নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক: সংসদে মেনন

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক: সংসদে মেনন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৫:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৯

নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক: সংসদে মেনন

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অংশ যদি নির্বাচনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, তাহলে রাজনৈতিক দল নির্বাচন কেবল নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায়ও প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলবে। এটা সবার জন্য যেমন, আওয়ামী লীগের জন্যও প্রযোজ্য। এটা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।

বুধবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি।

মেনন বলেন, নির্বাচনকে যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে আনার কাজটি আমাদের করতে হবে। কারণ রোগ এখন উপজেলা নির্বাচন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। পাঁচদফা উপজেলা নির্বাচনে আমাদের দলের অভিজ্ঞতা, এমনকি আওয়ামী লীগ নিজ দলের প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা করুণ। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। বরং তাদের যোগসাজশ রয়েছে। এর ফলে নির্বাচন ও সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে ভোট দেয়ার ব্যাপারে জনগণ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এটা নির্বাচনের জন্য কেবল নয়, গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।

তিনি বলেন, সেই ’৬৩ সাল থেকে ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করেছি। সর্বশেষ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের ভুয়া ভোটার তালিকা আর নীল-নক্সার নির্বাচনের বিরুদ্ধে ১৪ দল অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ও জনগণের ভোট প্রয়োগের আন্দোলনে সফলতা অর্জন করেছিলাম। আবার যেন এই বৃদ্ধ বয়সে সবটাই পুনঃমুষিকভব করতে না হয়।

সরকারের বিদ্যুৎ, মাথাপিছু আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিভার্জে উন্নয়মূলক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা করে তিনি বলেন, আমাদের আর্থিক খাতের দুর্গতি এই পথে কাটা হয়ে রয়েছে। ব্যাংক খাতে লুটপাট, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা কারও অবিদিত নয়। ঋণ খেলাপির দায়ে ব্যাংকগুলো ন্যুব্জ। চলছে তারল্য সংকট। করের টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঘাটতি মূলধন পূরণ করার জন্য বরাদ্দ এবারেও রাখা হয়েছে বাজেটে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীন ভূমিকা দূরে থাক, ব্যাংকগুলোকে কার্যকর নজরদারি করতেও অক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে। নিজের অর্থই তারা সামাল দিতে পারেনি এবং তার কোনো জবাবদিহিতা দেশবাসী পায়নি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক প্রদান, ব্যাংক মালিকদের আবদারে ব্যাংক আইন সংশোধন করে ব্যাংকগুলোকে পারিবারিক মালিকানার হাতে তুলে দেয়া, একই ব্যক্তি একাধিক ব্যাংকের মালিক বনে ব্যাংক খাতকে নিয়ন্ত্রণ করা, ব্যাংক মালিক এসোসিয়েশন কর্তৃক সিআরআর নির্ধারণ করা, এসবই ব্যাংক খাতে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে তারা ব্যাংক ঋণের ওপর সুদের হার এক অংকের ওপর না রাখার বিষয়ে কথা দিয়ে আসলেও তারা সে কথা রাখেনি কেবল, ঔদ্ধত্য ভাবে বলেছে ‘হুকুম দিয়ে সুদের হার ঠিক করা যায় না।’

এইচকে/এসবি

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও