দুদক পরিচয়ে বাড়ছে প্রতারণা

ঢাকা, ২২ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

দুদক পরিচয়ে বাড়ছে প্রতারণা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৪:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৯

দুদক পরিচয়ে বাড়ছে প্রতারণা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা পরিচয়ে বাড়ছে প্রতারণা। একাধিক প্রতারক চক্র দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে দুর্নীতিবাজদের দায় মুক্তির কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।

এ অবস্থায় দুদক পরিচয় দানকারী প্রতারকদের থেকে সাবধান হতে মঙ্গলবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কমিশন।

দুদক উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম, তাদের আত্মীয়-স্বজনের নাম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে একাধিক প্রতারক বা প্রতারক চক্র কমিশনের মামলা অথবা অভিযোগ অথবা কাল্পনিক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি অথবা অভিযুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমে অনৈতিক অর্থ দাবি করছে।

আবার এমনও অনেক প্রতারক রয়েছেন যারা একইভাবে কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থায় বিভিন্ন অনৈতিক তদবির করছেন।

প্রতারক চক্র কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের কর্মকর্তাদের আত্মীয়, বন্ধু কিংবা অন্য কোনো স্বজন পরিচয় দিয়ে অনৈতিক তদবির করছেন।

কমিশন এ জাতীয় কর্মকাণ্ড বন্ধে বহুমাত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানায় দুদক।

কমিশনের গোয়েন্দা তৎপরতায় গত ৭ নভেম্বর দুদকের একটি বিশেষ টিম রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর রাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে থেকে প্রতারক ফয়সল রানা ওরফে ফয়েজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করে। এ বিষয়ে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়।

এছাড়া গত ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর ৩০ নয়াপল্টন, ভিআইপি রোডের গোল্ডেন প্লেট রেস্টুরেন্ট এলাকা থেকে দুদক কর্মর্কতা পরিচয়দানকারী ভুয়া দুদক কর্মকর্তা হাসান মুন্না ওরফে রফিককে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানা মামলা করা হয়।

দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-২ এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেলের (এনটিএমসি) সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আরেক ভুয়া দুদক কর্মকর্তা নাজমা, যার প্রকৃত নাম রাজু মিয়াকে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়।

একইভাবে গত ২ ফেব্রুয়ারি দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-২ এবং এনটিএমসির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ভুয়া দুদক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ওরফে হাজী জহিরুল হুদা ওরফে প্রশান্ত ওরফে সুশান্ত ওরফে মনিরুজ্জামান মিয়া ওরফে শহিদুল ইসলাম, যার প্রকৃত নাম আনিসুর রহমান বাবুলকে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় এবং তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কুমিল্লা থেকে ইয়াসিন নামের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেফতা করা হয়েছে। এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানায় মামলা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারকদের আইন-আমলে আনা একটি জটিল প্রক্রিয়া যা কমিশন নিরলস ভাবে পরিচালনা করছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

কারণ দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন অনুসারে কোনো একক ব্যক্তির অভিপ্রায় অনুসারে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যেমন কোনো সুযোগ নেই, তেমনি অভিযুক্ত হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। কমিশনে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সকল পথ আইন দ্বারাই রুদ্ধ রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে যদি কোনো ব্যক্তি কমিশনের কর্মকর্তা কিংবা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে টেলিফোন করে বা ব্যক্তিগত ভাবে নিজেকে কমিশনের কর্মকর্তা বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বজন পরিচয় দিয়ে অনৈতিক কোনো বিষয়ে তদবির করে, অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। তাহলে এই টেলিফোনের সতত্য অথবা ঐ ব্যক্তির পরিচয়ের নিশ্চয়তা এবং প্রতিকার পাওয়ার জন্য তাৎক্ষণিক ভাবে দুদকের পরিচালক (গোয়েন্দা) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী (মোবাইল নং- ০১৭১১-৬৪৪৬৭৫) অথবা উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য (মোবাইল নং-০১৭১৬-৪৬৩২৭৬) এর সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানায় দুদক।

এফএ/এসবি

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও