন, সিঙ্গাপুরে ভোটারযোগ্য নাগরিক আছে ৫০ হাজারের মতো। তাদের ভোটার করা হয়ে গেলে, আমরা অন্য দেশে যাবো। এক্ষেত্রে যেসব দেশে বৈধ নাগরিক বেশি আছে, সেখানেই আগে কার্যক্রম চালানো হবে।

সূত্র জানায়, যেহেতু সিঙ্গাপুরে অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা কম। তাই সিঙ্গাপুর সিঙ্গাপুরে থাকা নাগরিকদের ভোটার করার সফলতার উপর নির্ভর করছে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের প্রবাসেই ভোটার করা হবে কি না।

এইচকে/এসবি

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও