ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন বালিশকাণ্ডের কর্তা: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন বালিশকাণ্ডের কর্তা: প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৭:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০১৯

ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন বালিশকাণ্ডের কর্তা: প্রধানমন্ত্রী

পাবনার রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের ফ্ল্যাটে বালিশসহ আসবাব উঠানোর দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা (মাকসুদুল) বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল করতেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সংসদ অধিবেশনে জাতীয় পার্টির এমপি পীর ফজলুর রহমানের এ-সংক্রান্ত বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি একথা জানান।

সংসদকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট বক্তৃতায় এক সদস্য বালিশতত্ত্ব নিয়ে এসেছেন। রূপুপর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওই ঘটনায় যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তার কিছু পরিচয় আমরা পেয়েছি। তিনি এক সময় নাকি বুয়েটে ছাত্রদলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘বালিশকাণ্ডের পর তাকে সরানো হয়েছে। তথ্য পেয়েই সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। যে দলেরই হোক, দুর্নীতি করলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এদিন প্রধানমন্ত্রী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ছাটাই প্রস্তাবে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী স ম রেজাউল করিমের হয়ে জবাব দেন।

বালিশতত্ত্ব নিয়ে তিনি বিএনপির জন্ম, তাদের নানা কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন, ‘এখানে (বিএনপিতে) এমন এমন লোক রয়ে গেছেন, জন্ম থেকেই তাদের চরিত্রে দুর্নীতি। অবশ্য তার কারণও রয়েছে। এই দলটি যিনি করেছিলেন, সেনাপ্রধান (প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) থাকা অবস্থায় সংবিধান ও সামরিক আইন লঙ্ঘন করে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট খন্দকার মোস্তাকের সঙ্গে তিনি হাত মিলিয়ে জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যায় জড়িত। হত্যার পর খুনিদের ইনডেমনিটি অর্ডারটাকে ভোটারবিহীন পার্লামেন্টে আইন হিসেবে পাস করিয়ে দিয়েছেন তিনি। অস্ত্রের মুখে সায়েম সাহেবকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিলেন। ক্ষমতা দখল করার পর তাদের হাতে যে দল গড়ে উঠে, তাদের চরিত্রটা জানা উচিত। তাদের উৎসটাই হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতিগ্রস্ততার মধ্যে থেকে উঠে আসা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর থেকে দুর্নীতিটাকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করে যারা দীর্ঘদিন রাষ্ট্রপরিচালনা করেছে, তারাই সব জায়গায় এই জঞ্জাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বালিশতত্ত্ব নিয়ে আমারও একটা প্রশ্ন আছে। পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র যেখানে গড়ে উঠছে, সেখানে আর কিছু না পেয়ে কেন বালিশ পেল? এটা কোন বালিশ, কী বালিশ সেটাও একটা প্রশ্ন? এটা কি তুলার বালিশ? কোন তুলা? কার্পাস তুলা না শিমুল তুলা; নাকি সিনথেটিক তুলা। নাকি জুটের তুলা। আর বালিশ নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করতেও দেখলাম। এত মানুষ, এত বালিশ একদিনে কিনে ফেলল কীভাবে? এই বালিশ কেনার টাকার যোগানদারটা আসলে কে? সেটা আর বলতে চাই না।’

সংরক্ষিত আসনের এক এমপির প্রতিবার সংসদ সদস্য হওয়ার পর প্লট পাওয়ার দাবি প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই প্রস্তাবটা শুনে খুব ভাল লাগলো। আমি সাতবারের এমপি। এ পর্যন্ত একবারও প্লট পাইনি। মাত্র একবারই একটি বুলেটপ্রুপ গাড়ি আমার দল কিনে দিয়েছিল। ওটা দিয়েছিল বিধায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম। প্রতিবার নিতে হবে এটা ঠিক নয়।’

বর্তমান সরকার দুর্নীতি করতে ক্ষমতায় আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির অপবাদ দেয়ার চেষ্টা আমার বিরুদ্ধে বহুবার হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট আমার নিজের বিরুদ্ধে দিয়েছিল একডজন মামলা। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা। কিন্তু, একটাও তো প্রমাণ করতে পারেনি। বিশ্ব ব্যাংকও দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল। প্রমাণ করতে পারেনি। আমেরিকার এফবিআই ও স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে শুরু করে পৃথিবীর এমন কোনো সংস্থা নেই যে, তদন্ত না করেছ। কিন্তু, কোনো দুর্নীতি আমার বা আমার পরিবারের বিরুদ্ধে করতে পারেনি। দুর্নীতির কোনো তথ্য না পেয়ে তারা বলতে বাধ্য হয়েছে, সমস্ত অভিযোগ ভুয়া।’

সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি প্রশ্নে সরকারপ্রধান বলেন, ‘দুর্নীতি-জরাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু, সরকারি চাকরিতে একবার ঢুকলে সেখান থেকে আর বের করা যায় না। তবে, দুর্নীতি দমন কমিশন এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে।’

গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির হোসেনের সুশাসন বিষয়ক বক্তব্যের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘উনি যে দল থেকে এসেছেন, তার দলে কী শৃঙ্খলা (ডিসিপ্লিন) আছে, সেটাও আমার প্রশ্ন। যার নিজের দলে সুশাসন নেই, গণতন্ত্র নেই, শৃঙ্খলা নেই। যেখানে কেউ কথা বলতে গেলেই বলা হয় খামোশ। তার থেকে কী আসা করা যায়? সুশাসন আছে বলেই দেশ আর্থ-সামাজিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’

এইচকে/আইএম

 

জাতীয়: আরও পড়ুন

আরও