‘মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি অনুসারেই অভিযান’

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

‘মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি অনুসারেই অভিযান’

সচিবালয় প্রতিবেদক ১০:২৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৯

‘মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি অনুসারেই অভিযান’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। সেই অনুসারেই সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং চলবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে ঢেলে সাজিয়েছি। সংস্থাটিকে আগের তুলনায় অধিকতর গতিশীল করা হয়েছে। এখানে যানবাহন ও লোকবল বৃদ্ধি পেয়েছে, এর ল্যাবরেটরিরও আধুনিকায়ন হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০-কে যুগোপযোগী করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ মোবাইল কোর্টের তালিকাভুক্তি করা হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের পরিষ্কার অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাদক সনাক্তকরণ সংক্রান্ত ও ডোপ টেস্ট করার বিষয়ে সরকারের নীতিগত অনুমোদন গ্রহণ করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এক হাজার ৪৩৪টি পদে নিয়োগের জন্য সচিব কমিটির অনুমোদন পেয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দিবসটি পালনের উদ্দেশ্যে মাদকদ্রব্য সেবনের ধ্বংসাত্মক পরিণতি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে। মাদকাসক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকার তিনটি কর্মকৌশল অনুযায়ী কাজ করছে।

এরমধ্যে রয়েছে দেশের মাদকের চাহিদা হ্রাস, মাদকদ্রব্যের সরবরাহ হ্রাস এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত গতি হ্রাস কার্যক্রম।

এদিকে কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ৫০ থেকে ১২৪ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৫০টি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রের অনুকূলে লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে- যোগ করেন মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে সারাদেশে অভিযান চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে ইয়াবা ট্যাবলেট, হিরোইন, কোকেন, আফিম, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করে এক লাখ ৬৮ হাজার ৩২৩ জনের বিরুদ্ধে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৮৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, মাদকদ্রব্যের ক্ষতি রোধ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে দেশের মাদকাসক্তদের চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধির জন্য সরকারি হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স বাড়ানো হয়েছে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক আমরা দেশকে মাদকমুক্ত করার জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। মাদকদ্রব্যের সরবরাহ হ্রাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদক সেবনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করে যাচ্ছে।

এসএস/এইচআর

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও